শিল্পী থেকে রাজনীতিবিদ, কাউকে ছাড়লেন না অভিনেতা খরাজ
খরাজ মুখার্জি। ছবি: ফেসবুক
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ২০:৩৫ | আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ২০:৫১
পশ্চিমবঙ্গে বাইছে বিধানসভা নির্বাচনের হাওয়া। এমন সময় রাজনৈতিক পরিবেশ ও ভোট সংস্কৃতি নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন টালিউড অভিনেতা খরাজ মুখার্জি। তার মতে, সময়ের সঙ্গে শুধু ভোটের পরিবেশই নয়, বদলে গেছে রাজনীতির চরিত্রও—আর সেই পরিবর্তন মোটেও ইতিবাচক নয়।
আজ অভিনেতা খরাজ মুখার্জির একটি লেখা প্রকাশ করেছে আনন্দবাজার অনলাইন। সেখানে সত্তরের দশকের ভোটের স্মৃতি টেনে খরাজ বলেন, ‘তখন ভোট মানেই ছিল উৎসবের আমেজ। ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার অভিজ্ঞতা এখনও তার মনে উজ্জ্বল। পোলিং অফিসারদের সঙ্গে গল্প, আঙুলে কালি লাগানো। সব মিলিয়ে ছিল আনন্দঘন পরিবেশ। কিন্তু এখনকার ভোট পরিস্থিতিকে তিনি তুলনা করেছেন ‘যুদ্ধক্ষেত্র’-এর সঙ্গে।’
তিনি বলেন, ‘আসলে তখন এত হইহট্টগোল, ঝামেলা, ঝগড়াঝাঁটির বিষয় তো ছিল না। এখন ছোটবেলার সেই সুন্দর স্মৃতি মুছে গেছে। রাস্তায় বেরোলেই বন্দুকের নল, ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের বাইরেও উর্দিধারীরা বন্দুক তাক করে বসে থাকে। উনিশ-বিশ হলেই বিপদ। আসলে এখন ব্যাপারটা হল, নিরীহ মানুষের প্রাণ যায় যাক, ভোটটা ঠিক হতে হবে।’
শুধু ভোট নয়, রাজনীতির বর্তমান চেহারা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেতা। খরাজ বলেন, ছোটবেলায় একটা জিনিস দেখতাম, রাজনীতির লোকেরা কেউ খেটে খাওয়া, কিংবা কেউ পড়াশোনা জানা মানুষ। এছাড়া আগে যারা রাজনীতিতে অভিজ্ঞ তারাই রাজনীতি করতেন। এখন তো অভিনেতারাই রাজনীতিতে, কী যোগ্যতা আছে তাদের? আসলে যে কোনও জিনিস করতে গেলে সেটা শিখতে হয়। কিন্তু শুধু দেশ চালানোর ক্ষেত্রে কোনও শিক্ষার দেখি প্রয়োজন পড়ছে না। অভিনেতা-অভিনেত্রীরা কী এমন করেছেন যারা দেশ চালানোর যোগ্যতা রাতারাতি অর্জন করে ফেলেছেন? আসলে আমার আশেপাশে এত মানুষকে দেখলাম নেতা, বিধায়ক, মন্ত্রী হতে, এখন তো এদের সতীর্থ বলতেও খারাপ লাগে। আর রাজনৈতিক নেতা-মন্ত্রীরাই বা অভিনেতাদের সাহায্য নেন কেন? প্রশ্ন জাগে। আমি বিরক্ত।’

একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দিকেও আঙুল তুলেছেন খরাজ। তার বক্তব্য, যদি অভিনেতাদের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা না থাকে, তাহলে রাজনৈতিক নেতারাই বা কেন তাদের দলে নিচ্ছেন—এই প্রশ্নও উঠে আসে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখে তিনি নিজেকে মানসিকভাবে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন বলেও জানান। তার কথায়, রাজনীতি একসময় ছিল আদর্শের জায়গা, যেখানে পড়াশোনা ও চিন্তাভাবনার গুরুত্ব ছিল। কিন্তু এখন ক্ষমতা ও অর্থই যেন মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভোটে হিংসা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। প্রযুক্তির এই যুগে অনলাইনে ভোটগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন খরাজ। তার মতে, এতে সহিংসতা অনেকটাই কমানো সম্ভব হতে পারে।
সব মিলিয়ে, খরাজ মুখার্জির বক্তব্যে ফুটে উঠেছে এক ধরনের হতাশা—যেখানে শৈশবের নির্ভার স্মৃতি আর বর্তমানের অস্থির বাস্তবতার মধ্যে স্পষ্ট ফারাক।
- বিষয় :
- খরাজ মুখার্জি
- টালিউড
- বিনোদন
