ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো নিম্নমানের ইট

সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো নিম্নমানের ইট
×

নাগরপুরের মামুদপুর এলাকার সড়ক থেকে বৃহস্পতিবার ইট সরিয়ে নেওয়া হয়। ছবি: সমকাল

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬ | ১০:৫০

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় নিম্নমানের ইট দিয়ে একটি গ্রামীণ সড়কের নির্মাণকাজ চলছিল। অভিযোগ পেয়ে কাজটি বন্ধ করে দিয়েছেন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় নিম্নমানের ইট বাতিল করে নতুন করে গুণগত মান বজায় রেখে রাস্তাটি নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্যমতে, এলজিইডির অধীনে নাগরপুর উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের চামটা থেকে ৫০০ মিটার রাস্তা বিসি (বিটুমিনাস কার্পেটিং) করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ আইআরআইডিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫১ লাখ ৯৬ হাজার ৯০১ টাকা। সড়কটি নির্মাণে ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পায় গোপালপুর উপজেলার মেসার্স কবির ব্রাদার্স এন্টারপ্রাইজ।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেখানে এক ট্রাক নিম্নমানের ইট নিয়ে আসে। এ নিম্নমানের ইট দিয়েই রাস্তার সাব-বেস বা খোয়ার কাজ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি টের পেয়ে প্রতিবাদ করেন এলাকাবাসী। সড়কটি টেকসই হবে না এ আশঙ্কায় নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযোগের পরিপ্রক্ষিতে টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান দ্রুত চামটা এলাকার ওই প্রকল্প সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তদন্তে তিনি এলাকাবাসীর অভিযোগের সত্যতা পান এবং ব্যবহৃত হতে যাওয়া ইটগুলো রাস্তার কাজের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করেন। এরপর নির্বাহী প্রকৌশলী তাৎক্ষণিক ওই নিম্নমানের ইট বাতিল করেন এবং সেগুলো রাস্তা থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে শতভাগ গুণগত মান ও সিডিউল বজায় রেখে নতুন ভালো মানের ইট দিয়ে রাস্তার কাজ সম্পন্ন করার কঠোর নির্দেশনা দেন। নির্বাহী প্রকৌশলীর এ কঠোর ও দ্রুত পদক্ষেপের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি তাদের ভুল স্বীকার করে রাস্তা থেকে নিম্নমানের সামগ্রী গত বৃহস্পতিবার সরিয়ে নিয়েছে। এখন সিডিউল অনুযায়ী ইটের গুণগত মান ঠিক রেখে সড়কের নির্মাণকাজ করা হচ্ছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম জানান, নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তা করা হলে প্রথম বর্ষাতেই তা ধসে যেত।

এলজিইডির নাগরপুর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, সরকারের উন্নয়ন কাজে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। নাগরপুরের এ সড়কটির কাজ এখন নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে, যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ গুণগত মান নিশ্চিত করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য এটি উন্মুক্ত করা যায়।

আরও পড়ুন

×