ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সর্দার পালানোয় ইটভাটায় শ্রমিককে শিকলে বেঁধে নির্যাতন

সর্দার পালানোয় ইটভাটায় শ্রমিককে শিকলে বেঁধে নির্যাতন
×

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৮:৪৫

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় এক ইটভাটা শ্রমিককে শিকলে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় মেসার্স এএসবি ব্রিকস নামে ইটভাটার একটি গোপন কক্ষে আটকে রেখে তিন দিন ধরে তাকে নির্যাতন করা হয়। ভাটা মালিক আবদুর রহিম মোল্লার ছেলে আলমগীর মোল্লা ও তার ভাতিজা ছাবলু যৌথভাবে নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার রাম বসাকের বাবা 

এ ঘটনায় শনিবার গুরুদাসপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পরে বিকেলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

রাম বসাক জানান, তিনি উপজেলার শাহাপুর গ্রামের আবদুর রহিম মোল্লার ইটভাটায় মাটি তৈরির কাজ করেন। অভাবে পড়ে বর্ষা মৌসুমে ১৫ হাজার টাকার অগ্রিম শ্রম বিক্রি করেছিলেন তিনি। তাও সিরাজুল ইসলাম নামের এক সর্দারের মাধ্যমে। চার মাস আগে কাজ শুরু করে ১৫ হাজার টাকা শোধ করেছেন। কিন্তু সর্দার সিরাজুলসহ কিছু শ্রমিক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাহাপুর গ্রামের আবদুর রহিম মোল্লার মেসার্স এএসবি ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা রয়েছে। তবে সেটির পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। অবৈধভাবে ইটভাটা চালানোয় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ইউএনও তাকে এক লাখ টাকা জরিমানাও করেন। এই ভাটায় অগ্রিম শ্রম বিক্রি করেছিলেন তাড়াশ উপজেলার ছুটু বসাকের ছেলে রাম বসাক। ওই উপজেলারই শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম এ ইটভাটার শ্রমিক সর্দারের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ভাটা মালিক আবদুর রহিম মোল্লা দাবি করেন, তার ভাটায় কাজ করার জন্য শ্রমিক সর্দার সিরাজুল অগ্রিম ১৫ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানোর মাধ্যমে ৯ লাখ টাকা পরিশোধ করে পালিয়েছেন। তবে যাকে শেকলে বেঁধে রাখা হয়েছিল তিনি শ্রমিক হলেও সর্দারকে ধরতেই তাকে আটকে রাখা হয়।

রাম বসাকের বাবা অভিযোগ করেন, কাজের জন্য শ্রমিক সর্দারের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছিলেন তার ছেলে। সেই টাকা পরিশোধ হলেও ছেলেকে তিন দিন ধরে শিকলে বেঁধে নির্যাতন চালানো হয়েছে।

গুরুদাসপুর থানার ওসি মোজাহারুল ইসলাম বলেন, নির্যাতনের শিকার শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×