মাদ্রাসাছাত্রীকে হোটেলে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২০ | ০৯:৩৯
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের এক মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ করে তিন দিন হোটেলে আটকে রেখে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে অভিযুক্ত যুবককে ফেনী থেকে গ্রেপ্তার করেছে কোম্পানীগঞ্জ থানাপুলিশ।
গ্রেপ্তার মনিরুল ইসলাম তারেক উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াতী ভূঁইয়াবাড়ির নজরুল ইসলাম ওরফে খান সাহেবের ছেলে।
এ ঘটনায় অপহরণের শিকার শিক্ষার্থীর মা রাতেই কোম্পানীগঞ্জ থানায় দু'জনকে আসামি করে মামলা করেন। অন্য আসামি হলো- তারেকের সহযোগী চরকাঁকড়া ইউনিয়নের আহছান উল্যার ছেলে নাহিদ। সে পলাতক। পুলিশ ওই ছাত্রীকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য শনিবার হাসপাতালে এবং জবানবন্দির জন্য নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জের একটি মাদ্রাসার ফাজিল প্রথম বর্ষের ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে মনিরুল ইসলাম তারেকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত বুধবার মেয়েটি মাদ্রাসা থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে তারেক পথরোধ করে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। ছাত্রীটি এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ওই যুবক তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে ফেনীর মহিপালে নিয়ে যায়। সেখানে একটি আবাসিক হোটেলে তাকে আটকে রেখে তিন দিন ধর্ষণ করে। ছাত্রী মাদ্রাসা থেকে বাড়ি না ফেরায় তার অভিভাবকরা কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশকে বিষয়টি জানান। এদিকে, ছাত্রীকে আবাসিক হোটেলে আটকে রেখে তার পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য শুক্রবার বিকেলে এলাকায় আসে তারেক। কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ এ খবর পেয়ে অভিযুক্তকে আটক করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ রাত ৯টার দিকে ফেনীর ওই হোটেল থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোম্পানীগঞ্জ থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক জাকির হোসেন জানান, ছাত্রী অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনায় তার মা দু'জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এর মধ্যে প্রধান আসামি তারেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার তাকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ২নং আমলি আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মেডিকেল পরীক্ষা শেষে ছাত্রীকে শনিবার ৪ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক এসএম মোসলেহ উদ্দিন মিজানের আদালতে জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য পাঠানো হয়।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যজনকে গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা চলমান রয়েছে।
- বিষয় :
- ধর্ষণ
- মাদ্রাসাছাত্রী
- কোম্পানীগঞ্জ
- নোয়াখালী
