ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

লড়াইটা কেইন-হালান্ডেরও

লড়াইটা কেইন-হালান্ডেরও
×

নাজমুল হক নোবেল

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ১৪:২১

ইংল্যান্ডের ঘরের শত্রু বিভীষণ বলা যায় আর্লিং হালান্ডকে। নরওয়ের এই স্ট্রাইকারের জন্ম ইংল্যান্ডে, খেলেনও ম্যানচেস্টার সিটিতে, সেই সুবাদে ইংল্যান্ডের আলো-বাতাসেই বেঁচে আছেন। আজ মায়ামিতে সেই ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ ইংল্যান্ডকে হারাতে নামবেন তিনি। এবারের আসরে ৭ গোল করা এ তারকাই ইংল্যান্ডের প্রধান হুমকি। হালান্ডকে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার মতো অস্ত্র ইংল্যান্ডেরও আছে। ৬ গোল করা হ্যারি কেইন আজ ইংল্যান্ডের ভরসা। বায়ার্ন মিউনিখের এ স্ট্রাইকার আছেন ক্যারিয়ারের সেরা ছন্দে। ইংলিশ উইঙ্গার মর্গান রজার্সের বিশ্বাস, মায়ামির কোয়ার্টার ফাইনালে কেইনের কাছে ম্লান হয়ে যাবেন হালান্ড। বিশ্বের অন্যতম সেরা এ দুই স্ট্রাইকারের লড়াই বেশ জমবে বলেই পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে।

তাই বলে হালান্ডের প্রতি সমীহ দেখাতে কার্পণ্য করেনি অ্যাস্টন ভিলা ফরোয়ার্ড রজার্স। নরওয়ের এই তারকাকে থামানো অসম্ভব বলেই মানছেন তিনি। কানসাসে ইংল্যান্ডের বেস ক্যাম্পে ২৩ বছর বয়সী রজার্স বলেন, ‘কেউ কী কখনও আর্লিং হালান্ডকে থামাতে পেরেছে? আমি নিশ্চিত নই। তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। তিনি অবিশ্বাস্য রকমের ভালো খেলেন। মাঠে তিনি যা করেন, তা এতটা দুর্দান্ত যে আপনি মুগ্ধ হয়ে যাবেন।’ ব্রাজিলের বিপক্ষে যেভাবে তিনি দুই গোল করেছেন, তাতেই বোঝা যায় কেমন উড়ন্ত ছন্দে আছেন। হালান্ড যে কেমন বিধ্বংসী ফর্মে আছেন, সেটা বোঝার জন্য একটি সমীকরণই যথেষ্ট। নরওয়ের হয়ে গত ১৪ ম্যাচেই টানা গোল করেছেন, ওই ১৪ ম্যাচে তাঁর মোট গোলসংখ্যা ২৭টি। ইংল্যান্ডের রক্ষণকেও তিনি আজ যথেষ্ট ভোগাবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে আবার ইংল্যান্ডের সেন্টারব্যাক মার্ক গেহি চোটের কারণে আজ খেলতে পারবেন না। রাইটব্যাক রিসে জেমসের খেলা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।

এবার বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে ৮টি করে গোল করে শীর্ষে আছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাদের পেছনেই আছেন হালান্ড ও কেইন। তবে রজার্সের বিশ্বাস, কেইন ঠিকই হালান্ডকে টপকে যাবেন। এমনকি এবারের আসরের সেরা স্কোরার হতে পারেন কেইন, ‘তারা দুজনই এবারের বিশ্বকাপে সেরা ছন্দে আছেন। দুজনেই বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। তাদের এ লড়াইটা দর্শকদের জন্য দারুণ উপভোগের বিষয়।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার আশা হ্যারি (কেইন) এবার এগিয়ে যাবে। আমি নিশ্চিত, তিনি এগিয়ে যাবেনই। তাঁর ওপর আমাদের সেই আস্থা রয়েছে। সম্ভবত তিনি তাঁর জীবনের সেরা খেলাটা খেলছেন এখন। অবশ্য এটা বলাও এক ধরনের পাগলামি। কারণ গত বেশ কয়েক বছর ধরেই তিনি এমন দুর্দান্ত খেলছেন।’

এ দুজনকে দেখলে মনেই হয় না যে গোল করা একটি ভীষণ কঠিন কাজ। তাদের কাছে এটা ডালভাতের মতো প্রাত্যহিক কাজ। সময়ের সেরা দুই স্ট্রাইকারের উত্থানের গল্পটা কিন্তু ভিন্ন। ছোটবেলায় হালান্ডের প্রতিভার খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০২২ সালে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়ে এক বছর পরই ট্রেবল জিতে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেন। আর হ্যারি কেইন ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল (এর মাঝে ধারে চার ক্লাবে খেলেছিলেন) পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে গোল করেও শিরোপার দেখা না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত শিরোপার দেখা পেতে ২০২৩ সালে বায়ার্ন মিউনিখে পাড়ি জমান। জার্মানিতে যাওয়ার পরই কেইনের ক্যারিয়ার নতুন উচ্চতায় গেছে। বায়ার্নের হয়ে টানা দুই মৌসুম বুন্দেসলিগা জিতেছেন, ব্যক্তিগত পুরস্কার হিসেবে জিতেছেন ইউরোপিয়ান ‘গোল্ডেন বুট’।

আজকের লড়াই নিয়ে হালান্ড অবশ্য নির্ভার। তাঁর দেশ নরওয়ের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছেন তিনি। যে কারণে আজ প্রত্যাশার চাপ পুরোটাই ইংল্যান্ডের ওপর থাকবে বলে মনে করছেন ২৫ বছরের এ স্ট্রাইকার। কোয়ার্টার ফাইনালে আসাটাই নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ সাফল্য। আর ইংল্যান্ড তো আসরের অন্যতম ফেভারিট। নরওয়ের ট্রফি জয়ের সম্ভাবনার কথা জানতে চাইলে হালান্ডের সোজাসাপ্টা উত্তর, ‘সত্যি বলছি, এখনও আমাদের সম্ভাবনা ক্ষীণ। আমার মনে হয়, কয়েকটি দেশ আছে যারা পরিষ্কার ফেভারিট, তাদের মধ্যে ইংল্যান্ড অন্যতম। আমার মনে হয়, আপনাদের (সাংবাদিক) উচিত ইংলিশ ভদ্র মহোদয়গণের ওপর চাপ দেওয়া।’ তবে তাঁর নিজের জন্য ম্যাচটি স্পেশাল বলেও জানিয়েছেন হালান্ড।

আরও পড়ুন

×