ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

স্লুইস গেটের অভাবে বিপুল জমি অনাবাদি

স্লুইস গেটের অভাবে বিপুল জমি অনাবাদি
×

লাছগাঙ নদীতে স্লুইস গেট নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে পাউবোর প্রতিনিধি দল - সমকাল

নূরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৩ | ০৬:৪২

কাউয়াদীঘি হাওরের লাছগাঙ নদীতে স্লুইসগেটের অভাবে মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার অন্তত ৩০০ থেকে ৪০০ একর বোরো জমি প্রতিবছর অনাবাদি পড়ে থাকছে। সেচ সমস্যায় আবাদের আওতায় আসছে না এই বিপুল পরিমাণ জমি। সেচ সমস্যা দূর করতে শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানির ধারণ ক্ষমতা বাড়াতে লাছগাঙে একটি স্লুইস গেট স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

জানা যায়, মনু নদের একটি শাখা লাছগাঙ নাম ধারণ করে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বলিয়ারভাগ হয়ে প্রায় ১২ কিলোমিটার অতিক্রম করে কাউয়াদীঘি হাওরে পতিত হয়েছে। এ গাঙের কাউয়াদীঘি হাওরে বড়কাপন, রসুলপুর, রায়পুর, বুড়িকোণা, বিরাইমাবাদ, খৈসাউড়া, করমউল্লাহপুর, বানেশ্রী, পাড়াশিমইল, কান্দিগাঁওসহ ১৫ থেকে ২০টি গ্রামের মানুষের হাজার হাজার একর বোরো জমি রয়েছে। হাওরের উপরিভাগে  ৩০০ থেকে ৪০০ একর জমি শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে অনাবাদি থেকে যাচ্ছে।

রসুলপুর গ্রামের মুহিব খান, ফারুক মিয়াসহ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সেচ সমস্যার কারণে বছরের পর বছর ধরে  দেড় হাজার কিয়ার  (বিঘা) জমি অনাবাদি পড়ে আছে। এক কিয়ার জমিতে ১৮ থেকে ২০ মণ ধান উৎপাদন হয়। এ হিসাবে বছরে অন্তত ২৫ হাজার মণ ধান উৎপাদন থেকে বঞ্চিত এলাকার কৃষকরা।

এসব অনাবাদি জমি আবাদের আওতায় আনার লক্ষ্যে মৌলভীবাজার হাওর রক্ষা সংগ্রাম কমিটি, ইটা সমাজকল্যাণ সংস্থা ও স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা লাছগাঙের রাজনগর উপজেলার বোয়ালিয়ারকাড়া নামক স্থানে একটি স্লুইস গেট স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবালের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বোয়ালিয়াকাড়া এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে স্লুইস গেট স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করে।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন জেলা পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রাকিল রায়হান ও উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সাকিব হোসেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার হাওর রক্ষা সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুনেদ আহমদ চৌধুরী, সদর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজন আহমদ ও স্থানীয় সাংবাদিকরা।

জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, বিশাল এলাকা জুড়ে অনাবাদি জমি পড়ে আছে। এ সব আবাদের আওতায় আনা গেলে হাজার হাজার মণ ধান উৎপাদন সম্ভব হবে। সেচ সমস্যা উত্তোরণে কাউয়াদীঘি হাওরের বোয়ালিয়ারকাড়ার উজানে লছগাঙে স্লুইস গেট কিংবা রাবারড্যাম স্থাপন করা যেতে পারে।

পাউবোর বিশেষজ্ঞরা জানান, স্লুইস গেট স্থাপনের জন্য লাছগাঙের দুই দিকে অন্তত ৭ কিলোমিটার করে ১৪ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণসহ কমপক্ষে ৬-৭ কোটি টাকা খরচ হবে। রাবারড্যামে খরচ হতে পারে আড়াই থেকে ৩ কোটি টাকা। এ বিষয়টি প্রতিবেদন আকারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে শিগগির পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন

×