চুরি দেখে ফেলায় বাড়িওয়ালাকে গলা কেটে হত্যা
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২০ | ১০:৩০ | আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২০ | ১১:০৩
কুষ্টিয়া শহরতলির ত্রিমোহনী এলাকায় জালাল উদ্দিন (৬৫) নামে এক বাড়িওয়ালাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে এ খুনের ঘটনায় তার ভাড়াটিয়া সাহাবুল ইসলাম (২৭) ও তার স্ত্রী মারিয়াকে (২১) আটক করেছে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে ওই দম্পতি স্বীকার করেছে, বাড়িওয়ালা ঘরে একা থাকার সুযোগে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েই তারা তাকে খুন করেছে। সাহাবুলের বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার নওয়াপাড়ায়।
পুলিশ জানায়, মাত্র কয়েকদিন আগে ত্রিমোহনীতে জালাল উদ্দিনের বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নেয় সাহাবুল ও তার স্ত্রী। অন্য কক্ষে জালাল উদ্দিন স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন। তাদের কোনো সন্তান ছিল না।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাহাবুল জানিয়েছে, একটি বেসরকারি কোম্পানির বিক্রয় কর্মী ছিল সে। সম্প্রতি তার চাকরি চলে যাওয়ায় সংসারে টানাপোড়েন শুরু হয়। একমাত্র বাচ্চার দুধ কেনার সামর্থ্য ছিল না তাদের। এমন পরিস্থিতিতে বাড়িওয়ালার ঘরেই চুরি করার পরিকল্পনা করে সাহাবুল ও মারিয়া। পরিকল্পনা মতো শনিবার সকাল ১১টার দিকে সাহাবুল জালাল উদ্দিনের সঙ্গে গল্প করছিল। এ ফাঁকে মারিয়া জালাল উদ্দিনের ঘরে চুরি করতে ঢোকে। তবে হঠাৎ শব্দ হলে দৌড়ে ঘরে গিয়ে তিনি দেখেন মারিয়া চুরি করছে। এ সময় জালালউদ্দিন প্রতিবাদ করলে সাহাবুল ও মারিয়া বঁটি দিয়ে তাকে গলা কেটে ফেলে নিজেদের ঘরে চলে যায়।
জালালের স্ত্রী রীনা খাতুন জানান, তিনি বাইরে ছিলেন। বাড়িতে এসে দেখেন স্বামীর মৃতদেহ পড়ে আছে।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চুরি দেখে ফেলায় বাড়ির মালিক জালাল উদ্দিনকে দু'জন মিলে বঁটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছে। হত্যার পর পাশের ঘরে চুপচাপ বসে ছিল সাহাবুল ও তার স্ত্রী। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
জালালের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
- বিষয় :
- গলা কেটে হত্যা
- কুষ্টিয়া
