ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

আদালতে স্বীকারোক্তি

প্রেমিকের সহযোগিতায় মাকে হত্যা করে মেয়ে

প্রেমিকের সহযোগিতায় মাকে হত্যা করে মেয়ে
×

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২০ | ১২:৪৯

মানিকগঞ্জ শহরে দক্ষিণ সেওতা এলাকায় গৃহবধূ মাহমুদা বেগমকে হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ।

প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় মা মাহমুদা বেগমকে পরিকল্পিতভাবে প্রেমিককে দিয়ে হত্যা করে মেয়ে জ্যোতি আক্তার। হত্যাকাণ্ডের সহযোগী ছিল প্রেমিক ও তার তিন বন্ধু। মানিকগঞ্জের দক্ষিণ সেওতা গ্রামে গত বুধবার ঘরে ঢুকে গৃহবধূ মাহমুদা বেগম হত্যা মামলায় আটক জ্যোতি আক্তার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ কথা জানায়।

সোমবার বিকেলে আসামি প্রেমিক নাঈম ও তার বন্ধু রাকিব মানিকগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারক শাকিল আহম্মেদের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মানিকগঞ্জ সদর থানার উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) শামিম আল মামুন জানান, গত নভেম্বরে জ্যোতির স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এর মধ্যে ফেসবুকের মাধ্যমে জ্যোতির প্রণয় গড়ে ওঠে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জের আরাকুল গ্রামের নাঈমের সঙ্গে। নিজেরা বিয়ের জন্য প্রস্তুতিও নেয়। কিন্তু জ্যোতির মা মাহমুদা বেগম এতে রাজি ছিলেন না। তিনি মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পাশাপাশি মেয়েকে শাসনও করতেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নাঈমের সঙ্গে পরিকল্পনা করে জ্যোতি মাকেই হত্যার পরিকল্পনা করে। ঘটনার আগের দিন ২১ জানুয়ারি রাতে নাঈম, রাকিবসহ আরও দুই বন্ধু অবস্থান নেয় জ্যোতির শোবার ঘরে। বন্ধুদের ভাড়া করা হয় দেড় লাখ টাকায়। এর মধ্যে জ্যোতি তার স্বর্ণালঙ্কার এবং ১৬ হাজার টাকা দিয়ে প্রাথমিকভাবে কিছু শোধ করে হত্যাকারীদের। রাতেই হত্যার পরিকল্পনা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। ২২ জানুয়ারি সকালে জ্যোতির বাবা জহিরুল ইসলাম আলিয়ার প্রাতঃভ্রমণে বাড়ির বাইরে যান আর মা মাহমুদা বেগম সেলাই মেশিনে কাজ করার জন্য বসেন। এই সুযোগে মাহমুদা বেগমের রুমে ঢোকে নাঈমসহ আরও দু'জন। তারা রুমে ঢুকেই মাহমুদা বেগমকে গলা টিপে হত্যা করে।

হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতির ঘটনা হিসেবে সাজিয়ে ওই সময় বক্তব্য দেয় জ্যোতি আক্তার। তার কথাবার্তায় সন্দেহ হওয়ায় ঘটনার দিনই জ্যোতিকে আটক করা হয়। পরে তার তথ্যের ভিত্তিতে আটক করা হয় নাঈম ও রাকিবকে। অন্য দু'জনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আদালতে হাজির করার পর জ্যোতিকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। আদালতে জ্যোতি রোববার ও অন্য দুই আসামি রাকিব ও নাঈম সোমবার আদালতে ১৬৪ ধারায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

আরও পড়ুন

×