ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সৌরবিদ্যুতে আলোকিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম ক্লাব

সৌরবিদ্যুতে আলোকিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম ক্লাব
×

ব্লুএনার্জি সলিউশনস ও জিটেক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের সঙ্গে চট্টগ্রাম ক্লাবের সোলার ওপেক্স চুক্তি স্বাক্ষর

টেকলাইফ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ | ১৪:৪৫ | আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ | ১৮:৫২

টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম ক্লাব লিমিটেড। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে তারা ব্লুএনার্জি সলিউশনস লিমিটেড এবং জিটেক ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড কনসোর্টিয়ামের সাথে একটি পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট (পিপিএ) বা বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

এই চুক্তির আওতায়, ওপেক্স সোলার মডেলের অধীনে চট্টগ্রাম ক্লাবের ছাদে একটি ৯৬.৭২ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। ১১ বছর মেয়াদী এই চুক্তির ফলে চট্টগ্রাম ক্লাব বাংলাদেশের প্রথম ‘সোলারাইজড’ বা সম্পূর্ণ সৌরবিদ্যুৎ চালিত সামাজিক ক্লাবের মর্যাদা অর্জন করতে যাচ্ছে।

‘এ ল্যান্ডমার্ক সোলার ওপেক্স পার্টনারশিপ’ শীর্ষক এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম ক্লাবের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সেক্রেটারি কমান্ডার মো. শাহনেওয়াজ কবির, বিএন (অব.)। অন্যদিকে, ব্লুএনার্জি সলিউশনস ও জিটেক ইনফ্রাস্ট্রাকচার কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিত্ব করেন জিটেক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ডি এম আবু বকর সিদ্দিক। এছাড়াও উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন।

এই অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য হলো প্রচলিত জ্বালানির ওপর ক্লাবের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে কমানো এবং জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি। একইসাথে, পরিবেশবান্ধব ও দায়িত্বশীল প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চায় চট্টগ্রাম ক্লাব।

বাংলাদেশে ওপেক্সভিত্তিক সোলার সলিউশন ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে। এই মডেলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, কোনো প্রতিষ্ঠানকে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের জন্য বড় অংকের প্রাথমিক বিনিয়োগ করতে হয় না। ব্লুএনার্জি সলিউশনস এবং জিটেক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ, স্থাপন এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয়, আর গ্রাহক শুধুমাত্র ব্যবহৃত বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করেন।

এই প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত এবং অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে সরাসরি ভূমিকা রাখবে এবং বাংলাদেশের জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

অনুষ্ঠানে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা এই যৌথ উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তারা বাংলাদেশে টেকসই অবকাঠামোর উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থার প্রসারে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চট্টগ্রাম ক্লাবের এই যুগান্তকারী উদ্যোগটি দেশের অন্যান্য সামাজিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি গ্রহণে ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ করবে। একটি সবুজ ও টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে এই ধরনের উদ্যোগ অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে বলে সবার প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন

×