ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

দেম্বেলেকে বদলে দিয়েছেন স্ত্রী 

দেম্বেলেকে বদলে দিয়েছেন স্ত্রী 
×

উসমান দেম্বেলে ২০২১ সাল থেকে পুরোদস্তুর একজন পারিবারিক মানুষ। স্ত্রী রিমা এদবুচের সংস্পর্শে জীবনকে বদলে নিয়েছেন। ফুটবলেও পাচ্ছেন একের পর এক সাফল্য

আহসান হাবিব সম্রাট 

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৪৮ | আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৫৬

ফ্রান্স দলের আক্রমণভাগের অন্যতম স্তম্ভ উসমান দেম্বেলে। তাঁকে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে প্রতিভাবান একজন ফুটবলার হিসেবে গণ্য করা হয়। বিশ্বকাপে ছয় ম্যাচ খেলে ইতোমধ্যে পাঁচটি গোলের পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্ট করে দলে মূল্য বুঝিয়েছেন এই পিএসজি তারকা। অথচ বেপরোয়া জীবনযাপনে নিজের ক্যারিয়ারটাই ধ্বংস করতে বসেছিলেন সাবেক এই বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড। ক্যারিয়ারের মধ্যগগনেই যেন অস্তমিত হতে যাচ্ছিলেন তিনি। 

কিন্তু একজন নারীর স্পর্শে বদলে যান এই ফুটবলার। এতেই ফুটবলের এক অমূল্য প্রতিভা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পায়। ওই নারী আর কেউ নন, দেম্বেলের স্ত্রী রিমা এদবুচে। রিমা যেন দেম্বেলের জীবনে পরশপাথর হয়ে এসেছেন। যে নারীর অনুপ্রেরণায় নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন গত বছর বিশ্বের সেরা ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি অর জয়ী দেম্বেলে।

নরমান্ডির একটি ছোট শহর ভার্ননে ১৯৯৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন দেম্বেলে। দেম্বেলের রক্তের মধ্যেই মিশে ছিল ফুটবল। বাবা উসমান সিনিয়র ফুটবল খেলতে ভালোবাসতেন। তবে তাঁর চাচা বাদু সাম্বাগুয়ে ছিলেন একজন পেশাদার ফুটবলার। ছোটবেলা থেকেই দেম্বেলের মধ্যে ফুটবল প্রতিভা দেখতে পেয়ে দেম্বেলের বাবা পরে ফ্রান্সের রেনে শহরে থিতু হন, যেন ছেলে রেনের বিখ্যাত মেডেলেইন এভরেক্স ক্লাবের জুনিয়র দলে সুযোগ পেতে পারে। মাত্র ছয় বছর বয়সেই ফুটবল একাডেমিতে আসা-যাওয়া শুরু করেন দেম্বেলে। চাচা বাদু সাম্বাগুয়ে দেম্বেলেকে নিয়ে বিভিন্ন ক্লাবে ছুটতেন। ম্যাডেলেইন এভরেক্সে দেম্বেলের প্রথম পেশাদার চুক্তিতে অভিভাবক হিসেবে স্বাক্ষর করেছিলেন মা ফাতিমা। পরে এভরেক্স ক্লাবে সুযোগ পান দেম্বেলে। মাত্র এক বছর পরই তাঁকে দলে ভেড়ায় বিখ্যাত রেনে ক্লাব। সেখানে ৬ বছর কাটানোর পর তাঁকে ১২ মিলিয়ন পাউন্ডে দলভুক্ত করে জার্মান লিগের অন্যতম জায়ান্ট বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। জার্মানিতে মাত্র এক বছর কাটানোর পর তাঁকে ১৩৫ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে ভেড়ায় বার্সেলোনা। স্বপ্নের মতো এগোতে থাকে দেম্বেলের জীবন।

বড় আশা করে বার্সেলোনা দলে ভিড়িয়েছিল দেম্বেলেকে। ওই সময়ে নেইমার বার্সেলোনা ছেড়ে যাওয়ায় ফরাসি এই ফুটবলারকেই নেইমারের মর্যাদাপূর্ণ ১১ নম্বর জার্সি তুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জীবন ও ক্যারিয়ারের এত উন্নতির সঙ্গে যেন নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছিলেন না দেম্বেলে। অসৎ সঙ্গ, রাত জেগে ভিডিও গেম খেলা, ঠিকমতো দলের অনুশীলনে যোগ না দেওয়া, পুষ্টিকর খাবার না খাওয়া ও ঠিকমতো না ঘুমানোর কারণে মাঠের পারফরম্যান্সেও প্রভাব পড়তে শুরু করে। নানা নিয়ম ভঙ্গ করে বারবার ক্লাবের জরিমানার শিকার হন। বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগও ওঠে। ক্লাব থেকেই বারবার আর্থিক দণ্ড পেতে থাকেন। অবশেষে তাঁর জীবনে যেন দেবদূত হয়ে ধরা দেন স্ত্রী রিমা। 

২০২১ সালে মরোক্কান বংশোদ্ভূত এই নারীকে বিয়ের এক বছর পরই মেয়ে সন্তানের বাবা হন দেম্বেলে। এরপর যেন পুরোপুরি বদলে যেতে থাকেন এই ফুটবলার। ২০২৩ সালে বার্সেলোনা থেকে প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে যোগ দেন তিনি। তিনটি লিগ শিরোপাসহ পিএসজিকে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এনে দেন। ২০২৪-২৫ মৌসুমে দলের পক্ষে ৩৫ গোল ও ১৬টি অ্যাসিস্ট করে এমবাপ্পে, ইয়ামাল, নেইমারদের পেছনে ফেলে জেতেন ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যালন ডি’ অর ট্রফি। 

পুরস্কারের মঞ্চে উঠে গর্বিত দেম্বেলের মা ফাতিমা বলেন, ‘নিজের ছেলেকে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে কল্পনা করাটা দুরূহ। সত্যি বলতে, এতে আমি মোটেও অবাক হইনি।’ তবে দেম্বেলের ভেতর থেকে সেরাটা বের করে আনার আসল কাজটি করেছেন পারিবারিক জীবনকে সবসময় আড়ালে রাখা তাঁর স্ত্রী রিমা; যিনি সবার অলক্ষ্যে ভেতর থেকে পরিবর্তন ঘটিয়েছেন দেম্বেলের।

আরও পড়ুন

×