ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

ব্যানারে বঙ্গবন্ধুর ছবি না থাকায় সংসদ সদস্যর অনুষ্ঠান বর্জন

ব্যানারে বঙ্গবন্ধুর ছবি না থাকায় সংসদ সদস্যর অনুষ্ঠান বর্জন
×

অনুষ্ঠানের ব্যানার। ছবি-সমকাল

গুরুদাসপুর (নাটোর) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ০৪:৩২ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ০৪:৩২

শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের ব্যানারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি না থাকায় অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মো. আব্দুল কুদ্দুস। তার অনুষ্ঠান বর্জনের পর কলেজে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। 

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার পৌর সদরে অবস্থিত বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজে ঘটনাটি ঘটে।

সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদায় অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত অতিথি মঞ্চ ও সামিয়ানা অপসারণ করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বিক্ষুব্ধভাবে কলেজ ত্যাগ করতে দেখা যায়। অপরদিকে কলেজ ছাত্রলীগ, পৌর ছাত্রলীগ ও উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ কার্যক্রম শেষ করে অবস্থান নেয় কলেজের মাঠে।

জানা যায়, বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজের এইচএসসি ২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কলেজটির অধ্যক্ষ ড. মো. একরামুল হকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুসের। বিশেষ অতিথি হিসেবে নাটোরের জেলা প্রশাসক মো. শামীম আহমেদ ও নাটোর জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুর রহমানের নামও ছিল ব্যানারে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কলেজের বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। গাড়ি থেকে নামার পর মঞ্চের ব্যানারে তাকিয়ে দেখেন ব্যানারে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি নেই। সেই মুহূর্তেই সংসদ সদস্য ক্ষুব্ধ হয়ে কলেজ ত্যাগ করেন। এমপির যাওয়ার পরপরই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করে। 

বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহানুর রহমান সজিব জানান, বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য কলেজে একদল শিক্ষক রয়েছে। তাদের প্ররোচনায় আজকে বিদায় অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি নেই। এ কারণে আমাদের সংসদ সদস্য অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন এবং আমরা বিক্ষোভ করেছি।

কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. একরামুল হক জানান, অনুষ্ঠানে কিছু ত্রুটি ছিল। এ কারণে আজকের মতো অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। কিছু ভুল ছিল ইতোমধ্যেই সেগুলো সংশোধন করা হয়েছে। নতুন করে ব্যানারও তৈরি করা হয়েছে। আশা করছি দুই একদিনের মধ্যে আবার অনুষ্ঠানের দিন তারিখ ঠিক করা হবে। আর বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নের বিষয়ের অভিযোগ মিথ্যা। 

সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. আব্দুল কুদ্দুস সমকালকে বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাকে বিদায় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। বরাবরই আমি প্রতিটি অনুষ্ঠানে সময়ের আগে উপস্থিত হই। কলেজের অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা ছিল ১০টায়। আমি সাড়ে ৯টায় কলেজে উপস্থিত হয়েছিলাম। মঞ্চের দিকে এগিয়ে গিয়ে দেখি ব্যানারে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি নেই। আমি তখনই কলেজ ত্যাগ করি। যে অনুষ্ঠানের ব্যানারে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি থাকে না সেখানে আমার থাকার প্রশ্নই আসে না। তাই আমি অনুষ্ঠান বর্জন করেছি।

আরও পড়ুন

×