ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

জার্মানির বাতিল হওয়া গোলটি কি বৈধ ছিল?

জার্মানির বাতিল হওয়া গোলটি কি বৈধ ছিল?
×

আহসান হাবিব সম্রাট

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ১১:২৮ | আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ | ১১:২৮

বিশ্বকাপে জার্মানি ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার নকআউট পর্বের ম্যাচে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে জার্মানির জোনাথন তাহর গোলটি বাতিল করায় অনেকেই ভিএআরের সমালোচনা করেছেন। শেষ ষোলোতে ওঠার ওই লড়াইয়ে জার্মানি টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়। জার্মানির ভক্ত-সমর্থকদের মতে, তাহর গোলটি বাতিলের সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।

জার্মানি ও প্যারাগুয়ের লড়াই নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ১-১ এ সমতায় ছিল। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের ১২তম মিনিটে কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে দুর্দান্ত হেডে জার্মানিকে এগিয়ে দেন সেন্টার ব্যাক জোনাথন তাহ। মাঠের রেফারি জালাল জায়েদ প্রথমে গোলের স্বীকৃতি দেন। জার্মান খেলোয়াড়রা উল্লাসও শুরু করে দিয়েছিলেন। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিএআর কক্ষ থেকে রেফারিকে গোলটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, তাহ হেড করার আগে জার্মানির ডিফেন্ডার ওয়ালডেমার অ্যান্টন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলকে ধাক্কা দিয়েছেন। সেই ঘটনাকে ফাউল হিসেবে বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত গোল বাতিল করেন রেফারি।

সিদ্ধান্তটি মেনে নিতে পারেননি জার্মানির খেলোয়াড়েরা। মাঠেই প্রতিবাদ জানান জোসুয়া কিমিখসহ কয়েকজন ফুটবলার। সাইডলাইনে জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসমানও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে রেফারি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন এবং খেলা আবার শুরু হয়।

ম্যাচ শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করে জার্মান কোচ বলেন, ‘অবশ্যই বলতে পারেন, প্যারাগুয়ের রক্ষণ আমাদের অন্যভাবে ভাঙা উচিত ছিল। কিন্তু ওই গোলটি বৈধ ছিল। এটা বাতিল করা পুরোপুরি একটা তামাশা ছিল।’

অনেক সাবেক খেলোয়াড় ও বিশ্লেষকের মতে, গোলরক্ষকের সঙ্গে হওয়া প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সংস্পর্শটি ছিল খুবই স্বাভাবিক এবং সেটিকে ফাউল হিসেবে ধরা উচিত ছিল না। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার রেফারির সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘ফুটবল এমনিতেই শারীরিক সংস্পর্শের খেলা। পেনাল্টি বক্সে এত খেলোয়াড়ের ভিড়ে সামান্য ধাক্কাধাক্কি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।’

একই ধরনের মত দিয়েছেন বিশ্বকাপের সাবেক সহকারী রেফারি ড্যারেন কানও। তাঁর মতে, ‘ঘটনাটি খুবই হালকা সংস্পর্শ ছিল এবং চাইলে রেফারি সেটিকে উপেক্ষা করতে পারতেন।’

জার্মানির কোচিং কিংবদন্তি ইয়ুর্গেন ক্লপ ভিএআরের গোল বাতিলের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, এমন পরিস্থিতি থেকে ২০২৫-২৬ মৌসুমে ইংলিশ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল অসংখ্য গোল করেছে, ‘যদি এই গোলটি অবৈধ হয়, তাহলে আর্সেনাল কখনও ইংল্যান্ডের চ্যাম্পিয়ন হতে পারত না। তারা প্রায় ৬০ শতাংশ গোলই এমন পরিস্থিতি থেকে করেছে। তাই এই সিদ্ধান্ত সত্যিই খুব কঠোর।’

আরও পড়ুন

×