ন্যাটোতে ফুটবল ‘নিষিদ্ধ’
আহসান হাবিব সম্রাট
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৫৯
ন্যাটো জোটের দেশগুলোর সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরেই সম্পর্কটা ভালো যাচ্ছে না জোটটির সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। প্রতিরক্ষা বাজেট, গ্রিনল্যান্ড ও ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন না দেওয়ায় ন্যাটো নেতাদের ওপর চটে আছেন ট্রাম্প। এসব ইস্যুর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র দলের খেলোয়াড়দের লাল কার্ডের শাস্তি স্থগিতে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের বিষয়টি। যে ইস্যুতে ইউরোপিয়ান দেশগুলো ক্ষুব্ধ হয়, বিশেষ করে ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্র বেলজিয়াম। এদিকে, ফিফা থেকে অযাচিত সুবিধা আদায় করেও যুক্তরাষ্ট্র টুর্নামেন্টে থেকে বিদায় নেওয়ায় বাজে মেজাজে আছেন ট্রাম্প। যে কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দূরত্ব না বাড়ানো ও রোষানলে পড়া থেকে বাঁচতে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে ফুটবলীয় আলাপে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
দুদিনব্যাপী ন্যাটোর ৩৬তম শীর্ষ সম্মেলনটি গতকাল বুধবার ও আগের দিন তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে ট্রাম্পের পাশাপাশি বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভারও অংশ নেন। সম্মেলনে অংশ নেওয়া ন্যাটোর ইউরোপীয় নেতাদের আগেই সতর্ক করা হয়, তারা যেন বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কোনো খোঁচা না দেন। কারণ, এতে ন্যাটোর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্ষিপ্ত হয়ে ন্যাটোর ওপর চড়াও হতে পারেন।
যুক্তরাজ্যের খ্যাতনামা সংবাদপত্র ডেইলি মেইল জানিয়েছে, ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতারা ট্রাম্পকে না চটাতে বেশ সতর্ক ছিলেন। সম্মেলনে নানা ইস্যুতে তারা সাবধানে পদক্ষেপ নেন। কারণ, তাদের কাছে আগেই বার্তা গিয়েছিল যে বেলজিয়ামের কাছে হেরে যুক্তরাষ্ট্র দল বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার পর থেকে বেশ খারাপ মেজাজে আছেন ট্রাম্প।
সংশ্লিষ্ট একটি কূটনৈতিক সূত্র ডেইলি মেইলকে জানায়, সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তারা ফুটবল নিয়ে কোনো কথা বলবেন না। এ বিষয়ে ট্রাম্পের মেজাজের বিষয়টি অনুমান করে সবাই চাইছে তাঁকে আর নতুন করে ক্ষুব্ধ না করে সম্মেলনটি শেষ করতে।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র দলের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান ‘রেড কার্ড’ পান। ওই কার্ডের কারণে বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় বালোগানকে ছাড়াই মাঠে নামতে হতো যুক্তরাষ্ট্রকে। কিন্তু লাল কার্ডের শাস্তি স্থগিতে ফিফায় হস্তক্ষেপ করে ট্রাম্প এই সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। ফিফা বালোগানের লাল কার্ড-সংশ্লিষ্ট শাস্তি স্থগিত করায় টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিতে এই মার্কিন স্ট্রাইকারের খেলার পথ সুগম হয়। এত কিছুর পরও বেলজিয়ামের কাছে যুক্তরাষ্ট্র দল ৪-১ ব্যবধানে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় এবং বালোগানও গোল করতে ব্যর্থ হন। ম্যাচের পর বেলজিয়ামের উল্লসিত খেলোয়াড়রা ড্রেসিংরুমে ট্রাম্পের সেই পরিচিত নাচের ভঙ্গি অনুকরণ করে উপহাস করার ভিডিও প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ইউরোপীয় দলটি ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিল, ‘এটা উল্টে দেখান তো।’
বেলজিয়ামে এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চললেও দেশটির প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে এ নিয়ে কোনো কথা হয়নি তাঁর। তিনি জানান, ট্রাম্পের এমন একটি ভাবমূর্তি রয়েছে যে তাঁর পছন্দ নয় এমন বিষয়ে মাঝেমধ্যে তিনি কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন। আমার মনে হয়, (বিশ্বকাপে) বেলজিয়ামের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের বিষয়টি তাঁকে বড় ধাক্কা দেবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ফুটবল নিয়ে কোনো কথা বলিনি। আমাদের আলোচনার জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ফুটবলকে বলা হয় ‘অগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’। কিন্তু দিনশেষে এটি অগুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, তাই আমি বিষয়টি উত্থাপন করিনি। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র এবং ভবিষ্যতেও তাই থাকবে। তারা আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। আর বর্তমান প্রেসিডেন্ট এই জোটের বিষয়ে মাঝেমধ্যে কঠোর সমালোচনা করলেও সেই সম্পর্কের কোনো পরিবর্তন হবে না।’
- বিষয় :
- ন্যাটো
- বিশ্বকাপ ফুটবল