বিশ্বকাপে অন্যরকম ‘ফুটবল সংগীত’
আহসান হাবিব সম্রাট
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬ | ১০:৩৮
বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্র দল ও সমর্থকদের একসূত্রে গেঁথেছে পাঁচ দশকের পুরোনো কান্ট্রি ও ফোক ঘরানার সংগীত ‘টেক মি হোম, কান্ট্রি রোডস’। প্রয়াত সংগীতশিল্পী জন ডেনভারের গাওয়া এই গান এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যে অনানুষ্ঠানিকভাবে এটি এখন দ্য ইয়াংকস দলের ‘ফুটবল সংগীত’ হয়ে উঠেছে। সিয়াটল স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে প্রথমবারের মতো গানটি লাউড স্পিকারে বাজানোর সঙ্গেই সেটি লুফে নেন মার্কিন ফুটবলভক্তরা। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি ম্যাচে নিয়মিত সেটি বাজানো হচ্ছে। এ গানে দলের ফুটবলার ও সমর্থকদের সঙ্গে গলা মেলাচ্ছেন কোচও।
গানটি বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচ বাদে অন্যান্য দলের ম্যাচেও বাজাতে শুরু করেছেন বিশ্বকাপ আয়োজকরা। বিশেষ করে ম্যাচের ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ চলাকালে। গ্যালারির দর্শকরা পানি পানের বিরতিকালে আগে ‘দুয়ো ধ্বনি’ দিলেও এখন বিপুল হর্ষধ্বনির সঙ্গে ‘কান্ট্রি রোডস’ গানের সঙ্গে গলা মেলাচ্ছেন। গানটি সব শ্রেণির দর্শকদের থেকে এতটাই গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে যে ২০১০ সালে আফ্রিকা বিশ্বকাপে বিশ্বখ্যাত পপ তারকা শাকিরার গাওয়া ‘ওয়াকা ওয়াকা’ গানের জনপ্রিয়তার সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে।
বিশ্বকাপে যেভাবে ‘কান্ট্রি রোডস’
ফিফা টুর্নামেন্টের প্রতিটি দলের কাছে অনুশীলন চলাকালীন, গোল উদযাপনের এবং জয় উদযাপনের জন্য সম্ভাব্য গানের তালিকা চেয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র সকার (ফুটবল ফেডারেশন) সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচে স্টেডিয়ামের লাউড স্পিকারে কোন কোন গান বাজানো হবে, সে ব্যাপারে খেলোয়াড় ও ফেডারেশন কর্মকর্তাদের কাছে মতামত চাওয়া হয়েছিল। তালিকায় থাকা গানগুলো যেন মার্কিন গায়কদের এবং গ্যালারির দর্শকদের কাছে সমাদৃত হয়, সে ব্যাপারে বিশেষ নজর ছিল। এই তালিকায় থাকা অন্যান্য গানের মধ্যে ছিল বন জোভির গাওয়া ‘লিভিং অন আ প্রেয়ার’, নেইল ডায়মন্ডসের ‘সুইট ক্যারোলিন’ ও ‘টেক মি হোম, কান্ট্রি রোডস’।
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ৪-১ গোলের জয়ে ম্যাচে স্টেডিয়ামের লাউড স্পিকারে গানটি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গেই জন ডেনভারের সুর-সংগীতে বুঁদ হয়ে পড়েন গ্যালারির দর্শকরা। আনন্দে মাতোয়ারা দর্শকদের জন্য এটি ছিল ‘কেকে আইস’ দেওয়ার মতো বিষয়। তারা গানের গলায় সুর মেলানোর পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হাততালি দেওয়া শুরু করেন। পরের ম্যাচগুলোতে এই গানটি যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল দলের সমার্থক হয়ে উঠতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল দলের অধিনায়ক টিম রিম বলেন, খেলোয়াড়দের সবাইকে আনন্দ করতে আর গানের সঙ্গে গলা মেলাতে দেখাটা... এমন একটি মুহূর্ত যখন ওপরের দিকে তাকিয়ে নিজের মনেই প্রশ্ন জাগে, ‘এটা কি বাস্তবেই ঘটছে?’ দলের মিডফিল্ডার সেবাস্টিয়ান বারহাল্টার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন বলেন, ‘স্টেডিয়ামের পরিবেশটা ছিল অবিশ্বাস্য। দর্শকদের স্লোগান, উত্তেজনা আর উদ্দীপনা— ম্যাচজুড়েই আমরা তা অনুভব করেছি... তাদের কান্ট্রি রোডস গানটি গাওয়া ছিল সত্যিই বিশেষ এক ব্যাপার।’
‘ফুটবল সংগীত’ আছে ইংল্যান্ডেরও
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মতো ইংল্যান্ড খেলোয়াড়-সমর্থকরাও নিজস্ব সংগীতে মাতোয়ারা হচ্ছেন। এবারের বিশ্বকাপে থ্রি লায়ন দলের অনানুষ্ঠানিক ফুটবল সংগীত হচ্ছে বিখ্যাত ইংলিশ রক ব্যান্ড ওয়েসিসের ‘ওয়ান্ডারওয়াল’ গানটি। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলে জয়ের পর ইংল্যান্ড ফুটবলাররা প্রত্যেকের কাঁধে হাত রেখে সম্মিলিতভাবে ১৯৯৫ সালের হিট গানটি গাইতে থাকেন। পরে ইংল্যান্ড ফুটবল অধিনায়ক হ্যারি কেইন জানান, ‘ইংল্যান্ডের জার্সিতে এই মুহূর্তটা তাঁর কাছে অন্যতম প্রিয় মুহূর্ত ছিল।’ এরপর থেকে টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচ শেষেই ইংল্যান্ড খেলোয়াড়রা গানটি গাইছেন।
এদিকে বিশ্বকাপে কান্ট্রি রোডস বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়ায় খুশি গানটির সহরচয়িতা বিল ড্যানোফ। এপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল দল এ গানটি বেছে নেওয়ায় তিনি সম্মানিত বোধ করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ফুটবলের ভক্ত বনে যাওয়া ড্যানোফ বসনিয়ার বিপক্ষে ১০ জনের দল নিয়েও মার্কিন দলের জয় এবং কান্ট্রি রোডস গান গেয়ে খেলোয়াড়-সমর্থকদের জয় উদযাপন করতে দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ভাবছি, ইস, জন (ডেনভার) যদি এখনও বেঁচে থাকত।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত ফোক গায়ক, সংগীত রচয়িতা ও অভিনেতা জন ডেনভার ১৯৯৭ সালে এক বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান।
- বিষয় :
- ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬
- যুক্তরাষ্ট্র
- ইংল্যান্ড
