স্কুলটি হবে জাতীয় চার নেতার নামে
স্কুলটির নাম পরিবর্তন করে জাতীয় চার নেতার নামে স্কুলের নামকরণ করার ঘোষণা দেওয়া হয় - সমকাল
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২২ | ২২:৪২
গোয়ালন্দের কুশাহাটা চরের শিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল দীর্ঘদিন। এ বিষয়ে সমকালে সংবাদ প্রকাশের পর এ চরে স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা মুন্সি। সেই স্কুলঘর নির্মাণকাজের উদ্বোধন ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার।
উদ্বোধনকালে জেলহত্যা দিবসের কথা স্মরণ করে প্রতিষ্ঠাতা নিজেই তাঁর নাম পরিবর্তন করে জাতীয় চার নেতার নামে স্কুলের নামকরণ করার ঘোষণা দেন। তবে এখনও নাম চূড়ান্ত করেননি বলে জানান চেয়ারম্যান।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন কুশাহাটা চরের দরিদ্র মানুষ একদিকে যেমন স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত, অন্যদিকে এখানকার কয়েকশ শিশু বঞ্চিত শিক্ষার সুযোগ থেকে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পায়াক্ট বাংলাদেশের উদ্যোগে একজন শিক্ষক দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল একটি প্রি প্রাইমারি স্কুল। যে স্কুলে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও ছিল না স্কুলঘরসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। এখানকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তফা মুন্সি। এ লক্ষ্যে এক একর জায়গায় মাটি ভরাট করে স্কুলঘর নির্মাণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় বৃহস্পতিবার। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জাতীয় চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিষ্ঠাতা মোস্তফা স্কুলের নাম বদলে জাতীয় চার নেতার নামে করার ঘোষণা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আবু কায়সার খান, গোয়ালন্দের ইউএনও জাকির হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান চৌধুরী, নারী ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস পারভীন, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার প্রমুখ।
চরের বাসিন্দা আব্দুস সালাম মণ্ডল জানান, এক সময় এই কুশাহাটায় হাসপাতাল, পশু হাসপাতাল, স্কুলসহ রাস্তাঘাট সবই ছিল। ১৯৯৭-৮৮ সালের নদী ভাঙনে সবকিছুই পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। ২০১৪-১৫ সালে ফের চর জেগে ওঠে। তাঁরা অনেকেই আবার সেই চরে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু এখানে এখনও নাগরিক সুবিধা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এনজিও পায়াক্ট বাংলদেশ শিশুদের জন্য একটি প্রি প্রাইমারি স্কুল করলেও তা ছিল নানা সমস্যায় জর্জরিত। এখন উপজেলা চেয়ারম্যান বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন। এ ছাড়া জেলা প্রশাসক কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়ায় তাঁরা অনেক খুশি। তবে এখানকার বাসিন্দারা প্রচুর পরিমাণে গবাদি পশু পালন করে থাকেন। এসব গবাদি পশুর সুচিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই গবাদি পশুর সুচিকিৎসার দাবি জানান তিনি।
উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা মুন্সি বলেন, স্কুলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ৩-৪ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করবেন। বিদ্যালয়টি তাঁর নিজের নামে করার কথা থাকলেও কাকতালীয়ভাবে জেলহত্যা দিবসে এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন হলো। তাই জাতীয় চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি স্কুলটি তাঁদের নামেই প্রতিষ্ঠা করবেন।
জেলা প্রশাসক আবু কায়সার খান স্কুল নির্মাণের কাজকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, স্কুলের একটি কক্ষে কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম শুরুর ব্যবস্থা করা হবে। তবে পশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা সময়ের ব্যাপার, তাই প্রতি সপ্তাহে যাতে একজন চিকিৎসক চরবাসীর গবাদি পশুর চিকিৎসা দেন, সে বিষয়ে সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি।
- বিষয় :
- জাতীয় চার নেতা
- স্কুল নির্মাণ