ঢাকা শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬

প্রশাসনিক জটিলতায় শুটিংয়ের নতুন কমিটি

প্রশাসনিক জটিলতায় শুটিংয়ের নতুন কমিটি
×

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:০৪

শুটিং ফেডারেশনের আগের কমিটির বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ ছিল। পছন্দনীয় শুটারদের অগ্রাধিকার দেওয়া, নারী অ্যাথলেটদের অনৈতিক প্রস্তাবসহ নানান অপকর্ম করার অভিযোগ উঠেছিল আগের কমিটির বিরুদ্ধে। গত মাসে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ নতুন অ্যাডহক কমিটি দিলেও বাইরে থেকে কলকাঠি নাড়ছেন আগের কমিটির কয়েকজন কর্মকর্তা। নিজেদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ধরে রাখা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে বিভিন্ন কৌশল ও তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন বিগত কমিটির কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। 

এই পরিস্থিতির কারণে নতুন অ্যাডহক কমিটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে বাধার মুখে পড়ছে এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা ও বিতর্ক নিরসনের উদ্যোগও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ফেডারেশনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন শুটিং-সংশ্লিষ্টরা। তবে অতীতের প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন বলে শুক্রবার সমকালকে জানান বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সাকিফ শামীম, ‘বিগত কমিটির যারা অনিয়ম করেছেন বা করছেন তাদের আমরা ধীরে ধীরে নিয়মের ভেতরে আনার চেষ্টা করব। না শোধরালে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশনে যাব। আমি নির্দিষ্টভাবে কারও নামও কোট করতে চাই না। তারা বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন এবং এখনও হয়তোবা করছেন। আমি চাইবো তারাও যেন ভালোভাবে কাজ করেন।’

বিগত কমিটির সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল কোচ শারমিন আক্তারের। তাঁর বিরুদ্ধে নারী শুটারদের প্রতি অনৈতিক আচরণের অভিযোগ আছে। নারী কোচ হওয়া সত্ত্বেও তিনি নারী শুটারদের প্র্যাকটিসের সময় ও প্র্যাকটিস শেষে একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত কক্ষে যেতে উৎসাহিত বা চাপ দিতেন বলে অভিযোগ আছে। শুধু তাই নয়, শুটারদের দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করতে বলা হতো এবং বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন বা উপহার দেওয়ার মাধ্যমে ওই কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে উৎসাহিত করা হতো। এমনও অভিযোগ রয়েছে যে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করে শুটার কামরুনাহার কলির অলিম্পিক স্কলারশিপ বাতিলে ভূমিকা রেখেছেন। কোচ শারমিন আক্তারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অনিয়ম ও অসদাচরণের বিষয়ে গঠিত একটি তদন্ত কমিটি অভিযোগগুলোর পক্ষে তথ্য-প্রমাণ পেয়েছিল। 

তবে অভিযোগকারীদের দাবি, পরবর্তী সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি এবং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়। সেই শারমিন আক্তার এখনও কোচ হিসেবে বহাল তবিয়তে থাকায় অনেক শুটারই আতঙ্কে আছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে ফোন ধরেননি শারমিন। আর নারী এই কোচের বিষয়টা ডিসিপ্লিনারি কমিটি দেখছে বলে জানিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক সাকিফ শামীম, ‘সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমি অভিযোগের প্রমাণগুলো নেওয়ার চেষ্টা করছি। আমাদের ইচ্ছে যে একজন বিদেশি কোচ নেওয়া। তাঁর অধীনেই দলকে এশিয়ান গেমসে পাঠানো। এই কারণেই আমরা শারমিনকে আপাতত বহাল রেখেছি।’

সেপ্টেম্বরে জাপানে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসে শুটিং থেকে অংশ নেবেন ১২ অ্যাথলেট। গেমসে গঠিত দল নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। বিগত কমিটি সিলেকশন ট্রায়ালে নিজেদের পছন্দের শুটারদের অগ্রাধিকার দিয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত ১২তম এয়ারগান চ্যাম্পিয়নশিপে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করার পরও কামরুন নাহার কলিকে এশিয়ান গেমসের দল কিংবা জাতীয় ক্যাম্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাঁর পরিবর্তে এমন একজন জুনিয়র শুটারকে এশিয়ান গেমসের দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার অতীত পারফরম্যান্স ও জাতীয় পর্যায়ের অর্জন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। 

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে যে, নারী দলের জন্য নির্বাচিত আরও তিনজন শুটারের সাম্প্রতিক জাতীয় প্রতিযোগিতার স্কোরও কামরুন নাহার কলির তুলনায় কম ছিল এবং তাদের সাম্প্রতিক জাতীয় পর্যায়ের সাফল্যও তুলনামূলকভাবে সীমিত; এমনকি দুজন তো কোনো পদকই পাননি। এসব কারণে নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা ও মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক সাকিফ শামীম বলেন, ‘আসলে এশিয়ান গেমসের জন্য শুটার সিলেকশনটা আগের কমিটিই করেছে। আমরা দেখেছি দুজন ভালোমানের শুটার বঞ্চিত হয়েছেন। বিশেষ করে কামরুনাহার কলির বাদ পড়াটা ছিল একটু অবাক করার। বঞ্চিতরা যেন সুযোগ পায় সেই জন্য আমরা একটা প্রতিযোগিতাও করেছিলাম। যেকোনো কারণে হোক সেই প্রতিযোগিতায় বঞ্চিত দুজন ভালো করতে পারেনি।’

আরও পড়ুন

×