৬৯ লাখ টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা ব্যাংকের এজেন্ট ও কর্মচারী
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৪:৩৬ | আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৪:৩৬
খুলনার আড়ংঘাটা বাজারে ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের (ডিবিবিএল) এজেন্ট আউটলেট 'মুন মানহা' চালু হয়। ভালোভাবেই চলছিল এই এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা। তবে সম্প্রতি গ্রাহকদের অন্তত ৬৯ লাখ টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছেন ব্যাংকটির এজেন্ট সোহেল মাহমুদ, শাখা ক্যাশিয়ার আবদুল হান্নান ও কর্মচারী পলি খাতুন। চলতি মাসের প্রথম দিক থেকেই তালা ঝুলছে ওই এজেন্ট ব্যাংকিং অফিসে। এতে বিপাকে পড়েছেন ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার গ্রাহকরা।
স্থানীয়রা জানান, এজেন্ট সোহেল মাহমুদ নগরীর দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়ার শুকুর আলীর ছেলে। ক্যাশিয়ার আবদুল হান্নানের বাড়ি ফুলবাড়িগেট এলাকায় এবং কর্মচারী পলি খাতুনের বাড়ি আড়ংঘাটায়। এলাকার কামাল হোসেন ১০ লাখ, রাজা শেখ ১৯ লাখ, শহিদুল ইসলাম ৫ লাখ, মুক্তি খাতুন ২ লাখ, আবুল কালাম ৫ লাখ, এনামুল ৮৭ হাজার, জি এম আশরাফ হোসেন ৮৯ হাজার, ফারুক সরদার ৫০ হাজার, নাজমুল শেখ ৫০ হাজার টাকা জমা রেখেছিলেন ওই এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যালয়ে। তারা এখন টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। এছাড়া ওই কার্যালয়ে স্ট্যাম্পে চুক্তির মাধ্যমে টাকা জমা নিয়ে লাখ টাকায় মাসে এক হাজার টাকা লভ্যাংশ দেওয়া হতো। অনেকে এভাবেও টাকা রাখেন। লেখাপড়া কম জানা কিছু গ্রাহক এটাকে ব্যাংকিং কার্যক্রম মনে করতেন।
প্রতারণার শিকার কামাল হোসেন বলেন, তার এজেন্ট ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে প্রায় ১০ লাখ টাকা জমা রয়েছে। কিন্তু ৬ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ দেখেন এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যালয় তালা ঝুলছে। এরপর ওইদিন তিনি ব্যাংকের দৌলতপুর শাখায় গিয়ে স্টেটমেন্ট তুলে দেখেন তার অ্যাকাউন্টে মাত্র এক হাজার টাকা আছে। এ ব্যাপারে ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি ডিবিবিএল এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের খুলনা শাখায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। কিন্তু এখনও এর কোনো সুরাহা হয়নি।
ডিবিবিএল এজেন্ট ব্যাংকিং এর খুলনা সিটির মাস্টার এজেন্ট জহির উদ্দিন জানান, গত ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে আড়ংঘাটায় ওই এজেন্ট কার্যালয় বন্ধ দেখতে পান। দুটি নম্বরে ফোন করে এজেন্ট সোহেল মাহমুদকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার বাড়িতে গিয়েও পাওয়া যায়নি তাকে। এ ঘটনায় গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি আড়ংঘাটা থানায় জিডি করেছেন।
এ দিকে শনিবার অজ্ঞাত স্থান থেকে মোবাইল ফোনে এজেন্ট সোহেল মাহমুদ বলেন, ক্যাশিয়ার আবদুল হান্নান গ্রাহকদের ৪০ লাখ এবং তাঁর ৪২ লাখ টাকা হাতিয়ে পালিয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি গত ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে মামলা করেছেন। সোহেলের দাবি, তিনি কোনো টাকা আত্মসাৎ করেননি। খুলনাতেই আছেন। এই শাখায় মোট কতজন গ্রাহকের কত টাকা জমা আছে জানতে চাইলে সোহেল বলেন, আমার কাছে সব হিসাব নেই। হিসাব রয়েছে আবদুল হান্নানের কাছে। ব্যাংক কর্মচারী আবদুল হান্নান ও পলি খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে ডিবিবিএলের সিনিয়র সেলস ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মালিক তার প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে এবং তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তবে ওই এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় মোট কত গ্রাহকের কত টাকা জমা রয়েছে সে হিসাব তাদের কাছে নেই।
এ ব্যাপারে আড়ংঘাটা থানার ওসি মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যালয় বন্ধ এবং মালিক নিখোঁজ থাকার বিষয়ে থানায় জিডি হয়েছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি।
