ঢাকা রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

ফারাওদের রূপকথার অভিযাত্রা চলছেই

ফারাওদের রূপকথার অভিযাত্রা চলছেই
×

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৫৬

আরব্য রজনীর রূপকথার গল্পের মতোই বিশ্বকাপে এগিয়ে চলেছে মিসর। বিশ্বকাপে তারা প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে এবার। এরপর গ্রুপ পর্বের বাধাও পার হয়েছে প্রথমবারের মতো। সবচেয়ে বড় ইতিহাসটা গড়েছে শুক্রবার রাতে নকআউটে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে। টাইব্রেকারে সেই জয়ের পর সতীর্থরা ‘ফারাও রাজা’ মোহামেদ সালাহকে কাঁধে তুলে নেচেছেন। বাস থেকে নেমে হোটেলের সামনে তাদের সেই নাচের সময় সমর্থকরাও যোগ দেন। ডালাস যেন হয়ে উঠেছিল কায়রো। গোলরক্ষক মুস্তাফা সৌবীর ও ফরোয়ার্ড হাইসেম হাসান ফিফার সঙ্গে আলোচনায় জানিয়েছেন, দেশ থেকে খবর এসেছে মিসরজুড়ে চলছে আনন্দের বন্যা।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে ড্র ছিল। অতিরিক্ত সময়েও কোনো দল গোল করতে না পারলে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৪-২ ব্যবধানে জয় পায় মিসর। টাইব্রেকারে মিসরের যে চারজন শট নিয়েছেন, তাদের প্রত্যেকে গোল করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার একজন বারের ওপর দিয়ে মারলে ও আরেকজনের শট পোস্টে লাগলে মিসরের আর পঞ্চম শট নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। মিসরের চারজনই দারুণ শট নিয়েছেন। তবে মোহামেদ সালাহ পানেনকার জাদুতে মুগ্ধ করেন সবাইকে। অথচ এ ম্যাচে তাঁর মাঠে নামারই কথা ছিল না। সব গুঞ্জন উড়িয়ে তিনি মাঠে নামলেও বোঝা যাচ্ছিল যে তিনি পুরোপুরি ফিট নন। হ্যামস্ট্রিংয়ের যন্ত্রণা যে তাঁকে বেশ ভোগাচ্ছে, সেটা পরিষ্কারই বোঝা যাচ্ছিল। ৩৪ বছর বয়সী এ তারকা এই যন্ত্রণা নিয়েই ১২০ মিনিট খেলেছেন।

শুরুতে কিছুটা নিষ্প্রভ থাকলেও অতিরিক্ত সময়ে বেশ কয়েকবার প্রতিপক্ষের সীমানায় ভীতি ছড়িয়েছেন সদ্য সাবেক এ লিভারপুল তারকা। সালাহ জানিয়েছেন, শরীরের অবস্থা যেমনই হোক দেশের প্রয়োজনে সর্বদা হাজির তিনি। হয়তো এসব কারণেই জয়ের পর আনন্দাশ্রু গড়িয়ে পড়ে সালাহর চোখ থেকে। পুরোপুরি ফিট না থাকা সত্ত্বেও মাঠে নামা নিয়ে সালাহ বলেন, ‘যদি কাউকে (চোট নিয়ে) নামতে হয়, তাহলে সেটা অবশ্যই আমি হওয়া উচিত। কারণ, আমি অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি অভিজ্ঞ এবং দলের সবার ভেতর আমি আত্মবিশ্বাস দিতে চেয়েছিলাম। একেবারে শেষ মিনিটে আমি সিদ্ধান্তটা নিয়েছি যে আমাকে এ ম্যাচ খেলতেই হবে।’ বিশ্বমঞ্চে মিসরের সেরা সাফল্যটাকে প্রাণভরে উদযাপন করতে সতীর্থদের উৎসাহ দিয়েছেন সালাহ। এটা তাঁর শেষ বিশ্বকাপও, ‘আমি প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগের চেষ্টা করছি। কারণ এটা আর ফিরে আসবে না। আমি সর্বদা ছেলেদের উপভোগ করতে বলি। আজ রাতে বাসের বাইরে আমরা কীভাবে নেচেগেয়ে উদযাপন করেছি, সেটা সবাই দেখেছে।’

ফরোয়ার্ড হাসান জানিয়েছেন দেশে উদযাপনের খবর। ফিফার সঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা দুর্দান্ত অনুভূতি। মিসরের লোকসংখ্যা ১২ কোটি। আজ আমরা সবাইকে খুশি করতে পেরেছি। দেশের সবার মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি। সারা দেশ আজ এ বিজয় উদযাপন করছে। দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে কার না ভালো লাগে!’ ২৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড আরও বলেন, ‘এ বিজয় আমরা পুরো দল মনভরে উপভোগ করেছি। লকাররুমে উদযাপনের পর হোটেলের সামনে বাস থেকে নেমে দেখি আমাদের জন্য মিসরের মানুষ অপেক্ষা করছে। তাদের সঙ্গেও উদযাপন করেছি।’ শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই উদযাপন শেষ করে শিগগিরই আর্জেন্টিনা ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন গোলরক্ষক মুস্তাফা সৌবীর।    

আরও পড়ুন

×