ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

২০ কৃষকের নলকূপ আ. লীগ নেতার নামে

২০ কৃষকের নলকূপ আ. লীগ নেতার নামে
×

ফাইল ছবি

পাবনা অফিস

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৩ | ১৮:০০

ভাঙ্গুড়ায় ২০ কৃষকের টাকায় স্থাপন করা গভীর নলকূপের লাইসেন্স নিজের নামে করে নিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ। পরে কৃষকদের মালিকানা থেকে বাদ দিয়েছেন। মালিকানা ফিরে পেতে ভুক্তভোগী কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

২০০৮ সালে পাথরঘাটা গ্রামে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমেদসহ ২০ জন কৃষক ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে বোরো চাষের জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন করেন। নলকূপ স্থাপন করা হয় শামীম আহমেদের জমিতে। সে সময় নলকূপের বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয় আরেক সদস্য নাসির উদ্দিনের নামে। ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সদস্যদের টাকায় জমিতে পানি সরবরাহের পাইপলাইনও করা হয়। গত বছর নাসির উদ্দিন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে সমিতি থেকে বেরিয়ে আসেন। পুনরায় সংযোগ পেতে সেচ কমিটির লাইসেন্স ও নাসির উদ্দিনের সংযোগ হস্তান্তর প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হয়। কিন্তু নাসির তা দেননি। এতে চলতি বোরো মৌসুমে বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া নিয়ে সংকট সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় শামীম আহমেদ প্রভাব খাটিয়ে গোপনে নিজের নামে উপজেলা সেচ কমিটি থেকে বিএডিসির লাইসেন্স ও পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ নেন। এদিকে এই গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় দেড়শ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে শামীমসহ ২০ সদস্যের স্বাক্ষরিত মালিকানা ও অঙ্গীকারনামা লেখা হয়। তবে সেই অঙ্গীকারনামা এখন আর মানছেন না শামীম আহমেদ। গত ফেব্রুয়ারি মাসে সংযোগ চালু হওয়ার পরই শামীম আহমেদ অর্ধেক সদস্যকে বাদ দেন। সে সময় উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় বিষয়টি সুরাহা হয়। সম্প্রতি শামীম আহমেদ গভীর নলকূপের একক মালিকানা দাবি করে আগামী মৌসুমে কাউকে সঙ্গে রাখবেন না বলে জানিয়ে দেন। এতে নিরুপায় ১৫ কৃষক ইউএনওর কাছে তাঁদের মালিকানা ফিরে পেতে লিখিত অভিযোগ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযোগকারী ১৫ কৃষক ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীম আহমেদকে নিজ কার্যালয়ে ডাকেন। তবে শামীম আহমেদ সেখানে যাননি।

গভীর নলকূপের একজন অংশীদার কামরুজ্জামান বলেন, ‘সবাই টাকা দিয়ে গভীর নলকূপ করলাম। এখন শামীম আহমেদ নিজের বলে দাবি করছেন। কারও কাছে কোনো অভিযোগ করে লাভ হবে না বলেও দাম্ভিকতা দেখাচ্ছেন।’

অভিযোগ অস্বীকার করে শামীম আহমেদ বলেন, ‘নলকূপ আগে যাঁর নামে ছিল, তিনি মারা যাওয়ার পর সবাই মিলে আমার নামে করে দিয়েছে। এতে আমার কী দোষ?’

এ বিষয়ে উপজেলা বিএডিসি অফিসের সদ্য বিদায়ী উপসহকারী প্রকৌশলী ইয়াকুব আলী সমকালকে বলেন, ‘আমি জানি কয়েকজন কৃষক মিলে এই নলকূপ বসিয়েছেন। তবে সমিতির নামে লাইসেন্স না হয়ে লাইসেন্সটি হয়ে গেছে শামীম আহমেদের নামে। এখন আমার কিছু করার নেই। কৃষকরা অভিযোগ দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যবস্থা নিতে পারেন।’

ইউএনও ও উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি নাহিদ হাসান খান বলেন, সব মালিকের সঙ্গে সমন্বয় করে শামীম আহমেদ প্রকল্প চালাবেন– এ শর্তে তাঁর নামে লাইসেন্স দেওয়া হয়। এখন তিনি শর্ত মানছেন না। অভিযোগ পেয়ে সমঝোতার উদ্দেশ্যে কৃষক ও শামীম আহমেদকে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তিনি আসেননি। এখন তদন্ত করা হবে। প্রয়োজন হলে লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

আরও পড়ুন

×