ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

কখনও বিশ্বাস হারাননি আনচেলত্তি

কখনও বিশ্বাস হারাননি আনচেলত্তি
×

ছবি- এএফপি

নাজমুল হক নোবেল

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ০৯:০০

নকআউটে ব্রাজিলের ইতিহাস খুব বেশি ভালো না। গত ২৪ বছরে তারা নকআউটে প্রথমে গোল খেয়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। সর্বশেষ তারা গোল হজমের পরও ঘুরে দাঁড়িয়ে জিতেছিল ২০০২ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। জাপানের বিপক্ষে হিউস্টনে শেষ ৩২-এর ম্যাচে গোল খেয়ে বসলে আবারও শঙ্কা ঘিরে ধরেছিল তাদের। কিন্তু ব্যতিক্রম ছিলেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। একবারের জন্যও নাকি তিনি বিশ্বাস হারাননি। যার গোলে সমতা ফিরেছে, সেই ক্যাসেমিরো জানিয়েছেন, ধৈর্য নিয়ে মাথা ঠান্ডা রেখে খেলার ফল পেয়েছেন তারা। আর ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে জয়সূচক গোলটি করা গাব্রিয়েল মার্তেনেল্লির নাকি এখনও বিশ্বাসই হচ্ছে না বিষয়টি!

২-১ গোলের জয়ের পর আনচেলত্তি জানান দলের ওপর বিশ্বাস না হারানোর কথা। ব্রাজিল যে গোল করবে, সে বিশ্বাস নাকি তাঁর সব সময়ই ছিল। বিরতির পর কৌশল পাল্টে বক্সের ভেতর বেশি বেশি ক্রস করে ব্রাজিল। তেমনি একটি ক্রসে ৫৬ মিনিটে হেড করে সমতা ফেরান ক্যাসেমিরো। এরপর ৯৫ মিনিটে আসে মার্তেনেল্লির গোল। রোমাঞ্চকর এই জয়কে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন আনচেলত্তি, ‘ম্যাচটি খুবই কঠিন ছিল। জাপানকে হারানো সহজ নয়। তারা গোছানো দল, খেলেও তীব্র গতিতে। এমন একটি ম্যাচ জেতা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’ 

জয় নিয়ে তাদের মাঝে সন্দেহ ছিল না বলেও জানান তিনি, ‘দ্বিতীয়ার্ধে দল খুবই ভালো খেলেছে। দলের মধ্যে এমন কেউ ছিল না যে বিশ্বাস করত যে আমরা গোল বের করতে পারব না।’ রিয়াল মাদ্রিদে কোচিং করানোর সময় এমন ম্যাচ প্রচুর জিতেছেন তিনি। সে অভিজ্ঞতা থেকেই বিরতির সময় দলকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি, ‘বিরতির সময় আমি ছেলেদের বলেছিলাম, কোনোভাবেই ধৈর্য হারানো যাবে না। কারণ গোল আমরা পাবই, সেটা দ্রুত হোক কিংবা ম্যাচের শেষ দিকে।’

এমন কষ্টে জেতা ম্যাচে নেইমারকে মাঠে না নামানোর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ইতালিয়ান এ কোচ, ‘অতিরিক্ত সময়ে নেইমারকে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা ছিল। ওর সঙ্গে এ নিয়ে কথাও হয়েছিল। আমরা সমতায় ফিরতে না পারলে ৬০ বা ৬৫ মিনিটের দিকে তাকে নামানো হতো। কিন্তু গোল শোধ করে ফেলায় কৌশলে পরিবর্তন আনতে চাইনি। কারণ, তখন ম্যাচ আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।’

 ধৈর্য না হারানোকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন ক্যাসেমিরোও, ‘জয়টা আসলে শান্ত থেকে ধৈর্য নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর চাপিয়ে খেলার ফসল। এই বিশ্বাসে যে, শান্ত থাকলে এমন এক সময় আসবে যখন আমরা গোল করতে পারব।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘পুরো ম্যাচে আমরা লড়াই করেছি এবং বলের দখল আমাদেরই বেশি ছিল। কাজেই আমরা জানতাম সুযোগ আসবেই। ৩৪ বছর বয়সী এ মিডফিল্ডার আরও যোগ করেন, ‘জাপানের রক্ষণ খুবই সুশৃঙ্খল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আমরা সত্যিকার অর্থেই বেশ ভালো খেলেছি, যে কারণে ম্যাচটি জিতেছি।’ 

শেষ ষোলোর ম্যাচের দিকে এখন তাকিয়ে তারা। তবে আপাতত বিশ্রাম প্রয়োজন। এ ম্যাচে আবার লুকাস পাকেতা ও ক্যাসেমিরো চোট পেয়েছেন। দুজনকেই ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন কোচ। তাদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই বলেও জানিয়েছেন কোচ। এজন্য অপেক্ষা করতে হবে।

আরও পড়ুন

×