ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

পথযাত্রাপালায় মুগ্ধতা

পথযাত্রাপালায় মুগ্ধতা
×
×

নাটোরের দিঘাপতিয়া রাজবাড়ির রাজপথে যাত্রাপালায় উৎসুক জনতার ভিড় -সমকাল

নাটোর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৩ | ১৮:০০

নাটোরের দিঘাপতিয়া রাজবাড়ির সামনে রাজা-রানীকে দেখে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ছেন পথচারীরা। শিশুসহ সব বয়সী মানুষ ভিড় করছেন একনজর দেখার জন্য। রাজকীয় পোশাক পরা অবস্থায় রাজা-রানীকে দেখে তাঁরা নিজেদের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছেন না। পাইক-পেয়াদাসহ রাজা-রানী দিঘাপতিয়া রাজবাড়ির প্রবেশ পথের সামনে দরবার বসিয়ে রাজকর্ম পরিচালনা করছিলেন। আসলে এসব ছিল ‘নবাবের দরবারে কপিলা’ নামের একটি যাত্রাপালার অংশ।

গত সোমবার ঘণ্টাখানেকের এই পথযাত্রাপালা উপভোগ করতে দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি, যা বর্তমানের উত্তরা গণভবনের সামনে জড়ো হয়েছিলেন হাজারো মানুষ। রাজা-রানী ও পথযাত্রাপালা শিশুদের আনন্দ জোগায়। যাত্রাপালা কাকে বলে উপস্থিত শিশুদের কাছে ছিল জানা। তারা রাজা-রানীকে দেখে মহাখুশি হয়।

মায়ের হাত ধরে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরছিল পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া মাফিউর। রাজা-রানীকে দেখে সে তার মাকে নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। যাত্রাপালা সম্পর্কে কিছুই জানত না সে। রাজা-রানীদের কথা জেনেছে বইপুস্তকে। আজ নিজের চোখে দেখে ভালো লেগেছে। যাত্রাপালা দেখেও আনন্দ পেয়েছে। হাসিব নামের এক স্কুলশিক্ষার্থী জানায়, সে তার মায়ের ফোনে ওই যাত্রাপালা ভিডিও করেছে। স্কুলের বন্ধুদের দেখাবে সে। তারাও জানে না যাত্রাপালা কি?

পথের ধারে যাত্রাপালা দেখতে পেয়ে ভালো লেগেছে বলে জানালেন রিকশাচালক আবু জাফর। প্রবীণ এক স্কুলশিক্ষক বলেন, দীর্ঘদিন পরে এমন আয়োজন দেখে অনেক স্মৃতি মনে পড়ে গেল।

দিঘাপতিয়া গ্রামের বাসিন্দা প্রবীণ খয়ের উদ্দিন জানান, যাত্রাপালাটি বেশ ভালো লেগেছে। ছোটবেলা থেকে বহু যাত্রাপালা দেখেছেন। কালক্রমে যাত্রাপালা এখন হারিয়ে গেছে। প্রায় দুই যুগ পরে এমন আয়োজন দেখে মনে প্রফুল্লতা এলো। হৃদয়ের জানালায় অনেক স্মৃতি উঁকি দিয়েছে।

দিঘাপতিয়া রাজবাড়ির সামনে সংগীতাঙ্গন নাটোর আয়োজিত এই পথযাত্রাপালা ‘নবাবের দরবারে কপিলা’ সবাইকে বিমোহিত করে। যাত্রাপালাটির নির্দেশনায় ছিলেন কলেজশিক্ষক পালাকার ফারুক হোসেন। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন অপূর্ব রাহুল, সোহানা রিতি, শাহনাজ বীথি, সুকুমার সরকার, সাদেক ঘরামি, অজয় কুণ্ডু, কমসেত আলী, দুলাল হোসেন, সাদেক ঘরামি, শামসুল আলম, আব্দুর রহিম, সাব্বির, ইয়াছিন, সোহাগ, প্রেমা প্রমুখ।

নাটোরের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মো. ইসহাক আলী বলেন, ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের সাক্ষী, আবহমান গ্রামবাংলার মাটি ও মানুষের অন্তরে গাথা এই যাত্রাপালা। যেটি অপসংস্কৃতি, অবহেলা, অনাদরে বিলীন হওয়ার পথে।

আরও পড়ুন

×