ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

টিফিনের জমানো টাকায় দরিদ্রদের খাবার দিলেন ছাত্রী আস্থা

টিফিনের জমানো টাকায় দরিদ্রদের খাবার দিলেন ছাত্রী আস্থা
×

দরিদ্রদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন ছাত্রী আস্থা- সংগৃহীত

ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২০ | ০৯:২৯ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

করোনাভাইরাসের প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া এক হাজার মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন নীলফামারীর ডোমার পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ময়নুল হক মনু।

গরিব মানুষের প্রতি বাবার ভালোবাসা দেখে মেয়ে আবিরা হক আস্থা গত বৃহস্পতিবার নিজের দশম জন্মদিনে কেক না কেটে গরিবদের সহায়তা করার সিদ্ধান্ত নেয়। নিজের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে জমানো মাটির ব্যাংকটি ভেঙে ফেলে বড় বোন মৌয়ের সহায়তায়। টাকা হয় আড়াই হাজার। আস্থা বাবা ময়নুল হকের কাছে আবদার করে- 'বাবা আমার এবারের জন্মদিনে কোনো কেক কাটব না। কোনো অনুষ্ঠান বা ভালো খাবারের আয়োজনও করব না। আমি ব্যাংক ভেঙে আড়াই হাজার টাকা পেয়েছি। আর আমার জন্মদিনে তুমি যা খরচ করো, সেই টাকা দিয়ে আমিও তোমার মতো গরিব মানুষকে চাল, ডাল ও আলু দিতে চাই।'

মেয়ের গরিব মানুষের প্রতি ভালোবাসা দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে বাবা ময়নুল ওই আড়াই হাজার টাকার সঙ্গে আরও সাড়ে সাত হাজার টাকা দিয়ে চাল, ডাল ও আলু কিনে আনেন। সেগুলো দিয়ে দুই বোন আস্থা ও মৌ ৪০টি প্যাকেট করে। সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে জন্মদিনের কেক না কেটে আশপাশের ৪০ জন গরিব মানুষের হাতে খাবারের প্যাকেট তুলে দেয় আস্থা।

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী আস্থা জানায়, 'করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের স্কুল বন্ধ। সারাদিন টিভিতে দেখি বিভিন্নজন গরিব মানুষদের খাদ্য সহায়তা করছে। আমার বাবাও অনেক মানুষকে সহায়তা করেছেন। তাই আমিও সিদ্ধান্ত নিই- আমার টিফিনের জমানো টাকা আর জন্মদিনের খরচের টাকা দিয়ে গরিব মানুষকে সাহায্য করব।'

আস্থার বাবা ডোমার পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ময়নুল হক মনু জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সব নেতাকর্মীকে কর্মহীন মানুষের পাশে থাকার কথা বলেছেন। নেত্রীর আদেশ মেনে আমি এ পর্যন্ত এক হাজার মানুষকে খাদ্য সহায়তা করেছি। আমার এ কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে আমার ছোট মেয়ে যখন আমাকে এসে বলে, বাবা আমার জমানো আড়াই হাজার টাকা ও জন্মদিনের খরচের টাকা মিলিয়ে গরিব মানুষকে তোমার মতো সহায়তা করতে চাই। তখন আমার চোখের কোণে পানি চলে আসে। আমি সব কাজ ফেলে দশ হাজার টাকার চাল, ডাল ও আলু কিনে বাড়িতে এনে দিই।

খাদ্য সহায়তা নিতে আসা গরিব মানুষেরা জন্মদিন উদযাপন না করে এ আয়োজন করার কথা শুনে আস্থার জন্য দোয়া করেন। অনেকে আবার কাঁদতে কাঁদতে আস্থার মঙ্গল কামনা করে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে চলে যান।



আরও পড়ুন

×