কার হাতে উঠবে ব্যালন ডি’অর
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ১২:১৪
ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের নতুন মৌসুম শুরুর আগেই ২০২৬ ব্যালন ডি’অর নিয়ে শুরু হয়ে গেছে জোর আলোচনা। বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করে বেশ কজন ফুটবলার তারকা দৌড়ে এগিয়ে গেলেও মৌসুমজুড়ে ভালো খেলা ফুটবলাররাও আছেন লড়াইয়ে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত গণমাধ্যম ‘দি ইনডিপেনডেন্ট’ ব্যালন ডি’অর জিততে পারেন– এমন সম্ভাব্য ১০ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে। তাদের তালিকার শীর্ষ আছেন রদ্রি। এ ছাড়া হ্যারি কেইন, লামিনে ইয়ামাল, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসির মতো তারকা তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। আগামী ২৬ অক্টোবরে লন্ডনে জমকালো আয়োজনে ব্যালন ডি’অরজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।
র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে আছেন রদ্রি। স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক তিনি। স্পেনের ডিফেন্স দুর্ভেদ্য হয়ে উঠেছিল তাঁর জন্যই, সেই সঙ্গে মাঝমাঠ থেকে পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করে অসাধারণ এক বিশ্বকাপ কাটিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এ মিডফিল্ডার। কোনো গোল-অ্যাসিস্ট না করেই মেসি ও এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে গোল্ডেন বল জিতে সবাইকে চমকে দিয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপে ‘গোল্ডেন বল’ জিতে ব্যালন ডি’অরের দৌড়েও কিছুটা এগিয়ে গেছেন রদ্রি। যদিও ইনজুরি কাটিয়ে লম্বা সময় পর ফিরে ক্লাবের হয়ে মৌসুমের শুরুতে প্রত্যাশামতো ভালো খেলতে পারেননি। তবে বিশ্বকাপ এগিয়ে দিয়েছে তাঁকে। তিন বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ২০২৫-২৬ মৌসুমে ৫১ ম্যাচে ৬১ গোল করে ইউরোপের অন্যতম সফল স্ট্রাইকার ছিলেন তিনি। জার্মান জায়ান্টদের হয়ে লিগ ও কাপ জয়ের পাশাপাশি বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের হয়ে ৬ গোল করেন তিনি। তাঁর নৈপুণ্যেই ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপে সেরা সাফল্যের (তৃতীয়) দেখা পায় ইংল্যান্ড। অনেক বিশ্লেষকের মতে, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিবেচনায় হ্যারি কেইনই এবার ব্যালন ডি’অরের সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার।
তৃতীয় স্থানে আছেন স্পেনের বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামাল। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইউরো ও বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়েছেন তিনি। এবারের বিশ্বকাপে নিজের মান অনুযায়ী অবশ্য গোলের (১টি) দেখা পাননি তিনি। তবে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠা সত্ত্বেও স্পেনের আক্রমণের মূল ব্যক্তি ছিলেন তিনি। প্রায় প্রতি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের সীমানায় ভীতি ছড়িয়েছেন। বার্সেলোনার হয়েও দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটিয়েছেন। লা লিগা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বার্সার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৪ গোল ও ১৮ অ্যাসিস্ট করা এ তরুণ ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে ভালোমতোই আছেন।
চতুর্থ স্থানে আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফরাসি এ তারকা দীর্ঘদিন ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাজত্ব করার পরও তাঁর ঝুলিতে এখনও ব্যালন ডি’অর নেই! সেই হতাশা এবার ঘুচতে পারে। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে ১০ গোল করে লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে গোল্ডেন বুট জিতেছেন। সে সঙ্গে আর্জেন্টাইন মহাতারকার কাছ থেকে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটাও ছিনিয়ে নিয়েছেন তিনি। যদিও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে কোনো শিরোপা জিততে পারেননি, তবুও ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে ছিলেন দুর্দান্ত।
ব্যালন ডি’অর নির্ধারণে বিশ্বকাপ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এ তালিকার পঞ্চম স্থানে লিওনেল মেসির জায়গা পাওয়াটাই তার বড় প্রমাণ। নিশ্চয়ই ইন্টার মায়ামির পারফরম্যান্সের কারণে তিনি এ তালিকায় স্থান পাননি। আটবার ব্যালন ডি’অরজয়ী এ তারকা ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বকাপে সবাইকে মোহিত করে দিয়েছিলেন। ৮ গোল করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন। কিন্তু ফাইনালে গিয়ে স্পেনের কাছে হেরে যান। শিরোপা হাতছাড়া হলেও টুর্নামেন্টজুড়ে তাঁর পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছে, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এখনও পার্থক্য গড়ে দিতে সক্ষম তিনি।