ঢাকা শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশকে হারাতে হলে ইতিহাসই গড়তে হবে অস্ট্রেলিয়াকে

বাংলাদেশকে হারাতে হলে ইতিহাসই গড়তে হবে অস্ট্রেলিয়াকে
×

ছবি- এএফপি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬ | ১১:৫৪ | আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০২৬ | ১২:২৭

ডারউইন টেস্টে এখন পুরোপুরি চালকের আসনে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বড় লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার সামনে ম্যাচে ফেরার কঠিন চ্যালেঞ্জ। জয় পেতে হলে এমন এক কীর্তি গড়তে হবে স্বাগতিকদের, যা ঘরের মাটিতে এই শতাব্দীতে মাত্র একবারই করতে পেরেছে তারা।

ঘরের মাঠে প্রথম ইনিংসে ১০০ বা তার বেশি রানে পিছিয়ে পড়েও টেস্ট জেতার রেকর্ড অস্ট্রেলিয়ার মাত্র একবার। ২০১০ সালে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ২০৬ রানে পিছিয়ে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। পরে মাইকেল হাসির দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও নাথান হরিটজের পাঁচ উইকেটের সুবাদে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পায় তারা।

ডারউইনে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে লিড নিয়েছে ২২৮ রানের। অর্থাৎ ঘরের মাঠে নিজেদের সর্বোচ্চ ঘাটতি পেরিয়ে জয়ের রেকর্ডও নতুন করে লিখতে হবে তাদের। তবে বাংলাদেশের জন্যও এমন পরিস্থিতি নতুন নয়। প্রায় দুই দশক আগে ফতুল্লায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে প্রথম ইনিংসে ১৫৮ রানের লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই ম্যাচ জিততে পারেনি টাইগাররা। রিকি পন্টিংয়ের ম্যাচজয়ী সেঞ্চুরিতে কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসে ঘরের মাঠে প্রথম ইনিংসে জয়ের রেকর্ড ওই ২০১০ সালের সিডনি টেস্টের ২০৬ রান। অর্থাৎ নিজেদের মাঠে ২০৬ রানের বেশি পিছিয়ে পড়ে কখনো টেস্ট জিততে পারেনি তারা। অবশ্য দেশের বাইরে আরও বড় লিড পেরিয়ে জয়ের নজির আছে অস্ট্রেলিয়ার। ১৯৯২ সালে কলম্বো টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ২৯১ রানে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ১৬ রানে জিতেছিল অ্যালান বোর্ডারের দল।

পরিসংখ্যানও আপাতত বাংলাদেশের পক্ষেই কথা বলছে। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এবিসির ক্রিকেট বিশ্লেষক রিক ফিনলের হিসাবে, টেস্টে ২০০ বা তার বেশি রানের প্রথম ইনিংস লিড নেওয়া দল ৮০.৬ শতাংশ ম্যাচ জিতেছে। ১৮.৩ শতাংশ ম্যাচ ড্র হয়েছে, আর পিছিয়ে থাকা দল জিতেছে মাত্র ১.১ শতাংশ ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়া ২০০ বা তার বেশি রানে পিছিয়ে পড়ে জিতেছে মাত্র ৩.৬৫ শতাংশ ম্যাচ। ৮২ বার এমন পরিস্থিতিতে পড়েও জিততে পেরেছে মাত্র তিনবার।

সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ও এই ম্যাচের ধারাভাষ্যকার ম্যাথু হেইডেনের মতে, এত বড় ঘাটতিতে ব্যাটিংয়ের মানসিকতাই বদলে যায়। চ্যানেল সেভেনকে তিনি বলেন, ‘দল ২২০ রানে (২২৮) পিছিয়ে পড়লে ব্যাটিং ইউনিটের মানসিকতা পুরোপুরি বদলে যায়। শুধু টিকে থাকার লড়াই, অন্য কিছু নয়। জেতার কথা আর মাথায় থাকে না, কেবল টিকে থাকার লড়াই করতে হয়। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের জন্য এটা সত্যিই এক বড় সংকট। আমরা কখনোই এমন পরিস্থিতিতে পড়তে পছন্দ করি না।’

অস্ট্রেলিয়ার আরেক সাবেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারের হিসাব আরও পরিষ্কার। তার মতে, হার এড়াতে হলে অন্তত ১২৫ থেকে ১৫০ ওভার ব্যাট করতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে এবং স্কোরবোর্ডে তুলতে হবে ৫০০ থেকে ৫৫০ রান। কায়ো স্পোর্টসকে ওয়ার্নার বলেন, ‘ড্র-ই একমাত্র পথ হতে পারে, তবে তারা ড্রয়ের জন্য খেলবে না। ম্যাচে ফিরতে অস্ট্রেলিয়াকে অন্তত ১২৫ থেকে ১৫০ ওভার ব্যাট করতে হবে এবং স্কোরবোর্ডে ৫০০ থেকে ৫৫০ রান তুলতে হবে।’

ওয়ার্নারের মতে, ‘আমার মনে হয় না ২০০ (২২৮) রানের লিড তাদের অলআউট করতে যথেষ্ট হবে।’ তার আশঙ্কা, তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগেই অস্ট্রেলিয়া আরও তিন উইকেট হারালে ম্যাচের ফল অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দুই ব্যাটারকে বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন ওয়ার্নার। তার মতে, ‘বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি স্টিভ স্মিথ ও ট্রাভিস হেড। দুজনকে আউট করতে পারলে (অস্ট্রেলিয়া) কঠিন বিপদে পড়বে।’

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ৭৩ রান। ওয়েদারাল্ড, ট্রাভিস হেড ও লাবুশেন ফিরে গেছেন। ক্রিজে আছেন স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরুন গ্রিন। বাংলাদেশ এখনো এগিয়ে ১৫১ রানে।

ডারউইনে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে টেস্ট ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সবচেয়ে স্মরণীয় জয়গুলোর একটি তুলে নেওয়ার সুযোগ নাজমুল হোসেন শান্তদের সামনে।

আরও পড়ুন

×