ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি

রাষ্ট্র মালিকানার পাঁচ প্রতিষ্ঠানের সম্মতি

বহুজাতিক কোম্পানির সিদ্ধান্ত নেবে তাদের পরিচালনা পর্ষদ

রাষ্ট্র মালিকানার পাঁচ প্রতিষ্ঠানের সম্মতি
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:২৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

লাভজনক রাষ্ট্র মালিকানাধীন ও সরকারের শেয়ার থাকা বহুজাতিক ১০ কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সরাসরি তালিকাভুক্তিতে সম্মতি দিয়েছে। তবে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে তাদের পরিচালনা পর্ষদের সভা প্রয়োজন।
প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রীয় ও বহুজাতিক মিলিয়ে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে পুঁজিবাজারে আনার লক্ষ্যে গতকাল বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। সংশ্লিষ্ট ১০ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা এতে অংশ নেন। 

বৈঠকে বাণিজ্য উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা, শিল্প উপদেষ্ট, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (অর্থ মন্ত্রণালয়), বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 
প্রাথমিকভাবে যেসব প্রতিষ্ঠানকে পুঁজিবাজারে আনার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে সেগুলো হলো– বহুজাতিক কোম্পানি ইউনিলিভার, নেস্‌লে, নোভার্টিস, সিনজেন্টা ও সাইনোভিয়া বাংলাদেশ, রাষ্ট্র মালিকাধীন প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার, নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি ও সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি।
বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে শেয়ারবাজার আইনের মধ্যে এসেছে। এখন বাজারের গভীরতা বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো জরুরি। এ জন্য মৌলভিত্তি শক্তিশালী সরকারি কোম্পানির শেয়ার অফলোড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব কোম্পানিতে সরকারের শেয়ার থাকলেও তারা এখনও তালিকাভুক্ত নয়। তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হবে কিনা– এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত ছাড়া তারা চূড়ান্ত সম্মতি দিতে পারবে না। সরকার এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে।
আগে এ নিয়ে আলোচনা হলেও এবার অগ্রগতি হয়েছে জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এবার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিগুলোকে দ্রুত প্রক্রিয়া শুরু করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে তালিকাভুক্তি সম্ভব কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার চেষ্টা করছে। তবে বিষয়টি জটিল এবং কোম্পানি আইন উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
আইসিবির চেয়ারম্যান আবু আহমেদ বলেন, সরকার এটি করছে জনস্বার্থে। নেস্‌লে যদি বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত থাকতে পারে, তাহলে বাংলাদেশে সমস্যার কারণ নেই। ইউনিলিভারের জিএসকে অংশ তালিকাভুক্ত হলেও মূল অংশ তালিকাভুক্ত নয়, অথচ ভারতের বাজারে প্রতিষ্ঠানটি শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে। পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডেও একই চিত্র।

তিনি বলেন, প্রয়োজনে কোম্পানিগুলোকে কর ছাড়সহ প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে। আর যদি তারা তালিকাভুক্ত না হয়, তাহলে কর বাড়ানোর বিষয়েও ভাবতে হবে। রাষ্ট্র মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তিনি জানান, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্মতি দিয়েছে। তবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দেরি হয়। সরাসরি তালিকাভুক্তিতে দেরির কোনো কারণ তিনি দেখেন না।

আরও পড়ুন

×