কফিশপের রশিদের সূত্র ধরে ছবি শনাক্ত, মেলেনি মরদেহের পরিচয়
ছবি শনাক্ত করা গেলেও পাওয়া যায়নি যুবকের পরিচয়
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৩ | ১৪:৪৭ | আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২৩ | ১৪:৪৮
মরদেহ উদ্ধারের সময় পকেটে পাওয়া যায় রেস্টুরেন্টের একটি বিলের কপি। সেই বিলের কপির সূত্র ধরে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি কোন যুবকের তা শনাক্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। কিন্তু অর্ধগলিত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার করায় তার আঙুলের ছাপ নিতে না পারায় পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
গত ২০ আগস্ট ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহ নিয়ে তদন্তে নেমে যুবকের ছবি শনাক্ত করা গেলেও পরিচয় পাচ্ছে না পিবিআই। নিহতের পকেটে ময়মনসিংহগামী একটি ট্রেনের টিকেট পাওয়ায় পুলিশের ধারণা- ময়মনসিংহের দিকেই আসছিলেন যুবক। তিনি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীও হতে পারেন।
গত ২০ আগস্ট ২৫ বছর বয়সী ওই যুবকের মরদেহ ভেসে থাকতে দেখলে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ভৈরব নৌ-পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়। উদ্ধারের সময় নিহতের পরনে কালো রংয়ের চেক হাফ শার্ট ও কালো গ্যাবার্ডিন প্যান্ট এবং পায়ে সাদা বর্ডারযুক্ত কালো জুতা ছিল। এ নিয়ে গফরগাঁও থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়।
যুবকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি নিয়ে ছায়াতদন্ত শুরু করে পিবিআই। মরদেহ উদ্ধারের সময় পকেটে পাওয়া রাজধানীর ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোডের গেণ্ডারিয়া জিন্স নামের একটি কফি শপের দাম পরিশোধের রশিদ পাওয়া যায়। কফি শপের রশিদে দেখা যায়, গত ১২ আগস্ট রাত ১০টা ২৯ মিনিটে ৭৭০ টাকার বিল পরিশোধ করা হয়েছিল। এক হাজার টাকার নোট দিয়ে বিল পরিশোধ করে যুবকটি। কফি শপে প্রবেশ করার সময় কাঁধে ব্যাগ ছিলো। কফি শপের সেই রশিদের সূত্র ধরে কফি শপের সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পিবিআই। সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের ছবির সঙ্গে এক যুবকের পোশাকের মিল পেয়ে তার ছবি শনাক্ত করে। কিন্তু ছবির যুবকের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের সময় নিহতের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হলেও তা থেকেও কোনো তথ্য পায়নি পুলিশ।
সিসিটিভির ফুটেজে কফি শপে যুবকের কাঁধে একটি ব্যাগ দেখা গেলেও মরদেহ উদ্ধারের সময় সেই ব্যাগটি পায়নি পুলিশ। ওই সময় বিমানবন্দর থেকে ময়মনসিংহগামী বলাকা কমিউটার ট্রেনের একটি টিকেট পাওয়া যায় নিহতের পকেটে। তাতে কোনো তারিখ উল্লেখ ছিলো না। পুলিশ ধারণা করছে, নিহত যুবক কোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হতে পারেন। সেই কারণে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিহতের ছবি পাঠিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই জানিয়েছে, নিহতের সঙ্গে থাকা ফোনটিতে কোনো সিম ছিলো না। ফোন থেকে পাওয়া দুটি আইএমইআই নম্বর যাচাই করে দেখা যায়, গত এক বছরে কোনো সিম ব্যবহার করা হয়নি। ফোনটির গ্যালারিতেও কোনো ছবি বা কিছুই পাওয়া যায়নি। তার পরেও ফোনটি ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের কাছে মরদেহটি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ১২ আগস্ট রাতে ‘হত্যাকাণ্ডের’ শিকার হয় যুবকটি। ২০ আগস্ট মরদেহ উদ্ধারের সময় অর্ধগলিত অবস্থা দেখে ৭/৮ দিন আগের বলে মনে হয়েছিল আইনশৃংখলা বাহিনীর কাছে। কিন্তু গলিত অবস্থায় থাকায় সুরতহালে কোনো আলামত পায়নি পুলিশ।
পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, পকেটে থাকা রশিদ থেকে ছবি শনাক্ত হওয়া গেলেও নানাভাবে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। তিনি বলেন, সুরতহাল থেকে মৃত্যুর কোনো ক্লু মেলেনি। হাত-পা বাঁধা থাকায় এমন কিছুও বুঝা যায়নি। ফলে মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে রহস্য রয়েছে।
- বিষয় :
- মরদেহ উদ্ধার
- বিলের কপি
- পরিচয় শনাক্ত
- ছবি শনাক্ত
