ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

ব্যাংকের প্রতি আস্থার অভাবে বালিশে টাকা রাখে অনেকে

উন্নয়ন সমন্বয়ের আলোচনায় বিআইডিএসের মহাপরিচালক

ব্যাংকের প্রতি আস্থার অভাবে  বালিশে টাকা রাখে অনেকে
×

গতকাল বুধবার রাজধানীতে উন্নয়ন সমন্বয় আয়ােজিত বাজেটবিষয়ক আলােচনায় বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, ব্র্যাক ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক মঈনুদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও বীমা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. শহিদুল ইসলাম জাহিদসহ অন্যরা ফ

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬ | ০৭:২২

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক বলেছেন, ব্যাংক থেকে পাচার হওয়া অর্থ গেছে ডলারে। ডলার বিনিময় হয়েছে টাকার সঙ্গে। বিনিময়ের টাকার একটি অংশ তো কারও না কারও পকেটে আছে। সেই টাকা ব্যাংকে জমা হয় না, যার কারণ ব্যাংকের প্রতি আস্থার অভাব। এ কারণে অনেকে বালিশ থেকে টাকা বের করে না, টাকা লুকিয়ে রাখে। 
গতকাল বুধবার অর্থনৈতিক রূপান্তর ও ব্যাংকিং খাত: বাজেটে ২০২৬-২৭ শীর্ষক এই আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন সমন্বয় রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সভাপতিত্ব করেন উন্নয়ন সমন্বয়ের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. এস এম জুলফিকার আলী। 

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও বীমা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. শহিদুল ইসলাম জাহিদ, ব্র্যাক ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক মঈনুদ্দিন আহমেদ, ব্যাংক এশিয়ার অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জিয়াউল হাসান মোল্লা। ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। 
পাচার প্রসঙ্গে ড. এনামুল হক আরও বলেন, গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির সদস্য থাকার সময় তিনি পাচারের ঘটনা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনেছেন। কানাডায় গিয়ে ডলার দিয়ে আসার ঘটনাও জেনেছেন। তিনি বলেন, পাচারের ডলারের বিনিময়ে যে টাকা দেওয়া হয়েছে সেই টাকা ব্যাংকে জমা হচ্ছে না। কারণ ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থা নেই। বরং জটিল নিয়ন্ত্রণ কাঠামো আছে। করের ওপর কর বসে। অন্যদিকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছয় লাখ কোটি টাকা। এ অবস্থার জন্য কোনো ব্যাংক দায়বদ্ধ হলো না। ব্যাংকারদেরও দায় নিতে হবে। ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে হাত না দিলে এ অবস্থা চলতেই থাকবে। এই আস্থার সংকটও ব্যাংকে টাকা না রাখার অন্যতম কারণ। এ কারণে মানুষ টাকা ব্যাংকে না রেখে লুকিয়ে রাখে। 

ব্যাংক ব্যবস্থায় বিশেষায়িত ব্যাংক স্থাপনের পরামর্শ দেন ড. এনামুল হক। তিনি বলেন, এক সময় শিল্প ব্যাংকসহ এ ধরনের বিশেষায়িত ব্যাংক ছিল। তবে লুটপাট করে তা বিনষ্ট করা হয়েছে। চীনসহ বিভিন্ন দেশের খাতভিত্তিক উন্নয়নে বিশেষায়িত ব্যাংক বেশ ভালোভাবে কাজ করছে। 
ড. এস এম জুলফিকার আলী বলেন, ব্যাংক খাতের দুরবস্থা এমন এক পর্যায়ে এসেছে, ব্যাংকে গিয়ে টাকা পাওয়া যায় না। ব্যাংকিং সুশাসন শক্তিশালী করা, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। এগুলোতে সরকারকে মনোযোগ দিতে হবে। 

আরও পড়ুন

×