ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

মেসিদের অপেক্ষায় কানসাস

মেসিদের অপেক্ষায় কানসাস
×

সেকান্দার আলী

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ১০:২৮

জাদুকরের সম্মোহন দর্শককে নিয়ে যায় এক ঘোরলাগা বিস্ময়ের জগতে। লিওনেল মেসি ফুটবলে তেমনই এক জাদুকর, যাঁর বাঁ পায়ের জাদুতে বিভোর হন কোটি কোটি সমর্থক। কখনও কখনও প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ও আক্রান্ত হন ভালো লাগার আবেশে। লিওনেল মেসির বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে নেমে মিসরের খেলোয়াড়রা মহাতারকাকে সমীহর জায়গায় রেখে খেললে কেটে যেতে পারে লড়াইয়ের সুর। আর একবার তাল কেটে গেলে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো মেসিও মিসরকে টেনে নিয়ে যাবেন পরাজয়ের অন্ধকার কুঠুরিতে। কেটে নেবেন কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট।

এই বিশ্বকাপ এখনও মেসিময়। প্রথম ম্যাচ থেকে গোল উৎসব করছেন। বাকিরা ছুটছেন তাঁর পিছু পিছু। কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড, হ্যারি কেইনরাও তো সেরা মানেন মেসিকে। একই উত্তর পাবেন মিসরের মোহামেদ সালাহর কাছ থেকেও। এই কিংবদন্তিকে সামনে রেখেই বিশ্বকাপ খেলছে আর্জেন্টিনা। তাই দুই দলের পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন মেসি। তবে ম্যাচের আগে জমে উঠেছে কথার লড়াই। মিসরের সহকারী কোচ ব্রাহিম হাসান টিভি চ্যানেল সাদ আল বালাদকে এক সাক্ষাৎকারে শেষ ষোলোর ম্যাচে মেসির প্রভাব নিয়ে বলেন, ‘তাদের মেসি আছে, আমাদের আছে মোহামেদ সালাহ আর ২৬ জন মেসি। আশা করি, আল্লাহ আমাদের পুরস্কৃত করবেন।’

এই নিউজ প্রচার হওয়ার পরই দাবানলের মতো তা ছড়িয়ে পড়ে আর্জেন্টাইন মিডিয়ায়। ব্রাহিমের বক্তব্যকে ঔদ্ধত্য হিসেবে দেখা হচ্ছে দেশটিতে। তাদের স্পোর্টস পোর্টাল টিওয়াইসি শিরোনামও করেছে সেভাবে। বিতর্ক উস্কে মেসিদের তাতিয়ে দেওয়াই উদ্দেশ্য। আর্জেন্টাইন অধিনায়কের দিকে মনোযোগ না দেওয়ার ওপর জোর দেন মিসরের ওই কোচ, ‘আমরা মেসিকে দেখি না; আমরা খেলোয়াড়দের বলি, প্রতিপক্ষের দিকে মনোযোগ না দিয়ে মাঠে নেমে খেলতে।’ কোচ ব্রাহিমের মতে, ‘আমরা মিসর জাতীয় দলের ওপর মনোনিবেশ করেছি। আমরা প্রতিটি ম্যাচে লড়াই করতে নামি; প্রতিপক্ষ মেসি বা অন্য যেই হোক। প্রথম দিন থেকেই আমরা খেলোয়াড়দের বলেছি, ব্যাপারটা শুধু অংশগ্রহণ করা নয়; আমাদের লক্ষ্য হলো টুর্নামেন্টে যতটা সম্ভব এগিয়ে যাওয়া।’

মেসিরা ভালো করেই জানেন, মিসরের কোচের এসব বলার অর্থ হলো খেলোয়াড়দের ওপর থেকে চাপ কমাতে চেষ্টা করা। আসলে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ম্যাচ খেলাটাই এক ধরনের মানসিক চাপ। সেখানে মেসির মতো ফুটবলের জাদুকরকে মোকাবিলা করা আরও কঠিন। এই কিংবদন্তির পায়ের কাছেই তো লুটিয়েছে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্ডান, কেপ ভার্দে। হ্যাঁ, শেষ ষোলোয় উন্নীত হওয়ার ম্যাচে কেপ ভার্দে কিছুটা পরীক্ষা নিয়েছে লাউতারো মার্তিনেজদের। তারা জিতেছেন মূলত অভিজ্ঞতার জোড়ে। মোহামেদ সালাহর মিসরও চেষ্টা করবে শেষ ষোলোয় বাজিমাত করে কোয়ার্টারে উন্নীত হওয়ার। শেষ ৩২-এ টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে এসেছে তারা। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষেও সে আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে জয়ের ফুল ফোটাতে চাইবে নীল নদের দেশটি। আর্জেন্টিনার সাবেক স্ট্রাইকার সার্জিও আগুয়েরোর সতর্কবার্তা, ‘অনেক খেলোয়াড় ক্র্যাম্পে ভুগছিল। এখন আবার মিসরের বিপক্ষে খেলা, যারা শারীরিকভাবে খুবই শক্তিশালী। আমার মনে হয়, কেপ ভার্দের চেয়ে তাদের আক্রমণভাগে কিছুটা বেশি মানসম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে।’ মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস প্রতিপক্ষকে সমীহর চোখে দেখছেন, ‘খুব কঠিন একটি ম্যাচ হবে। আমরা ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে আছি। আর সব জাতীয় দলই খুব ভালো ও শারীরিক দিক থেকে শক্তিশালী।’

কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচটি গরম আবহাওয়ায় খেলতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। এ কারণে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন হুলিয়ান আলভারেজরা। আটলান্টায় আবহাওয়া সমস্যায় ভুগতে হবে না। খেলা হবে আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে। এই স্টেডিয়াম আবার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। তাই বাইরের ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বোঝাই যাবে না ভেতর থেকে। সমস্যা যেটুকু হতে পারে একে অপরের সঙ্গে ম্যাচ না খেলা। একবারই তো দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল, ২০০৮ সালে প্রীতি ম্যাচে। আর্জেন্টিনা জিতেছিল ২-০ গোলে। তবে শেষ কথা হলো, বাঁ পায়ের ধোঁকায় জাদুকর এঁকে দিতে পারেন বাস্তবের ক্যানভাসে জয়ের ছবি। কারণ, তাদের জন্য অপেক্ষায় আছে কোয়ার্টার ফাইনালের ভেন্যু কানসাস সিটি।   

আরও পড়ুন

×