ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপে জাদুর ফুটবল

বিশ্বকাপে জাদুর ফুটবল
×

সাব্বিন হাসান

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ | ১১:৩২ | আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ | ১১:৩২

শট থেকে ড্রিবলিং­– সবকিছুতেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেবে এবার বিশ্বকাপের ‘ম্যাজিক ফুটবল’ ট্রাইওন্ডা। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ সালের এবারের অফিসিয়াল ম্যাচ ফুটবলের নাম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ট্রাইওন্ডা’। স্প্যানিশ ভাষার এই শব্দের অর্থ ‘তিনটি ঢেউ’। নামটি বিশ্বকাপের তিনটি আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর কথা বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হয়েছে। এবারও ফুটবলের ডিজাইন করেছে সারাবিশ্বে সুপরিচিত স্পোর্টস ব্র্যান্ড অ্যাডিডাস। বলটির কিছু বিশেষ কারিগরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যার ফলে এটি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই বলের ভেতরের অংশে বিশেষ আকৃতির খুদে কম্পিউটার চিপ বসানো হয়েছে।

বলের ভেতরে চিপ!

মূলত এটি বিশেষ উদ্দেশ্যে তৈরি এক ধরনের ট্র্যাকিং চিপ। এটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার রেকর্ড সংরক্ষণ করতে পারবে যে বলটি কীভাবে আর কত গতিতে ঘূর্ণায়মান রয়েছে।
ম্যাচ চলার সময় ফুটবলে কিক করার সঠিক সময় নির্দেশ করবে। যে কোনো ফুটবল খেলোয়াড়ের পা ঠিক কোন মিলিসেকেন্ডে কোন ত্রিকোণে বলটি স্পর্শ করল, তা চিপটি দক্ষতার সঙ্গে তথ্য আকারে উপস্থাপন করার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।

এর ফলে অফসাইডের মতো কঠিন ও বিতর্কিত সব সিদ্ধান্ত ম্যাচের সময় রেফারিরা খুব দ্রুত এবং সঠিকভাবে নিতে পারবেন।

হালকা স্পর্শও ধারণ করা হবে

ফুটবলে খুব হালকা বা ক্ষীণ কোনো স্পর্শ হওয়া মাত্রই সাধারণ চোখে বা ক্যামেরায় তা শনাক্ত এর আগে ছিল কঠিন। কিন্তু এই চিপটি এমন যে কোনো ধরনের ট্র্যাক করতে পারে নিখুঁতভাবে। হ্যান্ডবল বা বল কারও গায়ে লেগে বাইরে গেল কিনা– এসব বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হবে।

চার্জের সুবিধা

বলের ভেতরে থাকা চিপটি যেন ঠিকঠাক কাজ করে, সে জন্য খেলার আগে একে চার্জ করে নিতে হয়। একবার চার্জ দিলে টানা ছয় ঘণ্টা এটি ডিজিটাল সমর্থন করতে পারে।

ডিজাইনে নতুনত্ব

অভিনবত্ব আনা হয়েছে ফুটবলের মৌলিক ডিজাইনে। বলটির ডিজাইনে এবার বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশের প্রতীক ধারণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নীল রঙের তারকা, কানাডার জন্য লাল রঙের ম্যাপেল পাতা আর মেক্সিকোর জন্য সবুজ রঙের ঈগল। তিন দেশ, তিন রং– এটাই এবারের বিশ্বকাপের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ফুটবল ডিজাইনের প্রধান বৈশিষ্ট্য। ফিফা বিশ্বকাপ বল ট্রাইওন্ডা নকশায় লাল, সবুজ ও নীল রঙের সমন্বয় রয়েছে, যা তিনটি আয়োজক দেশের প্রতিনিধিত্ব বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করবে। বলটিতে প্রতিটি দেশের জন্য আলাদা প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে। এসব নকশাগত উপাদান বিশ্বকাপের আয়োজক তিনটি দেশের জাতীয় পরিচয়কে উপস্থাপন করার সঙ্গে বলটিকে একটি স্বতন্ত্র উত্তর আমেরিকান প্রতীকী বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।

ভিএআর তথ্য ধারণে সেন্সর

বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক ফিফা জানিয়েছে, ট্রাইওন্ডায় বেশ কিছু কারিগরি বৈশিষ্ট্যের মানোন্নয়ন করা হয়েছে। এর চার প্যানেলের গঠন আর গভীর সিম বলের পৃষ্ঠে ভারসাম্যপূর্ণ ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, যা উড়ন্ত অবস্থায় বলের স্থিতিশীলতার নিয়ন্ত্রক হবে। বলটিতে এমন কিছু উঁচু নকশা বা এমবসড আইকন যুক্ত করা রয়েছে, যা খুব কাছ থেকে দেখলে বোঝা যায়। কিন্তু কিছুটা দূরে থেকেও এই নকশার অভিনবত্ব বোঝা সহজ নয়। এসব উপাদান ভেজা বা আর্দ্র আবহাওয়ায় ম্যাচে খেলোয়াড়দের করা প্রতিটি শট, পাস ও ড্রিবলিং করার সময় বলের ওপর ভালো নিয়ন্ত্রণ  ও গ্রিপ নিশ্চিতে সহায়ক হবে।

সিস্টেমে মোশন চিপ

ট্রাইওন্ডার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর ৫০০ হার্টজ মোশন সেন্সর চিপ। এই প্রযুক্তি বলের প্রতিটি ঘুরপাক বেশ নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম। সেন্সরটি রিয়েল টাইমে তথ্য পাঠাবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) সিস্টেমে, যা অফসাইড ছাড়াও কয়েকটি জটিল মুহূর্ত পর্যালোচনায় ম্যাচ কর্মকর্তার বাড়তি সহায়ক হবে।

নির্মাতা অ্যাডিডাস বলছে, আধুনিক নকশা, সর্বাধুনিক প্রকৌশল আর প্রযুক্তির মিশেলে ট্রাইওন্ডা ফুটবল বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম প্রযুক্তিনির্ভর ও ক্রিয়েটিভ ম্যাচ হিসেবে দর্শককে ফুটবল উন্মাদনায় মুখর করবে।

আরও পড়ুন

×