ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

খাদ্যসামগ্রী দিয়ে দোকান বন্ধ রাখতে বললেন ইউএনও

খাদ্যসামগ্রী দিয়ে দোকান বন্ধ রাখতে বললেন ইউএনও
×

ছবি: সমকাল

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২০ | ০১:৫৫ | আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২০ | ০১:৫৭

পটিয়ার কচুয়াই ইউনিয়নের ক্রশালা ঘোষপাড়া এলাকার স্বপ্না ঘোষ (৪৫) । স্বামী কাজে অক্ষম হয়ে পড়ার পর তিন মেয়েকে নিয়ে শুরু হয় তার সংগ্রামী জীবন। সংসার চালাতে ওই এলাকায় একটি ঝুপড়ি চায়ের দোকান চালিয়ে আসছিলেন স্বপ্না। এ চায়ের দোকানটিই তার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারের পক্ষ থেকে জনসমাগম ঠেকাতে দোকানপাট বন্ধের নির্দেশনা দেওয়ায় স্বপ্নার মতো অনেকেরই রুটি-রুজি বন্ধ হয়ে যায়।

অভাবের কারণে বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার সকালে দোকান খুলে চা বিক্রি করা শুরু করেন স্বপ্না। এতে সেখানে জনসমাগম সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পটিয়া উপজেলা প্রশাসন ওই এলাকায় যান।

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা জাহান উপমা দোকানে উপস্থিত হলে ঝর ঝর করে কেঁদে ফেলেন স্বপ্না। বলতে থাকেন, ‘গত চার বছর ধরে চা বিক্রি করে কোনোমতে সংসার চালিয়ে আসছি। দোকান বন্ধ করে দিলে আমরা কিভাবে চলবো?’

এক পর্যায়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের দেওয়া খাদ্যসামগ্রী স্বপ্নার হাতে তুলে দেন ইউএনও উপমা। এতে রয়েছে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ৩ কেজি আলু। স্বপ্নাকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘এখানে আপনার পরিবারের জন্য দশদিনের খাদ্যসামগ্রী আছে। আপনার আর কষ্ট করে দোকানে আসতে হবে না। এসব খাবার শেষ হলে আমার সঙ্গে আবার যোগাযোগ করবেন। আমি প্রশাসনের পক্ষ থেকে আপনাদের খাবারের ব্যবস্থানিশ্চিত করবো।’

পটিয়া উপজেলায় যেসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পেটের দায়ে দোকান খোলা রাখছিলেন এভাবে তাদের হাতে খাবার তুলে দিয়ে দোকান বন্ধ রাখতে বলেন ইউএনও। মঙ্গলবার পটিয়ার ১৭ ইউনিয়নে ৪৫টি পরিবারের হাতে খাবার তুলে দেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে ইউএনও ফারহানা জাহান উপমা সমকালকে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে উপজেলা প্রশাসন হাটে-বাজার ও রাস্তাঘাটে জনসমাগম কমাতে তৎপরতা চালিয়ে আসছে। এর অংশ হিসেবে সরকারি উদ্যোগে এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের হাতে এক সপ্তাহের  খাবার তুলে দিয়েছি।


আরও পড়ুন

×