রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ
নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২২ | ০৮:৪৬ | আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২২ | ০৮:৪৯
নরসিংদীতে ২২ বছরের এক কিশোরীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে দু'দিন আটক রেখে ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণের ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকালে ওই কিশোরী নরসিংদী জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবে হাজির হয়ে তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা সেখানকার সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই কিশোরী বাদী হয়ে শহরের পশ্চিম কান্দাপাড়ার মৃত আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে আল আমিন এবং আরও দুজনের নাম উল্লেখ পূর্বক নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা অপর দুই আসামি হলেন- আল আমিন (২) ও হৃদয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ৩১ মার্চ সন্ধ্যায় ভিকটিম তার কর্মক্ষেত্র ন্যাশনাল প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পথে নরসিংদী শহরের উপজেলা মসজিদের সামনের গলি দিয়ে ঢোকার সময় ৩-৪ জন ছেলে মুখ চেপে ধরে তাকে একটি সিএনজিতে তুলে নেয়। সেখান থেকে তাকে নরসিংদীর পশ্চিম কান্দাপাড়া এলাকার ব্রিটিশ বাংলা হাসপাতালের পশ্চিম দিকের একটি গলির ভিতরে মামলার প্রধান আসামি আল-আমিনের বাড়িতে নিয়ে যায়।
সেখানে নিয়ে তাকে আল-আমিনের সাথে শারীরিক মেলামেশা করতে বলে। এতে সে রাজি না হওয়ায় আল-আমিন তাকে শারীরিক নির্যাতন করে টানা ২ দিন ধরে বদ্ধ ঘরে আটকে রেখে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে। শনিবার সকালে আল-আমিন বাইরে গেলে সকাল ৭ টার দিকে ওই কিশোরী সেখান থেকে পালিয়ে আসত সক্ষম হয়।
সেখান থেকে পালিয়ে আসার পর একটি নম্বর (০১৭৯১-৯৭০৬৯৯) থেকে রেহেনা নামে এক নারী তার মোবাইল ফোনে ফোন করে এ ঘটনা কারো কাছে প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন ওই কিশোরী।
তিনি জানান, এসময় মোটা অঙ্কের টাকাও দাবি করেছেন ওই নারী। অন্যথায় ধারণকৃত ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ওই কিশোরীর অভিযোগের ভিত্তিতে এজাহার তৈরি করার পর মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার মেডিকেল পরিক্ষাসহ যাবতীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ভিকটিমকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করাসহ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কিন্তু তাদের সেখানে পাওয়া যায়নি। শীঘ্রই আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে।