টুইটারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখাল হ্যাকাররা
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও টেসলা সিইও ইলন মাস্কসহ কয়েকজন বিখ্যাত ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে হ্যাকাররা
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২০ | ০৭:২৯ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২০ | ০৮:২১
অনলাইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিরাপত্তাকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জানাল হ্যাকাররা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবচেয়ে শক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার দাবিদার টুইটারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তছনছ করে দিয়েছেন হ্যাকাররা। যুক্তরাষ্ট্রের রথি-মহারথিদের ভ্যারিফায়েড টুইটার একাউন্ট হ্যাক করেছেন তারা। হ্যাকিং এর শিকার হওয়ার তালিকায় আছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, টেসলা সিইও ইলন মাস্ক, অ্যামাজন সিইও জেফ বেজস এবং র্যাপ সংগীত তারকা কেনি ওয়েস্টে।
নিউইয়র্ক টাইমস এবং দ্যা ভার্জের খবরে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ১৫ জুলাই বিকেল চারটার দিকে (বাংলাদেশের স্থানীয় সময় ১৬ জুলাই রাত প্রায় তিনটা) প্রথম হামলা হয় বিল গেটসের একাউন্টে। এরপর একযোগে হ্যাক করা হয় বারাক ওবামা, ইলন মাস্ক সহ অন্যদের একাউন্ট। টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে পরিচালিত এই ভ্যারিফায়েড একাউন্টে হামলা করে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় হ্যাকাররা এবং একাউন্ট ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে বিট কয়েন দাবি করে।
বিল গেটসের টুইটার পেজে হ্যাকারদের পোস্টে দেখা যায়, ১ হাজার ডলার দিন ২ হাজার ডলার ফেরত নিন। এর নিচে বিটকয়েন পাঠানোর ঠিকানা দিয়ে বলা হয়, শুধুমাত্র ৩০ মিনিটের জন্যই এ অফার চলছে। দখলে নেওয়া প্রতিটি অ্যাকাউন্ট থেকে একই রকম পোস্ট দেয় হ্যাকারা। মুহুর্তেই দুনিয়া জুড়ে হৈ চৈ পড়ে যায়। কয়েক হাজার সাধারণ ব্যবহারকারী বিল গেটস, ইলন মাস্কের অফার মনে করে ১২ বিট কয়েন পাঠিয়েছেন, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। তবে মহারথিদের টুইটার একাউন্ট হ্যাক হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিট কয়েন পাঠানোর ওই ঠিকানা ব্লক করে দেয় ডিজিটাল কারেন্সি এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠান কয়েনবেজ। একই সঙ্গে একাউন্টগুলো থেকে টুইট পোস্টের অপশন বন্ধ করে দেয় টুইটার।
সাপোর্ট অ্যাকাউন্ট থেকে টুইটার কর্তৃপক্ষ বার্তা দিয়ে জানায়, ঘটনাটি পর্যবেক্ষণের কারণে কিছু সময়ের জন্য টুইট বা পাসওয়ার্ডও রিসেট করা যাবে না। পরে প্রায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা পর রাত দশটার দিকে একাউন্টগুলো হ্যাকারদের কবল থেকে মুক্ত করে টুইট করার অপশন ফিরিয়ে আনা হয়।
এ ব্যাপারে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরে টুইটারের সিইও জ্যাক সাংবাদিকদের বলেন, টুইটারের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিন। টুইটার কর্তৃপক্ষ বিপর্যস্ত বোধ করছে এবং ঘটনার পেছনে কারা আছে তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
হ্যাক এর ঘটনা সম্পর্কে তিনি জানান, অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এবং নিখুঁত সমন্বয়ের মাধ্যমে এই সাইবার হামলা চালানো হয়েছে। প্রথমে টুইটারের কর্মীদেরকে টার্গেট করে অভ্যন্তরীণ সিস্টেম ও টুলসের দখল নিয়েছে হ্যাকাররা। তারপর বিখ্যাত ব্যক্তিদের টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে টুইট পোস্ট করেছে।
এ ব্যাপারে ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশ হওয়া নিবন্ধনে তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষক র্যাচেল লারম্যান লিখেছেন, টুইটারই এতদিন অনলাইনে সবচেয়ে শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত ছিল। যে কারণে বিশ্বের ক্ষমতাধর ও খ্যাতিমানরা টুইটারকেই বেছে নিতেন। সবচেয়ে বড় কথা, ভ্যারিফায়েড একাউন্টে এই বিস্ময়কর হ্যাকিং প্রমাণ করে দিল, হ্যাকাররা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর কর্মীদের চেয়ে অনেক বেশি প্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষ। টুইটারের এই অবস্থা হলে ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, লিংকড ইনের ব্যবহারকারীদের আরও বেশি শংকিত হওয়ার যথেষ্ট যুক্তি আছে। এই পরিকল্পিত হ্যাকিং যদি দায়িত্বশীল কোনো কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে হয়, সেটা আরও বেশি দুুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে ব্যবহারকারীদের জন্য। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে এবারের হ্যাকিং এর বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।