ইংল্যান্ডের নায়ক বেলিংহাম
নাজমুল হক নোবেল
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬ | ১০:১৭
আবারও ইংল্যান্ডের জয়ের নায়ক জুড বেলিংহাম। জোড়া গোল করে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ডকে জিতিয়েছেন তিনি। মায়ামির প্রচণ্ড গরমে অতিরিক্ত সময় গড়ানো কোয়ার্টার ফাইনালে ২৩ বছর বয়সী এ মিডফিল্ডারের নৈপুণ্যে ২-১ গোলে নরওয়েকে হারিয়ে সেমিতে চিরশত্রু আর্জেন্টিনাকে পেয়েছে ইংলিশরা। ফকল্যান্ড যুদ্ধের কারণে এ দুই দলের খেলা কখনও খেলায় সীমাবদ্ধ থাকে না। এরই মধ্যে মেসি-আলভারেজরা যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিয়েছেন।
এই নিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠল ১৯৬৬ চ্যাম্পিয়নরা। এবার শেষ চারে যাওয়ায় সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব বেলিংহামের। মেক্সিকোর বিপক্ষে শেষ ষোলোতে জোড়া গোল করার পর এ ম্যাচেও দুই গোল করেছেন তিনি। ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দুই ম্যাচে জোড়া গোলের নজির এই প্রথম। বেলিংহামের গোলসংখ্যা এখন হ্যারি কেইনের সমান (৬টি)। এই পারফরম্যান্সের পর তাঁকে ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সেরা ফুটবলারের মর্যাদা দিতে প্রস্তুত ব্রিটিশ কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকার। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটজয়ী লিনেকার নেটফ্লিক্সের একটি ফুটবল শোতে বলেন, ‘আমি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করতে চাই, ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফুটবলার তিনিই হতে যাচ্ছেন! আমাদের অনেক মহান ফুটবলার রয়েছে। অনেকেই হয়তো ববি চার্লটনের কথা বলবে, কেউ কেউ হ্যারি কেইনের নামও বলতে পারে। তবে আমার মতে, এই বয়সে সে (বেলিংহাম) জাতীয় দলের জন্য যা করেছে, তা নজিরবিহীন!’ ইংল্যান্ডের হয়ে বেলিংহামের মোট গোল ১২টি। এর মধ্যে ৯টিই বড় টুর্নামেন্টে। এজন্যই তাঁকে বড় ম্যাচের ফুটবলার বলছেন বোদ্ধারা।
শনিবার মায়ামিতে সবার নজর ছিল আর্লিং হালান্ড ও হ্যারি কেইনের প্রতি। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডাররা দুই তারকাকে প্রায় বোতলবন্দি করে রাখেন। ঠিক তখনই উত্থান হয় আরেক নায়কের। দুরন্ত নৈপুণ্যে জোড়া গোল করে ম্যাচ বের করে নেন বেলিংহাম। শুরু থেকে বল দখলে এগিয়ে থাকলেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি টমাস টুখেলের শিষ্যরা। উল্টো ৩৬ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে। হ্যারি কেইনের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠেন নরওয়ে অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। তাঁর পাস ধরে দুর্দান্ত শটে ইংল্যান্ডের জালে বল জড়িয়ে দেন আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ। ৪ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করার ভালো সুযোগ পেয়েছিল নরওয়ে। কিন্তু ফাঁকায় দাঁড়ানো হালান্ডকে বল না দিয়ে আলেকজান্ডার সরলথ নিজে চেষ্টা করতে গিয়ে নষ্ট করেন সেই সুযোগ। এটি গোল হলে ইংল্যান্ডের ঘুরে দাঁড়ানো ভীষণ কঠিন হয়ে যেত। এভাবে সুযোগ নষ্টের ফল পেতে খুব বেশি সময় লাগেনি নরওয়ের। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটেই গর্ডনের বাড়ানো বল ধরে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে সমতা ফেরান বেলিংহাম।
তবে নরওয়ের অভিযোগ, এই গোলটির আগে তাদের গোলরক্ষক নিল্যান্ডের গোলকিকের বল স্কাই ক্যামেরার কেবলে লেগে নিচে পড়ে যায়। সে বল ধরে গোল করেছে ইংল্যান্ড। গোলের পর নরওয়ের কোচ সুলবিকান, হালান্ড ও গোলরক্ষক নিল্যান্ড রেফারির কাছে বিষয়টি নিয়ে আবেদন জানিয়ে ছিলেন। তাতে লাভ হয়নি। ম্যাচ শেষে ফিফাও জানিয়েছে, কেবলে বল লাগার প্রমাণ তারা পায়নি। সমতা ফেরার পরের মিনিটেই এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। বেলিংহামের পাসে কেইন বল নরওয়ের জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেটা বাতিল হয়। দ্বিতীয়ার্ধে কর্নার থেকে নরওয়ের একটি গোলও ফাউলের কারণে বাতিল করেন রেফারি। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে মরগান রজার্সের দূরপাল্লার শট ঠিকমতো ধরতে পারেননি নরওয়ের গোলরক্ষক। দ্রুত ছুটে গিয়ে টোকা মেরে বল জালে পাঠিয়ে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন বেলিংহাম। ৯৯ মিনিটে বক্সের ভেতর স্পেন্সকে ফেলে দিলে ইংল্যান্ডের পক্ষে পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়ে ছিলেন রেফারি। তবে ভিএআর দেখে সে পেনাল্টি বাতিল করা হয়। এরপরও সমতা ফেরাতে পারেনি নরওয়ে।
জিতেও খুশি নন ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল, ‘আজ আমরা নিজেরাই নিজেদের জীবন কঠিন করে ফেলেছিলাম। যদিও ম্যাচের ফলাফল আমাদের পক্ষে এসেছে, শেষ চারে যাওয়া তো দুর্দান্ত বিষয়। তবে এই পারফরম্যান্সে আমি খুশি নই। আজ আমরা খুবই ভাগ্যবান ছিলাম।’