ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সবকিছুই আছে, নেই শুধু খেলাধুলা

সবকিছুই আছে, নেই শুধু খেলাধুলা
×

ছবি: ফাইল

হাসান হিমালয়, খুলনা ব্যুরো

প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০১৯ | ০২:৩৫ | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০১৯ | ০২:৪৫

প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা খরচ করে নির্মাণ করা হয়েছে নতুন স্টেডিয়াম। ১৮ লাখ টাকা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে নতুন মাঠ। ব্যাংকে জমা রয়েছে প্রায় অর্ধকোটি টাকার আমানত। স্টেডিয়াম, মাঠ, টাকা সবকিছু থাকলেও খেলাধুলার আয়োজন নেই খুলনায়।

বর্তমান মৌসুমের প্রথম পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও ক্রিকেট, হ্যান্ডবল, ভলিবল, বাস্কেটবল টুর্নামেন্ট শুরুর কোনো ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে না জেলা ক্রীড়া সংস্থা (ডিএসএ)। বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ক্রীড়া-সংশ্নিষ্টরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হতাশ ক্রিকেট খেলোয়াড়রা।

খুলনার ক্রীড়া সংগঠকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুলনায় ৩০টি ক্রিকেট একাডেমিতে অনুশীলন করেন পাঁচ শতাধিক খুদে ক্রিকেটার। অথচ পাঁচ বছর ধরে খুলনায় কোয়ালিফাইং বা বাছাই পর্বের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হয় না। এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমেই নতুন ক্রিকেট দল ও খেলোয়াড়রা তৃতীয়, দ্বিতীয় ও প্রথম বিভাগে খেলার সুযোগ পান। রোববার খুলনা জেলা স্টেডিয়াম এলাকায় কথা হয় ক্রীড়া সংগঠক ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে।

খুলনা ক্রিকেট একাডেমির কোচ আজিজুর রহমান জানান, ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ক্রিকেট লিগ হয়েছে মাত্র একটি। তাও ২০১৪ সালের প্রথম বিভাগ ও প্রিমিয়ার লিগ শেষ হয়েছে ২০১৮ সালে। এর মাঝখানে আর কোনো টুর্নামেন্ট হয়নি। অর্থাৎ পাঁচ বছর ধরে কোয়ালিফাইং, তৃতীয় ও দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগ হয় না।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের খুলনা জেলা দলের কোচ সামসুল আলম রনি সমকালকে বলেন, একাডেমিতে কিশোররা ক্রিকেট শিখে কোনো না কোনো টিমে খেলতে চায়। নিয়মিত ক্রিকেট লিগে অংশ নিতে চায়। কিন্তু খুলনায় এর কোনো সুযোগ নেই। অনেকে মজা করে বলেন, খুলনার ক্রিকেট লিগ বিশ্বকাপের সমমর্যাদার হয়ে গেছে। চার-পাঁচ বছরের আগে খুলনায় কোনো ক্রিকেট লিগ হয় না।

বিসিবির এই কোচ বলেন, আগে ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তার কাছে ক্রিকেট লিগ শুরুর দাবি জানালে বলতেন, মাঠ নেই। এখন জেলা স্টেডিয়ামের নতুন মাঠ রয়েছে। সার্কিট হাউস মাঠ আছে, কেসিসির প্রভাতী স্কুল মাঠ রয়েছে। কিন্তু তারপরও ডিএসএ টুর্নামেন্ট শুরু করতে চায় না। শুধু খেলার অভাবে অনেক উদীয়মান খেলোয়াড় ঝরে যাচ্ছে।

ক্লাবগুলোর কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ। খুলনা টাউন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুজন আহমেদ সমকালকে বলেন, ২০১৪ সালে টাউন ক্লাব দ্বিতীয় বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়। এরপর পাঁচ বছর চলে গেছে, প্রথম বিভাগে আর আমাদের খেলা হয়নি। সেপ্টেম্বর মাসে লিগ শুরুর সিদ্ধান্তে দল গঠনের কাজ শুরু করি। প্রায় আট লাখ টাকা খরচ করে দল গঠন করেছি। কিন্তু লিগ শুরুর কোনো খবর নেই।

জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে জানা গেছে, জুলাই মাস থেকে তাদের ক্রীড়াবর্ষ শুরু হয়। এই সময় থেকে ক্রিকেট, বাস্কেটবল, ভলিবল, কাবাডি, হ্যান্ডবল এবং ইনডোরের মধ্যে দাবা, ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিস লিগ শুরু হয়। যা সারাবছর রুটিন অনুযায়ী চলতে থাকে। কিন্তু মৌসুমের পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও একটি লিগেরও এন্ট্রি আহ্বান করা হয়নি।

সূত্র জানায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় দ্রুত ক্রিকেট লিগসহ পর্যায়ক্রমে অন্যান্য লিগ শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর দুই মাস পার হলেও এখনও আগ্রহী ক্লাবগুলোর সঙ্গে টুর্নামেন্টের বিষয়ে বসতে পারেনি ক্রীড়া সংস্থা। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে সবার মধ্যে।এ ব্যাপারে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কাজী শামীম আহসান সমকালকে বলেন, দ্রুত খেলা শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। দুয়েক দিনের মধ্যে এন্ট্রি আহ্বান করা হবে।

আরও পড়ুন

×