২০ টাকাতেও দুধ বিক্রি হচ্ছে না
পটিয়া (চট্টগ্রাম) ও বিরামপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২০ | ২১:৩৮ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান, শিকলবাহা, জুলধা, চরপাথরঘাটা ও চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে আট শতাধিক ডেইরি খামার রয়েছে। এর মধ্যে শিকলবাহা এলাকায় সাড়ে ৭০০ খামার রয়েছে। এখান থেকে ৭০ হাজার লিটার দুধ উৎপাদন হয়। বর্তমানে করোনা সংক্রমণ চলায় এ দুধ নিয়ে বিপাকে রয়েছেন খামারিরা। তারা উৎপাদিত দুধ এখন খোলাবাজারে স্বল্পমূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। লিটারপ্রতি ৭০ টাকার দুধ এখন ২০ টাকায়ও বিক্রি করা যাচ্ছে না। এদিকে, নষ্ট দুধ ফেলে দিতে হচ্ছে খালে।
গত সোমবার সকালে শিকলবাহা মাস্টারহাট বাজারে দুধ নিয়ে হাজির হন রফিক। ক্রেতা না পেয়ে তিনি প্রতি লিটার দুধ ২০ টাকা করে বিক্রির ঘোষণা দিলেও কিনতে দেখা যায়নি কাউকে। তিনি বলেন, মিষ্টির দোকান ও চা স্টল বন্ধ এবং হাট-বাজারে লোক সমাগম কমে যাওয়ায় খোলাবাজারে খুচরা দুধের চাহিদা কমে গেছে। তাই খামারে উৎপাদিত দুধ প্রতিদিন এ হাটে এনে বিক্রি করি। কিন্তু যে দুধ প্রতি লিটার ৭০ টাকায় খুচরা বাজারে বিক্রি হতো, আজ সেই দুধ লিটারপ্রতি ২০ টাকায় বিক্রি করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন বেচে যাওয়া ৬০ লিটার দুধ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ফেলে দিতে হচ্ছে।
শুধু রফিক নন, পুরো কর্ণফুলী উপজেলার সাড়ে ৭০০ খামারির এখন একই অবস্থা। শিকলবাহা এলাকার শাহনাজ ডেইরি ফার্মের স্বত্বাধিকারী ও দক্ষিণ জেলা ডেইরি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারুন চৌধুরী বলেন, "আমার খামারে প্রতিদিন উৎপাদন হয় আড়াইশ' লিটার দুধ। আজকে দুধ বিক্রি হয়েছে ১৮০ লিটার। বাকি ৭০ লিটার দুধ নষ্ট হওয়ায় শিকলবাহা খালে ফেলে দিয়েছি।"
তিনি আরও বলেন, দুধ বাজারজাত স্বাভাবিক রাখতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দিয়েছি। কর্ণফুলীর ইউএনও মোহাম্মদ নোমান হোসেন বলেন, 'মন্ত্রী ও উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। বিষয়টি প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকেও জানানো হয়েছে। অতি দ্রুত খামারিরা সংকট থেকে কেটে উঠবেন।
এদিকে, দিনাজপুরের বিরামপুরে ক্রেতা হারিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন দুগ্ধ খামারিরা। হোটেল-রেস্তোরাঁসহ দোকানপাট বন্ধ এবং হাট-বাজারে লোকজনের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ২৫ টাকা লিটারেও দুধ বিক্রি করা যাচ্ছে না। এদিকে বেড়েছে গোখাদ্যের দাম। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, পৌরসভা ও উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ৪৫টি দুগ্ধ খামার রয়েছে। খামারিদের অধিকাংশই বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে খামার গড়ে তোলেন। এ খামারগুলো থেকে দৈনিক ৩৫০ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। খামারিরা এসব দুধ ব্র্যাক অফিস, বিভিন্ন হোটেল এবং দোকানে সরবরাহ করে থাকেন। ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত খুচরা মূল্যে দুধ বিক্রি করা হলেও এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ২৫ টাকায়।
খামারি মামুন জানান, খামারে গাভীর খাবার ও পরিচর্যা বাবদ তাদের দুই হাজার ৫০০ টাকা খরচ পড়ে। দুধ বিক্রি করে সেই টাকা থেকে গরুর খাবারের জন্য ব্যয় করা হয়। এখন বিক্রি না হওয়ায় ঋণ করে খরচ চালাতে হচ্ছে। এ দুধ আমরা না পারছি সংরক্ষণ করতে, না পারছি বিক্রি করতে।
খামারিদের এ দুর্দশার কথা স্বীকার করে বিরামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ইদ্রিস আলী বলেন, সরকারিভাবে এ বিষয়ে আমরা এখনও কোনো রকম নির্দেশনা পাইনি। নির্দেশনা পেলে আমরা খামারিদের পাশে থেকে যথাযথ ব্যবস্থ্যা গ্রহণ করব। বিরামপুর ডেইরি ফার্মার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম ফারুক বলেন, দুধ বিক্রি করতে না পারায় খামারের কর্মচারীদের বেতন দেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন আমার সাত হাজার টাকার ক্ষতি হচ্ছে। অন্য খামারিদেরও একই অবস্থা।
