এআই ফিউশন
ছবির ইচ্ছামতো রূপান্তর করছে মেটার মিউজ
মুস্তাফা তৌহিদ
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬ | ১১:৪৮
মিউজ ইমেজ হলো মেটার বিশেষ এআই টুল, যা লেখার নির্দেশ বুঝে নতুন ছবি তৈরি করে দেয়। শুধু নতুন ছবি নয়; পুরোনো ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড বদলানো বা এতে কোনো নতুন ডিজাইন যোগ করা বা নির্দিষ্ট ছবিকে সম্পূর্ণ অন্যরকম রূপ দেওয়া– সব ধরনের কাজ করতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন শুধু লেখা নয়; কয়েক সেকেন্ডেই ছবি তৈরি করে দেয়। ইতোমধ্যে চ্যাটজিপিটি আর গুগল জেমিনি সেই সুযোগ করে দিয়েছে। কিন্তু এই প্রযুক্তিকে আরেক ধাপ এগিয়ে মেটা আনল তাদের নতুন মডেলের মিউজ ইমেজ এআই, যা নিয়ে টেক দুনিয়ায় হইচই পড়ে গেছে। কারণ, এই প্রযুক্তিতে কিছু নির্দিষ্ট কমান্ড দিলে ইনস্টাগ্রামের যে কারও পাবলিক ছবিকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে নতুন ছবি তৈরি করতে পারে।
বলতে গেলে, বিশ্বের যে কোনো দেশের যে কোনো স্থাপনার সামনে নিজের ছবি বসাতে চাইলে ঝটপট তা তৈরি হয়ে যাবে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই এআই সেই প্রম্পট বুঝে বাস্তবিক ছবি তৈরি করে দেবে।
বিস্ময়কর এই নতুন কৌশল নিয়ে টেক দুনিয়ায় শোরগোল পড়ে গেছে। কারণ, মেটা (ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল সংস্থা) তাদের নতুন মিউজ ইমেজ এআই মডেল চালু করেছে। এটি শুধু নতুন ছবি তৈরি করে না; প্রয়োজনে ইনস্টাগ্রামের পাবলিক ছবিকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। সহজ ভাষায়, এটি মেটার তৈরি এআই ইমেজ মডেল।
কীভাবে কাজ করে
সুনির্দিষ্ট প্রম্পট (নির্দেশনা) বুঝে নতুন ছবি তৈরি করতে পারে। শুধু তাই নয়; কোনো পুরোনো ছবিকে সম্পাদনা করা, নতুন ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরি করা বা ছবির বিশেষ কিছু অংশ বদলে দেওয়ার কাজ করতে পারে অনায়াসে। সংস্থাটি বলছে, এই প্রযুক্তি ডিজাইনার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সাধারণ যে কারও সৃজনশীল কাজ সহজ করবে।
ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট যদি পাবলিক করা থাকে আর সেখানে ছবি পোস্ট করা থাকে, তাহলে মেটার এই নতুন এআই মডেল সেই ছবিকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে নতুন ছবি বানিয়ে দিতে পারবে। ঠিক এখানেই জোরালো প্রশ্ন উঠছে তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে।
ফিচারটি যেহেতু কয়েক সেকেন্ডে ছবি তৈরি করতে পারে, তাহলে সমস্যা কোথায় আদতে?
অনেক বিশেষজ্ঞ অবশ্য এর গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তারা বলছেন, এই প্রযুক্তির অপব্যবহার হলে নকল ছবি, ডিপফেক বা প্রতারণার ঝুঁকি অনেকাংশে বাড়তে পারে। যে কেউ ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে যে কোনো ছবি নিয়ে তা দিয়ে ইচ্ছামতো প্রম্পট ব্যবহার করে নতুন কোনো ছবি সৃষ্টি করবে। ঝুঁকির শঙ্কা এতে অনেক বেশি।
ঝুঁকি যে কারণে
এটির অপব্যবহারে কয়েকটি বড় ঝুঁকি রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা আগাম সতর্ক করেছেন। নকল ছবি তৈরির হিড়িক পড়ে যাবে। ছবি বদলে দিতে এটি বেশ পারদর্শী, যা দেখতে একেবারে বাস্তব মনে হলেও আসলে সম্পূর্ণ কৃত্রিম বা ফেক।
ডিপফেকের শঙ্কা
আরেকটি বড় শঙ্কা হলো, এর ব্যবহারে ডিপফেকের কারবার বেড়ে যাবে। যে কেউ আপনার মুখ ব্যবহার করে ছবি বা ভিডিও বানাতে পারে।
সুযোগে প্রতারণা
নকল ছবি ব্যবহার করে অপচক্র অন্যদের বিভ্রান্ত করতে পারে। জালিয়াতি ও প্রতারণা, পরিচয়ে ভাঁড়ামি বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। অনেকে এ নিয়ে শঙ্কায় ভুগছেন।
ব্যক্তিগত গোপনীয়তা
অনেকে তার ছবি অন্য কেউ এআই দিয়ে পরিবর্তন করে বা নতুন ছবি তৈরি করলে তাতে অসন্তুষ্টি বাড়বে।
ঝুঁকিতে রয়েছেন যারা
যাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পাবলিক করা ও বয়স ১৮ বছরের বেশি, তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। অনেকের করা পাবলিক পোস্ট, রিল বা প্রোফাইল ছবি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এআইর রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। অন্যদিকে ১৮ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট এই মডেলের বাইরে রয়েছে। ফলে তারা ঝুঁকির মধ্যে থাকবে না।
কী ব্যবস্থা রয়েছে
এমন এআই মূলত ডিজাইনার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সাধারণ– যে কারও সৃজনশীল কাজ সহজ করার উদ্দেশ্য তৈরি।
কিন্তু মেটা বলছে, তথ্য ( ডেটা) নিরাপত্তাকে জোরালো করতে ও ডেটার অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কনটেন্ট ফিল্টার, অ্যাডভান্সড সিকিউরিটি ও এআই ব্যবহারে তৈরি ছবিতে বিশেষ ওয়াটারমার্ক জুড়ে দেওয়া হবে।
সুরক্ষিত হবেন যেভাবে
নিজের পাবলিক ছবি যদি এআইর রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে না চান, তাহলে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট প্রাইভেট করতে হবে। ছবি পাবলিক পোস্ট করার আগে
ঠিকমতো ভেবেচিন্তে, যাচাই-বাছাই করার পরই তা পোস্ট করবেন।
বিশেষ নিরাপত্তা বাড়াতে সেটিংস থেকে শেয়ারিং ও রিইউজ অপশনে যেতে হবে। তারপর এআই শেয়ারিং করার অপশন ঠিকঠাক যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
- বিষয় :
- এআই