খুনের আসামি পুলিশের উঠান বৈঠকের বিশেষ অতিথি
চট্টগ্রামে খুনের মামলার আসামিরা পুলিশের উঠান বৈঠকে অতিথি। সাদা টি-শার্ট পরা আজগর আলী পাপন (বাঁয়ে), কালো শার্ট পরা মামুন। শুক্রবার কর্ণফুলী থানার চরপাথরঘাটার ছবি-সমকাল
আহমেদ কুতুব ও আকরাম হোসেন রানা, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৩ | ০৯:১২
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে চাঞ্চল্যকর মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত তিন আসামি পুলিশের উঠান বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকটি করা হয়েছে নিহতের বাড়ির সামনে। থানা পুলিশের দায়িত্বহীন এ কাণ্ডে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খুনের আসামিদের সঙ্গে পুলিশের বিশেষ সখ্যের কারণে মামলার বাদী শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কর্ণফুলী থানার ৮৯ নম্বর বিট পুলিশিং কমিটি এক সভার আয়োজন করে। মঞ্চে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চার্জশিটভুক্ত আসামি আজগর আলী পাপন, মোহাম্মদ রাশেদ রানা ও হোসাইন মামুন। এর মধ্যে পাপন ৬ নম্বর আসামি।
কর্ণফুলীর ইছানগর গ্রামে বিট পুলিশিংয়ের সচেতনতামূলক সভায় সিএমপির কর্ণফুলী জোনের সহকারী কমিশনার আরিফ হোসেন, কর্ণফুলী থানার ওসি (তদন্ত) মেহেদী হাসান এবং সংশ্লিষ্ট বিট পুলিশিং ইনচার্জ ও এসআই আবদুর রাজ্জাক উপস্থিত ছিলেন।
তাদের সঙ্গে একই মঞ্চে বসেন এক দশক আগে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর মহিউদ্দীন হত্যাকাণ্ডের তিন আসামি। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী জোবায়ের রিফাত লিখেছেন, দিনদুপুরে নৃশংসভাবে কুপিয়ে মহিউদ্দীনকে হত্যা করা হয়। সেই মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিরা কী করে পুলিশের অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে মঞ্চে বসতে পারেন?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলী থানার ওসি (তদন্ত) মেহেদী হাসান সমকালকে বলেন, আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা কাউকে অপরাধী হিসেবে মূল্যায়ন করতে পারি না। তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি নেই। সে ক্ষেত্রে তারা যে কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন। তবে পুলিশের এ কর্মকর্তা দাবি করেন, আগে থেকে ওই ব্যক্তিদের তিনি চিনতেন না। চিনলে তিনি তাদের মঞ্চে বসতে দিতেন না। মঞ্চে চার্জশিটভুক্ত ব্যক্তিদের বসার দায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে কর্ণফুলী জোনের সহকারী কমিশনার আরিফ হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও পাওয়া যায়নি। সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী বলেন, সাধারণ মানুষের শেষ ভরসাস্থল পুলিশ। সমাজের ভালো, স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন মানুষদের এ ধরনের সভায় অতিথি করার কথা। সেখানে খুনের মামলার আসামিদের মঞ্চে বসানো খুবই দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এটা সমাজের জন্য অশনিসংকেত। এতে মামলার সাক্ষীরা আদালতে প্রকৃত সাক্ষ্য দিতে ভয় পাবেন।
নিহত মহিউদ্দিনের ছোট ভাই সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আসামিরা এমনিতেই রাজনৈতিক ছত্রছায়া থেকে প্রতিনিয়ত আমাদের পরিবার ও সাক্ষীদের ওপর চাপ দিচ্ছে। সাক্ষীদের মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এখন পুলিশ মাদকবিরোধী সমাবেশে তাদের অতিথি করায় সাক্ষীরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ছে।
মামলার বাদী মহিউদ্দিনের স্ত্রী ছেনোয়ারা বেগম বলেন, পুলিশের সঙ্গে আসামিদের এত সখ্যতা কীসের! এতে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পিপি সিরাজুল মোস্তফা মাহমুদ বলেন, চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাটি বর্তমানে চট্টগ্রাম দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ আদালতে দীর্ঘদিন বিচারক শূন্য থাকায় মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। ৪৫ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র একজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর কর্ণফুলী ডক এলাকায় ইছানগর গ্রামের বাসিন্দা মহিউদ্দিনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ২০১৫ সালে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
- বিষয় :
- খুনের আসামি
- উঠান বৈঠক
- বিশেষ অতিথি
