নোয়াখালীতে করোনার উপসর্গ থাকা নারীকে নিয়ে উধাও পরিবার
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২০ | ০৩:১৬
করোনাভাইরাসের উপসর্গ জ্বর, সর্দি, গলা ব্যথা নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সযোগে টাঙ্গাইল থেকে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে এসেছিলেন এক নারী। এ নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে কানাঘুষার একপর্যায়ে ওই নারীসহ তার পরিবারের লোকজন এলাকা ছেড়ে উধাও হয়ে গেছে।
শনিবার সকালে উপজেলার মুসাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুসাপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আহসান উল্যা ভুট্টু জানান, বাংলাবাজার এলাকার মো. ইউসুফের নাতনী (৩০) টাঙ্গাইলে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে গত ১৫ দিন ধরে ভুগছিলেন। সেখান থেকে শনিবার সকালে একটি অ্যাম্বুলেন্স যোগে তাকে বাংলাবাজার এলাকায় নিজ বাড়ীতে আনা হয়। ওই নারীর স্বজনরা তার জন্য স্থানীয় একটি মসজিদে দোয়া করাতেও যান। এদিকে সকালে বাড়িতে অ্যাম্বুলেন্স দেখে ওই নারী করোনা আক্রান্ত সন্দেহে স্থানীয় লোকজন কানাঘুষা করতে থাকেন। এরই এক ফাঁকে বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে ইউসুফ পরিবারের ১০ সদস্য এলাকা ছেড়ে উধাও হয়ে গেছেন। কোথায় গেছেন তা কেউ জানে না।
এ ঘটনার পর এলাকায় করোনা ভাইরাস আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ধারণা করছেন, হয়তো লকডাউনে পড়ার ভয়ে তারা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ওই পরিবারের লোকজনের কাছ থেকে গোটা এলাকায় ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে লোকজন। ওই নারী টাঙ্গাইলে করোনার উপসর্গ নিয়ে ভোগার পর এলাকায় আসেন। সকালে হঠাৎ করে তারা বাড়ী ছেড়ে উধাও হওয়ার কারণে আরো বেশি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফয়সাল আহমেদ বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের কাছ থেকে বিষয়টি জেনেছেন। যে মসজিদে ওই নারীর স্বজনরা ঢুকেছিলেন, সেটি জীবানুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওই পরিবারের লোকজনকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
- বিষয় :
- সারাদেশ
- করোনাভাইরাস উপসর্গ
