ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেয়ারবাজারে স্বস্তি

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেয়ারবাজারে স্বস্তি
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৫২

| প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বেশ কিছুদিন ধরেই স্বস্তির ধারা ছিল শেয়ারবাজারে। গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা হয়। এর পর গত মঙ্গলবার পর্যন্ত দুই মাসে শেয়ারবাজার সূচক বেড়েছে ৪৩৬ পয়েন্ট বা ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এ সময়ে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ৩৬০ কোম্পানির মধ্যে ২৩৯টির দর বেড়েছে, কমেছে ১০৭টির।
এ অবস্থা ‘খুবই প্রত্যাশিত’ বলে মনে করেছেন ঢাকার শেয়ারবাজারের ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা গেছে একেবারে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে এসে। আশা ছিল, আরও আগে থেকে এর প্রতিফলন থাকবে। তারপরও নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত একটি নির্বাচন হতে যাচ্ছে এবং এর মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেবে। এটি দেশবাসীর মতো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের কাছে ভালো খবর।

বিনিয়োগকারীদের আশাবাদী হওয়ার কারণ ব্যাখ্যায় ডিবিএ সভাপতি বলেন, রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জন-আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবরূপ দিতে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কিছু সংস্কার আনবে। এতে বিনিয়োগ বাড়বে, অর্থনীতিতে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার হবে। এ ক্ষেত্রে শেয়ারবাজারের গুরুত্ব ও চাহিদা বাড়বে। বিনিয়োগকারীরা এটাই চান। 
অবশ্য তপশিল ঘোষণা এবং রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন ঘিরে দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরুর পরও এক মাস আগেও আদৌ নির্বাচন হবে কিনা–তা নিয়ে দোলাচলে ছিলেন বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এ কারণে নির্বাচন ঘিরে শেয়ারবাজারে যে প্রাণচাঞ্চল্য ফেরার প্রতাশা ছিল, ততটা হয়নি। নির্বাচন অনুষ্ঠানের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে শেয়ারদর, সূচক ও লেনদেনে ঊর্ধ্বমুখী ধারা স্পষ্ট হয়েছে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশন থেকে জাতীয় নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩৯ কর্মদিবসের মধ্যে ২১ দিন শেয়ারবাজার সূচক বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ১৮ দিন।
যে ২১ দিন শেয়ারবাজার সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল, সে সময়ে ডিএসইএক্স সূচক বেড়েছে প্রায় ৭৮২ পয়েন্ট। বিপরীতে বাকি ১৮ দিনে প্রায় ৩৪৬ পয়েন্ট হারায়। চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম সাত কর্ম দিবসের মধ্যে পাঁচ কর্ম দিবসে ২৮৩ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়, যার ১৭০ পয়েন্টই বেড়েছে শেষ দুই দিনে।
পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, ফেব্রুয়ারিতে সব খাতের শেয়ারদর বাড়লেও নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর গেলো দুই মাসে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ব্যাংক, বীমা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের শেয়ারদর। এর বাইরে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, ওষুধ ও রসায়ন, সিমেন্ট, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং টেলিযোগাযোগ খাতের বেশির ভাগ শেয়ারের দর বেড়েছে। অবশ্য বছরের এ সময়ে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ ঘোষণার সময় ঘনিয়ে আসায় এসব শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ থাকে বেশি।
যেমন–ব্যাংক খাতের সক্রিয় ৩১ ব্যাংকের সবগুলোর বাজারদর বেড়েছে। গড় শেয়ারদর বেড়েছে পৌনে ১৬ শতাংশ। বীমা খাতের ৫৮ কোম্পানির মধ্যে ৫০টির দর বেড়েছে। বাকি আটটির মধ্যে ছয়টির দর কিছুটা কমলেও সার্বিক বিচারে গড়ে এ খাতের শেয়ারদর সাড়ে ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ২৩ কোম্পানির মধ্যে দুটির দর কমার পরও গড়ে ১২ শতাংশের দর বেড়েছে এ খাতের।

কিছুটা ভিন্ন চিত্র ছিল প্রকৌশল খাতে। এ খাতের ৪২ কোম্পানির মধ্যে ২৬টির দর কমেছে, বেড়েছে ১৫টির। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ২১ কোম্পানির মধ্যে ১২টির দর বেড়েছে। সিরামিক খাতের পাঁচ কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র একটির।
শুধু শেয়ারদর নয়, নির্বাচনের আগে শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণও বেড়েছে। মঙ্গলবার ডিএসইতে কেনাবেচা হয় ৭৯০ কোটি টাকার শেয়ার, যা গত গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর বা সর্বশেষ পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ। 

আরও পড়ুন

×