ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

ইকুয়েডরকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে মেক্সিকো

ইকুয়েডরকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে মেক্সিকো
×

ছবি- এএফপি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ১০:১২ | আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ | ১০:১৭

প্রবল বৃষ্টি আর বজ্রঝড়ের কারণে ম্যাচ শুরু হতে দেরি হয়েছিল ১ ঘণ্টা। তবে প্রকৃতির সেই বৈরী আবহাওয়া এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে থাকা হাজার হাজার মেক্সিকান সমর্থকের উন্মাদনায় বিন্দুমাত্র ভাটা ফেলতে পারেনি। ঘরের মাঠের সেই গগনবিদারি গর্জনে ভর করেই ইতিহাস গড়ল মেক্সিকো। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজকরা। এতে দীর্ঘ ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচ জেতার স্বাদ পেল মেক্সিকানরা। এর আগে সর্বশেষ ১৯৮৬ বিশ্বকাপে নকআউট ম্যাচ জিতেছিল তারা।

ম্যাচের শুরুতে অবশ্য মেক্সিকোকে কিছুটা চেপে ধরার চেষ্টা করেছিল ইকুয়েডর। ১৫ মিনিটে কর্নার কিকের সময় বক্সের ভেতর ধাক্কাধাক্কি নিয়ে কড়া অবস্থান নেন রেফারি এবং ইকুয়েডরের অ্যালান ফ্রাঙ্কোকে সতর্ক করেন। কর্নার থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে মোরার বাঁকানো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর ১৮ মিনিটে গনজালো প্লাতার দুর্দান্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ম্যাচের সবচেয়ে বড় সুযোগটি পায় ইকুয়েডর। তার পাস থেকে জন ইয়েবোয়া বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের জোরালো শট নিলেও তা পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

সেই ধাক্কা সামলে ২২ মিনিটেই পাল্টা আক্রমণে লিড নেয় মেক্সিকো। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ইকুয়েডরের রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে নিখুঁত ফিনিশে বল জালে জড়ান হুলিয়ান কিনিয়োনেস। ১-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে মেক্সিকো।

ম্যাচের ৩১ মিনিটে আজতেকা স্টেডিয়ামকে দ্বিতীয়বারের মতো উল্লাসে ভাসান অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল হিমিনেজ। ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার অর্ডোনজের একটি ভুল ক্লিয়ারেন্স সরাসরি চলে আসে হিমিনেজের পায়ে। তিনি সতীর্থ কিনিয়োনেসের সঙ্গে দারুণ এক ওয়ান-টু পাস খেলে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের চোখধাঁধানো জোরালো শটে বল জড়ান জালের ওপরের কোণে। মেক্সিকো এগিয়ে যায় ২-০ ব্যবধানে।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধে মরিয়া হয়ে লড়ে ইকুয়েডর। তবে মেক্সিকোর জমাট রক্ষণের সামনে বারবার খেই হারায় ল্যাটিন আমেরিকার দলটি। খেলার একদম শেষ মুহূর্তে ইকুয়েডরের হতাশা আরও বাড়িয়ে দেন ডিফেন্ডার পিয়েরো হিনকাপিয়ে। ম্যাচের ১০ মিনিটের অতিরিক্ত সময় চলাকালীন প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে জড়ান তিনি। এ সময় ক্যামেরার চোখ ও রেফারির চোখ এড়াতে হাত দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে কিছু একটা আপত্তিকর মন্তব্য করেন হিনকাপিয়ে। রেফারি বিষয়টি লক্ষ্য করে সাথে সাথেই তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠছাড়া করেন। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া ইকুয়েডরের ম্যাচ জয়ের সব আশাই সেখানেই শেষ হয়ে যায়।

রেফারির শেষ বাঁশির সাথে সাথেই ৪০ বছরের খরা কাটানোর আনন্দে মেতে ওঠে পুরো মেক্সিকো শিবির। ঘরের মাঠে এই দাপুটে পারফরম্যান্সের পর কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এবার মেক্সিকোর সামনে আরও বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।

আরও পড়ুন

×