ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সাক্ষাৎকার

কয়েকটি পদে তৈরি হবে কোটির বেশি কর্মসংস্থান

কয়েকটি পদে তৈরি হবে কোটির বেশি কর্মসংস্থান
×

মুস্তাফা তৌহিদ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ | ১১:২৯ | আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ | ১১:৩০

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোন পথে এগোচ্ছে? সফটওয়্যার তৈরি বা কোড লেখার মতো অনেক কাজ এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা সহজ হয়েছে। এতে টেক শিল্পের জগতে বড় ধরনের প্রশ্নের উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

যদি কোডিং স্বয়ংক্রিয় হয়ে যায়, তা হলে আইটি পরিষেবা দেওয়া অনেক সংস্থার গুরুত্ব আর কতটুকু থাকবে? কঠিন এই প্রশ্নের ভবিষ্যৎমুখী সদুত্তর দিয়েছেন ইনফোসিস সংস্থার চেয়ারম্যান নন্দন নিলেকানি।

সংস্থার বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশের সময় উপস্থিত অতিথির উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে নিলেকানি বলেছেন, জেনারেটিভ এআই চালুর তিন বছরের বেশি সময় পরে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, ইনফোসিস আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন আরও গুরুত্বের জায়গায় রয়েছে। সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষমাণ। পূর্বনির্ধারিত মেশিন থেকে সম্ভাবনাভিত্তিক মেশিনে রূপান্তর যেমন জরুরি, তেমনই জরুরি এর দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা। কাজের সেকেলে ধ্যানধারণা এ প্রযুক্তি সত্যিকার অর্থেই বদলে দিয়েছে।

সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষমাণ। পূর্বনির্ধারিত মেশিন থেকে সম্ভাবনাভিত্তিক মেশিনে রূপান্তর যেমন জরুরি, তেমনই এতে দ্রুত  অভ্যস্ত হতে হবে। নন্দন নিলেকানি, চেয়ারম্যান, ইনফোসিস

কিছুদিন পরপর এআইকেন্দ্রিক সংস্থা অ্যানথ্রপিক আর ওপেনএআই নতুন প্রযুক্তিশৈলী উন্মোচন করছে। সবে সংস্থা দুটি প্রাইভেট ইকুইটি ফার্মের সঙ্গে অংশীজন হয়েছে। এতে প্রযুক্তি পরিষেবা ক্ষেত্রে তাদের প্রবেশের সম্ভাবনা দৃশ্যমান।

পরিস্থিতি যখন এমন, তখন ভারতের ৩১ হাজার কোটি ডলারের আইটি শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বছরের শুরু থেকে আইটি শেয়ার বিক্রির প্রবণতা দেখা গেছে। ইনফোসিসের শেয়ারের দাম চলতি বছর ২৮ শতাংশের বেশি কমেছে।

নিলেকানি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, কৃত্রিম মেধা আগের যে কোনো প্রযুক্তিগত রূপান্তরের তুলনায় বৃহৎ এবং অনেক বেশি প্রভাবশালী। তাই আমাদের নিয়ে প্রশ্ন ও সংশয়– দুটোই রয়েছে। অনেকে আবার আমাদের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন রেখেছে­– যদি কোডিং স্বয়ংক্রিয় হয়ে যায়, তা হলে আমাদের কেন প্রয়োজন হবে? তবে এসব উদ্বেগ আমলে না নিয়ে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার পথ তৈরিতে কাজের দিকে মনোযোগী হবে ইনফোসিস।

নিলেকানির মতে, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের পুরো জীবনচক্রে এখনও বিপুল কাজ রয়ে গেছে। এআই দিয়ে তৈরি সমাধানকে ঠিকঠাক পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর যাচাই-বাছাই করার চাহিদা তৈরি হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাকে দ্রুত, বৃহৎ পরিসরে ব্যবহারযোগ্য ও স্থিতিশীল করে গড়ে তুলতে হবে। এ ছাড়া সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্ব দিতে হবে বিশেষ অগ্রাধিকার। এআই উদ্ভাবনের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে বড় গ্রাহকের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করতে ঢেলে পরিকাঠামো তৈরির অভিজ্ঞদের জন্য বিশাল কাজের সুযোগ অপেক্ষমাণ।

এসব দূরদর্শী লক্ষ্য পূরণে কর্মীদের নতুনভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আমরা প্রস্তুত। নতুন যুগের উপযোগী করে আমাদের কর্মীদের সুদক্ষ করে তুলব। উৎপাদনের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে যে কর্মীরা অন্য কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন, তাদের নতুন গ্রাহক ও নব্য পরিষেবা ক্ষেত্রে কাজে লাগানো হবে।

অনেক বিশেষজ্ঞ নিলেকানির বক্তব্যের উদাহরণ টেনে বলেছেন, যত এআইর ব্যবহার বাড়বে, ততই বিশ্বস্ততা, নিরাপত্তা ও তথ্যের সার্বভৌমত্ব– এসব বিষয়ে গুরুত্ব তৈরি হবে। সংস্থার এআই অপারেটিং সিস্টেমে তৈরি হবে দক্ষ জনবলের চাহিদা। তৈরি হবে কোটি কোটি কর্মসংস্থান। শুধু ধরন বদলে যাবে। এই ব্যবস্থার ভিত্তি হবে পরিকাঠামো, ডেটা, মডেল, কনটেক্সট, এজেন্ট আর সরকার।

নতুন এআই মডেল ও পুরোনো প্রযুক্তি ব্যবস্থার মধ্যকার কারিগরি রূপান্তর আর সমন্বয়ই আগামী দিনে সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করবে– এমনটাই বলছেন নিলেকানি।

আরও পড়ুন

×