আসিয়ানে খেলতে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ ফিফার
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬ | ১২:৫৮
এই প্রথমবার আসিয়ান দেশগুলোকে নিয়ে আসিয়ান কাপ করতে যাচ্ছে ফিফা। ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর দুই বিভাগে মোট ১৪টি দল অংশ নেওয়ার কথা। আসিয়ান দেশগুলোর বাইরে এই টুর্নামেন্টে খেলার প্রস্তাব পায় ভারত ও পাকিস্তান। ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের কারণে আসিয়ান কাপ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারত। ফলে এই প্রতিযোগিতায় খেলার সম্ভাবনা বাড়ে বাংলাদেশের। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল (ফিফা) থেকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও আসিয়ান কাপে বাংলাদেশকে দেখা যেতে পারে।
রোববার ফিফা থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে বলে শুক্রবার সমকালকে জানান বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম, ‘এখনও খেলার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাইনি। তবে ফিফা আমাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। যখন ফিফা আপনার সঙ্গে কথা বলা শুরু করবে তার মানে ফিফা পজিটিভ বলেই শুরু করবে, নয়তো তো আলাপ করবে না আপনার সঙ্গে। যদি চান্স না থাকে তাহলে ফিফা আপনার সঙ্গে কথাই বলবে না এই ব্যাপারে। আপনার কথাও শুনবে না এবং আপনার সঙ্গে কথাও বলবে না। ফিফা আলাপ শুরু করছে, তার মানে হচ্ছে ডেফিনেটলি একটা চান্স আছে বলেই সে কথা বলা শুরু করছে।’
ফিফা আসিয়ান কাপটা করছে দু্ই ভাগে। প্রিমিয়ার ডিভিশন এবং চ্যালেঞ্জ ডিভিশন। টুর্নামেন্টে প্রিমিয়ার ডিভিশনে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া (আয়োজক), ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও পাকিস্তান খেলবে। এই প্রতিযোগিতায় এখন একটি স্থান ফাঁকা। সেটি পূরণের জন্যই বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে ফিফা। চ্যালেঞ্জ ডিভিশনে হংকং (আয়োজক), মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, লাওস, ব্রুনাই ও পূর্ব তিমুর রয়েছে। প্রতিটি দল দুই থেকে চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। ফিফা চাইছে নির্ধারিত উইন্ডোতে প্রীতি ম্যাচের জায়গায় টুর্নামেন্ট চালু করতে। অনেকটা আরব কাপের মতো। এই প্রতিযোগিতায় ডিভিশন-১ চ্যাম্পিয়নের প্রাইজমানি প্রায় ১০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা)। ডিভিশন-২-এ চ্যাম্পিয়ন প্রায় ৩ লাখ মার্কিন ডলার। প্রতি দলের অংশগ্রহণ ফি ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার।
শুরুতে দক্ষিণ এশিয়া থেকে ভারত আমন্ত্রণ পেলেও শেষ মুহূর্তে চীন নাম প্রত্যাহার করায় পাকিস্তান ডাক পায়। এখন ভারত সরে যাওয়ায় বাংলাদেশের সামনে সুযোগ এসেছে। এই সুযোগটা হাতছাড়া করতে চা না বাফুফে। তাই তো সেপ্টেম্বর উইন্ডোতে কিরগিজস্তানে গিয়ে তিন জাতি কিংবা ঢাকায় চার জাতি টুর্নামেন্ট আয়োজনের যে পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সেখান থেকে সরে আসবে বলে জানিয়েছেন ফাহাদ করিম, ‘যদি আমরা ফিফা আসিয়ান কাপে খেলি, তাহলে সেপ্টেম্বরের সব পরিকল্পনা বাতিল হয়ে যাবে। তবে চূড়ান্ত কিছু না হওয়া পর্যন্ত এখনই সেপ্টেম্বর উইন্ডোর খেলার বিষয়টি বাতিল করতে পারছি না।’
বাংলাদেশের জন্য এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা, এ নিয়ে বাফুফেকে বাড়তি আর্থিক চাপ নিতে হচ্ছে না। আয়োজকদের পক্ষ থেকেই অংশগ্রহণকারী দলগুলোর যাতায়াত ও আবাসনের খরচ বহন করা হবে। টুর্নামেন্টের জন্য দলগুলোকে অর্থও দেওয়া হবে। এই টুর্নামেন্টের ফরম্যাটেও রয়েছে ভিন্নতা। গ্রুপ পর্ব শেষে দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি খেলবে ফাইনালে। শুধু শিরোপার লড়াইয়েই শেষ নয় প্রতিযোগিতা। দুই গ্রুপের রানার্সআপ দল খেলবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। দুই গ্রুপের তৃতীয় হওয়া দলগুলো মুখোমুখি হবে পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। গ্রুপে চতুর্থ হওয়া দল দুটি খেলবে সপ্তম স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। তাই টুর্নামেন্টে চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ।
- বিষয় :
- বাংলাদেশ
- বাংলাদেশ ফুটবল
- আসিয়ান কাপ