ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা
মাঠের লড়াই শেষে রাজনৈতিক উত্তেজনা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬ | ১১:৩৭
সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়রা। আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে কথার লড়াই শারীরিক রূপ নিয়েছিল। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা প্রথমার্ধে একে অন্যকে ফাউল করায় ব্যস্ত ছিলেন। ধাক্কাধাক্কি থেকে হাতাহাতি। খেলা ছাপিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া সেমিফাইনাল ম্যাচটি জিতে নিয়ে ফিফার নিয়মও ভেঙেছে আর্জেন্টিনা। ফকল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে সৃষ্ট বৈরিতার প্রতিবাদে রাজনৈতিক স্লোগান ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস’ ব্যানার প্রদর্শন করেন জিওভান্নি লো সোলসো ও নিকোলাস ওতামেন্ডি। এ জন্য শাস্তি পেতে হতে পারে লিওনেল মেসিদের। আর্থিক দণ্ড দেওয়া হতে পারে আর্জেন্টিনা দলকে।
ফুটবল মাঠে রাজনৈতিক স্লোগান, পতাকা বা প্রতীক দেখানোর ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম করেছে ফুটবলের আইন প্রণয়ন সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) ও ফিফা। নিয়মে বলা আছে, ফুটবল মাঠে কোনো রকম রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্লোগান, ব্যানার বা ছবি দেখানো যাবে না। এমনকি, অন্তর্বাসেও কোনো রকম রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্লোগান ব্যবহার করতে পারবেন না ফুটবলাররা।’
এই নিয়মের আওতায় ইরানের স্বাধীনতা-উত্তর পতাকা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। ফিফার আপত্তিতে জার্সি বদলাতে বাধ্য হয়েছিল হাইতি। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের মধ্যকার ফকল্যান্ড যুদ্ধও রাজনৈতিক। সেই লড়াইয়ের প্রতিবাদে মাঠে ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে ফিফার নিয়ম ভেঙেছেন মেসিরা। এই নিয়ম ভাঙার শাস্তি সম্পর্কেও বলা হয়েছে আইনে, ‘কোনো ফুটবলার বা দল এই নিয়ম ভাঙলে প্রতিযোগিতার আয়োজক, আইএফএবি বা ফিফা সংশ্লিষ্ট ফুটবলার বা দলকে শাস্তি দিতে পারে।’ রোববার স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের আগেই ফিফাকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
২০১৪ বিশ্বকাপের আগেও স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ফকল্যান্ড নিয়ে একই ধরনের রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শন করায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ৩০ হাজার সুইস ফ্রাঁ বা ৩৭ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়।
এদিকে আর্জেন্টিনা খেলোয়াড়দের এমন আচরণে সমালোচনা এসেছে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকেও। যুক্তরাজ্য সরকারের বাণিজ্য সচিব পিটার কাইল বলেন, ‘খেলোয়াড়দের এ ধরনের আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’ ফুটবলকে রাজনীতির বাইরে রাখার দাবি জানান তিনি।
আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনাল ম্যাচের শুরুতেই ইংল্যান্ডের জাতীয় সংগীত ‘গড সেভ দ্য কিং’ বাজার সময় আর্জেন্টিনার হাজার হাজার সমর্থক চিৎকার করে ও গান গেয়ে স্টেডিয়ামের পরিবেশ কোলাহলপূর্ণ করে তোলেন। এ সময় ইংলিশদের খোঁচা দিয়ে তারা স্লোগান দিতে থাকেন– ‘যদি তুমি লাফাতে পারো, তাহলে তুমি ইংরেজ।’ তীব্র স্নায়ুযুদ্ধের ম্যাচটিতে শুরুতেই হাই-প্রেসিং বা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে দুই দল। এ কারণে ম্যাচজুড়েই রেফারিকে বেশ চাপে থাকতে হয়। ম্যাচের ৩৭ মিনিটেই মেসিকে ট্যাকল করে হলুদ কার্ড দেখেন ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসন। পরে আর্জেন্টিনার আরও তিন খেলোয়াড় রক্ষণভাগের লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ও রদ্রিগো ডি পলকে কার্ড দেখান রেফারি।
নাটকীয়তাপূর্ণ ম্যাচটিতে ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে ইংল্যান্ড এগিয়ে গেলেও ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজ ও যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্তিনেজের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষেও দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা লেগে ছিল। ইংলিশ মিডফিল্ডার বেলিংহামের সঙ্গে বিতণ্ডা হয় মেসির।