ঢাকা শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আমিনুল হকের ঘোষণার পরও থমকে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাবের পুনর্গঠন

আমিনুল হকের ঘোষণার পরও থমকে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাবের পুনর্গঠন
×

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৬:১৭

পেশাদার, আধুনিক ও স্বনির্ভর ক্রীড়া ক্লাব হিসেবে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাবকে গড়ে তোলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। গত ৯ মে ক্লাব পরিদর্শনে এসে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ফুটবল, ক্রিকেট ও হকির পাশাপাশি আর্চারি, শুটিং, সাঁতার, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন ও স্কোয়াশ যুক্ত করে ক্লাবটিকে পূর্ণাঙ্গ স্পোর্টস কমপ্লেক্সে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

তবে ঘোষণার কয়েক মাস পরও পুনর্গঠনের দৃশ্যমান অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মাঠ, একাডেমি, ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক কার্যক্রম ঘিরে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ক্লাব-সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ধানমন্ডি সোসাইটির ভূমিকা এবং ক্লাব পরিচালনায় বিভিন্ন পক্ষের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা।

ধানমন্ডি মাঠের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের আগস্টে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মাঠটির তদারকিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের পাশাপাশি ধানমন্ডি সোসাইটির সম্পৃক্ততার তথ্য প্রকাশিত হয়। মাঠটি ইজারা নেওয়ার জন্য সোসাইটির পক্ষ থেকে আবেদন করার বিষয়টিও তখন সামনে আসে।

ক্লাব-সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, সরকারি মাঠের ব্যবস্থাপনা এবং একটি ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া ক্লাবের সাংগঠনিক কার্যক্রমে একই পক্ষের প্রভাব কতটা থাকা উচিত। ধানমন্ডি সোসাইটির ২০২৫-২০২৭ কমিটিতে নাজমুল ওয়াসিক খান অলক সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

ক্লাব-সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, দীর্ঘদিন কাজ করা অভিজ্ঞ কোচ ও প্রশিক্ষকদের সরিয়ে দেওয়ায় ফুটবল ও ক্রিকেট একাডেমির কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়েছে। একাডেমির ভর্তি ও মাসিক ফি থেকে পাওয়া অর্থের ব্যবহার নিয়েও তারা স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুলেছেন।

তাদের অভিযোগ, আগে একাডেমির অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন করা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে নগদ লেনদেন বেড়েছে। এতে হিসাবের স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এমনকি মাসে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ক্লাব-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।

ক্লাব-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক যুগ ধরে সাফওয়ান সোবহান ও ইসতিয়াক সাদেকের পৃষ্ঠপোষকতায় ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাবের ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। গত ৮ মে ক্লাবের অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ক ইসতিয়াক সাদেক তিন বছরের মধ্যে ক্লাবকে টেকসই করার এবং অনুদাননির্ভরতা থেকে বেরিয়ে নিজস্ব আয়ে পরিচালনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ক্লাব-সংশ্লিষ্টদের দাবি, বর্তমানে সোসাইটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষ ক্লাবের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেছে। ফলে পৃষ্ঠপোষকদের ভবিষ্যৎ ভূমিকা এবং ক্লাবের আর্থিক কাঠামো নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

২০২৫-২৬ মৌসুমে ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব। সেই সাফল্যের সুবাদে আসন্ন মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে খেলার কথা দলটির। কিন্তু প্রশাসনিক অস্থিরতার কারণে দল পরিচালনা, খেলোয়াড় ধরে রাখা, কোচিং স্টাফ নিয়োগ ও বাজেট নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ক্লাব-সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত সিদ্ধান্ত না হলে নিবন্ধন ও নতুন মৌসুমের প্রস্তুতিতে সমস্যা হতে পারে।

আরও পড়ুন

×