আর্জেন্টিনার ম্যাচের রেফারিং নিয়ে ক্ষুব্ধ সুইসরা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬ | ১০:৩৯
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ৩-১ গোলে হারের পর রেফারির ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সুইসরা। দলটির কোচ মুরাত ইয়াকিন ও অধিনায়ক গ্রানাইত শাকার দাবি, এমবোলার লাল কার্ডই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। আর যে নিয়মে তিনি লাল কার্ড পেয়েছেন, সেই নিয়মকেই অগ্রহণযোগ্য বলেছেন ইয়াকিন। মূলত এমবোলার দ্বিতীয় হলুদ কার্ড নিয়েই ক্ষোভে ফুঁসছেন তিনি।
কানসাস সিটিতে শুরুতেই পিছিয়ে পড়া সুইজারল্যান্ড ৬৭ মিনিটে সমতা ফেরায়। ম্যাচের ৭২ মিনিটে ঘটে ঘটনাটি। একটি ফাউলের জন্য আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। কিন্তু ক্যামেরায় ধরা পড়ে, এমবোলা ‘প্লে অ্যাকটিং’ করে পড়ে যান। ভিএআর দেখে তাঁকে ফাউল আদায়ের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে পড়ে যাওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এমবোলা আগে একটি হলুদ কার্ড দেখায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়। বাকি সময়টা ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় সুইজারল্যান্ডকে।
এমবোলাকে লাল কার্ড দেখিয়ে কী ঠিক করেছেন পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনেইরো? বিষয়টি নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো এমন ঘটনা ঘটল। যেখানে ‘ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানো’ (মিসটেকেন আইডেন্টিটি রুল) সংক্রান্ত নিয়ম ব্যবহার করে কোনো খেলোয়াড়ের হলুদ কার্ড পরিবর্তন করা হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী কোনো খেলোয়াড়কে ভুলভাবে হলুদ বা লাল কার্ড দেখানো হলে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারে।
নিয়ম অনুযায়ী কোনো খেলোয়াড় যদি ফাউল করার জন্য হলুদ বা লাল কার্ড দেখেন, কিন্তু ফাউলটি যদি প্রতিপক্ষের কোনো খেলোয়াড় করে থাকেন, তাহলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবেন রেফারি। অর্থাৎ আর্জেন্টিনার পারেদেসকে যদি রেফারি হলুদ কার্ড না দেখাতেন, তা হলে এমবোলাকে ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি রুল’ মেনে হলুদ কার্ড দেখাতে হতো না। সে ক্ষেত্রে আগেই একটি হলুদ কার্ড দেখা এমবোলাকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেই ছেড়ে দিতে পারতেন রেফারি। কিন্তু নতুন নিয়মের জন্য কার্ড সুইস স্ট্রাইকারকে কার্ড দেখাতেই হয়েছে।
এই নিয়মকেই মানতে পারছেন না সুইজারল্যান্ডের কোচ, ‘রেফারিকে রক্ষার জন্য তারা এমন একটি নিয়ম করল, যা আজ আমাদের ম্যাচটাই নষ্ট করে দিল। এটা ভীষণ কষ্টের। আমার মতে, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানোর কোনো কারণই ছিল না। রেফারির উচিত ছিল খেলা চালিয়ে যাওয়া। তিনি নিজের ভুল সংশোধন করতে গিয়ে আমাদের বিপদে ফেলেছেন।’
গত ৬০ বছরে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমবোলা হলেন চতুর্থ খেলোয়াড়, যিনি ‘সিমুলেশন’ বা ফাউল আদায়ের জন্য দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেছেন। এর আগে ইতালির ফ্রান্সিসকো টট্টি, মেক্সিকোর লুইস পেরেজ ও ঘানার আসামোয়া জিয়ানের এমন অভিজ্ঞতা হয়েছিল।