সিলেট নগরীতে হঠাৎ বেড়েছে পথশিশু
ফয়সল আহমদ বাবলু, সিলেট
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:০০
সিলেট নগরীর মোড়ে মোড়ে বেড়ে গেছে পথশিশু। ১৫-২০ জন দলবেঁধে রাতে ঘুমাচ্ছে বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, শপিংমল ও দোকানের সামনে। এসব শিশু নেশায় আসক্ত। নেশার টাকা জোগাড়ে জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধে।
সরেজমিন নগরীর জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, চৌহাট্টা, দর্শনদেউড়ি, আম্বরখানা, রিকাবীবাজার, মদিনা মার্কেট, টিলাগড়, সুরমা মার্কেট, কোর্ট পয়েন্ট, শেখঘাট, উপশহর, ধোপাদিঘীরপাড়, শাহি ঈদগাহ, কাজীরবাজার ব্রিজ, শাহজালাল সেতু, কোর্ট পয়েন্টের ওভার ব্রিজ, নবাব রোড, মেডিকেলসহ বিভিন্ন স্থানে সকাল-বিকেল পথশিশুদের একটি পলিথিন হাতে ঘুরতে দেখা যায়। আলাপ করে জানা গেল, দলবেঁধে তারা ঘুরে বেড়ায় এবং পলিথিনের ভেতর থাকা আইকা বা ড্যান্ডির মাধ্যমে নেশা করে।
সকালে আবর্জনার স্তূপ থেকে প্লাস্টিক, কাচের বোতল, লোহাসহ বিভিন্ন জিনিস কুড়িয়ে বিক্রি করে। কেউ কেউ বিকেলে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ভিক্ষা করে। সারাদিন এসব করে যে টাকা হাতে পায়, তা দিয়ে ড্যান্ডি কেনে। চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও নাম আসছে অনেকের।
কিন ব্রিজের নিচে পথশিশু রানা, মনোজ, মিন্টু, মোহন, বিপুল ও সাগরের সঙ্গে কথা হয়। তাদের বেশির ভাগের মুখে ছিল পলিথিন। কেউ কেউ ঝিমুচ্ছে। পলিথিনের মধ্যকার ঘ্রাণ নিলে নাকি মনে কোনো দুঃখ থাকে না, ক্ষুধাও লাগে না বলে জানায়। তবে দোকানিরা আইকা বিক্রি করতে চান না। এ জন্য পথশিশুরা রিকশাচালকের মাধ্যমে ৪০ থেকে ৬০ টাকায় একটি আইকা কেনে। পরে সবাই মিলে সেটি সেবন করে।
চৌহাট্টা এলাকায় পথশিশু নাদিম জানায়, বাবার নাম তার মনে নেই। মা রেজিয়া বাসায় কাজ করেন। মাঝেমধ্যে মায়ের সঙ্গে দেখা হয়। দ্বিতীয় বিয়ে করায় মা এখন তেমন খোঁজ নেন না। দিনভর আবর্জনা থেকে প্লাস্টিক কুড়িয়ে ভাঙাড়ির দোকানে বিক্রি করে যে টাকা হয়, তা দিয়ে আইকা কেনে। কেউ খাবার কিনে দিলে খায়, না হলে উপোস থাকে বলে জানায় নাদিম।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারা বেগম জানান, হঠাৎ পথশিশু বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনিও লক্ষ্য করেছেন। এদের পুনর্বাসনে রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে। না হলে এসব শিশু একদিন সমাজের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।
পথশিশুদের সঠিক পরিসংখ্যান দিতে পারেননি সিলেট সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুর রফিক। তবে তিনি জানান, রাষ্ট্রের একার পক্ষে পথশিশুদের দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয়। সামাজিক সংগঠনসহ সচেতন মহলকে এগিয়ে আসতে হবে। সবাই মিলে পুনর্বাসনে শক্তিশালী উদ্যোগ নিতে হবে।সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ বলেন, শিশু অধিকার আইনে শাস্তির তেমন ব্যবস্থা না থাকায় পথশিশুরা সহজেই বিপথগামী হচ্ছে। মাদকসহ অপরাধে জড়ানো ঠেকাতে পুলিশ নজরদারি করছে। ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সের শিশুরা সাধারণত গাঁজা, সিগারেট, গাম সেবন করে। তবে বেশি আসক্ত ড্যান্ডিতে। সুশীল সমাজ, এনজিও, সমাজসেবা অধিদপ্তরের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় পথশিশুদের সুপথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
