ঢাকা রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তাসখন্দে ভারত-জয়ের আশা

তাসখন্দে ভারত-জয়ের আশা
×

ছবি- বাফুফে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:০৫

গেলো এপ্রিলে মালদ্বীপে সাফের ফাইনালে সেদিন নীল হয়ে গিয়েছিল ভারতীয় অহংকার। অনূর্ধ্ব-২০ সাফ জয়ের সেই রূপকথা এখনও খুব বেশি দূর অতীতের নয়; ফাহিম-ইউসুফদের মনে সেই জয়ের টাটকা বারুদ এখনও মজুত। কিন্তু তাসখন্দের রুক্ষ বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আজ যখন আবার সেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে সামনে পাচ্ছে বাংলাদেশ, তখন আবেগের চেয়েও বড় হয়ে উঠছে রূঢ় এক সত্য– প্রস্তুতির আকাশ-পাতাল ব্যবধান। 

যেখানে সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়ার মতো দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলে নিজেদের ধার বাড়িয়ে নিয়েছে ভারত, সেখানে থাইল্যান্ডের বিমান ধরার স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই একেবারে ঘরের খেয়ে তাসখন্দে নামতে হয়েছে লাল-সবুজদের। উজবেকিস্তান আর সিরিয়ার কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর চাকরি হারিয়েছেন কোচ জোন্স। নতুন কোচের নতুন কৌশলের ওপর ভর করে, কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলার খাঁ খাঁ শূন্যতা বুকে নিয়ে, শুধু অতীতের সেই ‘সাফ জয়ের’ আত্মবিশ্বাসকে সম্বল করে কি আজ ভারতের চক্রব্যূহ ভাঙতে পারবে বাংলাদেশ? 

মাঠের লড়াইয়ে আজ (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা) শুধু কৌশলের নয়; ফাহিমদের চরিত্রের আসল পরীক্ষাও বটে। টুর্নামেন্টে যে সিরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরেছেন অ্যাডাম আব্বাসরা, সেই সিরিয়াকেই ভারত ১-০ গোলে হারিয়েছে। আবার এই ভারতই উজবেকিস্তানের কাছে ৪-০ গোলে হেরেছে, যাদের বিপক্ষে বাংলাদেশের হারটি ছিল ২-০ গোলের। এই মুহূর্তে পয়েন্ট তালিকায় দুই ম্যাচের দুটিতে জিতে সবার ওপরে আছে উজবেকিস্তান। দুই ম্যাচ খেলে একটি করে জয় নিয়ে ভারত আর সিরিয়ার পয়েন্ট ৩। আজকের ম্যাচটি বাংলাদেশ যদি ভারতকে হারাতে পারে তাহলে ফাহিমদের পয়েন্টও হবে তিন। তবে সেক্ষেত্রে অন্তত তিন গোলের ব্যবধানে জিতলে তাদের সুযোগ থাকতে পারে গ্রুপে দ্বিতীয়তে থেকে এশিয়ান কাপের টিকিট নিশ্চিত করার। কেননা আট গ্রুপের শীর্ষ দলের সঙ্গে সাত গ্রুপের রানার্সআপ দলও চীনে খেলার সুযোগ পাবে।

শুধু আগের দুটি ম্যাচ হারের কারণেই নয়; তাসখন্দে এসে যে দুটি ম্যাচ খেলেছেন বাংলাদেশের যুবারা, তাতে ১৮০ মিনিটে মাত্র একটি বার প্রতিপক্ষের গোলমুখে শট নিতে পেরেছেন তারা। তাই আজকের ম্যাচে আক্রমণভাগেই মূল চ্যালেঞ্জ থাকবে বাংলাদেশের। সাফজয়ী দলের রোনান ভাইদের মতো চেনা পারফর্মার কেউ এই দলে নেই; তার বদলে লাল-সবুজ জার্সির ‘গ্লোবালাইজেশন’ ঘটিয়ে দলে ভেড়ানো হয়েছে অ্যাডাম আব্বাস, জিদান ইউসুফ কিংবা ঈশান মল্লিকের মতো প্রবাসী বা বিদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের। 

কাগজ-কলমে হয়তো এদের প্রোফাইল বেশ ঝকঝকে; কিন্তু রূঢ় বাস্তবতা হলো– মাঠে নামার পর স্থানীয় ফুটবলারদের সঙ্গে এই প্রবাসী ব্রিগেডের রসায়নটা এখনও বড্ড নড়বড়ে, খাঁটি বাংলায় যাকে বলে ‘মিস-পাস’ আর ‘মিস-আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের’ এক খাপছাড়া কোরাস! ভারত ম্যাচে এই ছন্দটা মেলানো ভারপ্রাপ্ত কোচ মিশুর প্রধান দায়িত্ব থাকবে। সাফজয়ী দলে যে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে বাংলাদেশের গায়ে, তা দিয়ে কোনো ম্যাচ এখনও জেতা যায়নি। সাফ থেকে পরিবর্তন ভারতীয় দলেও হয়েছে। তার পরও তাদের কোচ মহেশ গাউলি তাঁর সাফের রানার্সআপ দলটার ওপরেই মূলত আস্থা রেখেছেন; বেঙ্গালুরুর ক্যাম্পে অনেক ফুটবলারকে পরখ করে মাত্র গুটিকয়েক কাটছাঁট বা পরিবর্তন এনেছেন দলে। অর্থাৎ, কোলাসো-চাহানদের চেনা ছক আর বোঝাপড়াটা রয়ে গেছে একদম অটুট। ঠিক উল্টো মেরুতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ! সেখানে বাংলাদেশ নেমেছে একঝাঁক নতুন মুখের রসায়ন মেলানোর ভীষন এক ঝুঁকিপূর্ণ সমীকরণ মাথায় নিয়ে। 

প্রথম দুই ম্যাচে কোচ জোন্সের অধীনে খেলা দলটির মধ্যে ফুটবলের প্রাথমিক পাঠেরই অভাব ফুটে উঠেছিল। বিশেষ করে বলে ফার্স্ট টাচ, পাসিং, বল রিসিভিং, বল কন্ট্রোল, পজেশন– এসব সাধারণ ব্যাপারেও ফাহিম, সংগ্রাম, শফিউল আর অপুদের মধ্যে ঘাটতি ছিল। এই ভরাডুবির মধ্যেও গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে গোলরক্ষক রাজ চৌধুরী পারফর্ম করে যাচ্ছেন। একের পর এক দুর্দান্ত ডাইভিং সেভ করছেন। মিঠু চৌধুরী, জয় আহমেদ, শেখ সংগ্রাম ও শফিউল হোসেনরা শারীরিক ও গতিসম্পন্ন প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলাতে গিয়ে খেই হারিয়েছেন, বিশেষ করে সিরিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তের ভুল পাসে জোড়া গোল খাওয়া ও ডিফেন্সিভ লাইনের সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট ছিল। প্রথম দুই ম্যাচেই সেন্ট্রাল আর পশ্চিম এশিয়ার দুই দেশের বিপক্ষে পার্থক্যটা পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। এখন চ্যালেঞ্জ দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী ভারত। তাই আজকের ম্যাচটি জিতে অন্তত আগের দুই ম্যাচের হারের দুঃখটা কিছুটা হলেও ভুলতে চাইবেন ফাহিমরা।

আরও পড়ুন

×