ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

চাল আনতে গিয়ে মারধরের শিকার রিকশাচালক

চাল আনতে গিয়ে মারধরের শিকার রিকশাচালক
×

মারধরের শিকার রিক্সা চালক- সমকাল

রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২০ | ০৯:০৭ | আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২০ | ০৯:৪১

ঝালকাঠির রাজাপুরে দরিদ্রের জন্য সরকারি বরাদ্দের চাল আনতে গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সদস্যের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন এক রিকশাচালক।

রোববার উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে। তবে সাতুরিয়ার দক্ষিণ তারাবুনিয়া গ্রামের বিএ পাশ রিকশাচালক হানিফ বিশ্বাস (৫২) ওরফে দুলালকে মারধরের কথা অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সাতুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাচ্চু।

করোনা পরিস্থিতে স্ত্রী ও দুই সন্তান ছেলে নিয়ে খাদ্য সংকটে পড়ে সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে চাল আনতে যাওয়া হানিফ বিশ্বাস দুলাল জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দেয়ায় ঘরে খাবার না থাকায় পুলিশকে জানানা তিনি। পুলিশ ইউনিয়ন পরিষদে গিয়া থানার কথা বলে চাল নিতে বলেন তাকে। তিনি সে অনুযায়ী সকালে চাল আনতে গেলে সাতুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান জানান- তার জন্য কোনও বরাদ্দ নেই। পরে বরাদ্দ আসলে দেয়া হবে।

রিক্সাচালক হানিফ বিশ্বাস দুলাল জানান, এক পর্যায়ে সিদ্দিক চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন- তুই জয়ীতা হেলেনাকে রিক্সায় টানো কেন, তুই কিছু পাবি না। তখন তিনি বলেন- 'আমি তো টাকার বিনিময়ে রিক্সায় সবাইকে রিক্সায় টানি’, এটা দোষের কি’ আমরা তো পেটের দায়ে রিক্সা চালাই।

তিনি জানান, এসব কথা নিয়ে চেয়ারম্যান ও রিক্সা চালকের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে ওই সময় উপস্থিত ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাচ্চু 'চেয়ারম্যানের মুখে মুখে কথা বলার সাহস কই পেলে' একথা বলেই পিঠে ও বুকে কিল ঘুষি মারতে মারতে গায়ের জামা ছিড়ে নেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। 

এ ঘটনার পর তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। পর তিনি ইউএনও ও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযুক্ত সাতুরিয়া ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাচ্চু মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, সকালে ত্রাণের চাল ইউনিয়ন পরিষদে ঢোকানোর সময় ওই রিক্সা চালক তার রিক্সা পরিষদের গেটের মধ্যে রাখেন। তাকে সরে যেতে বললে এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন তাকে ধাওয়া দেন। এরপর রিক্সা ফেলে চলে যান। তাকে মারধর করা হয়নি।

সাতুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান দাবি করে জানান, ওই রিক্সা চালকের নাম ত্রাণের তালিকায় নেই, তাই তাকে চাল দেয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তী বরাদ্দে যদি আসে তবে
পাবে। এছাড়া ওই রিক্সা চালক তার ভাইয়ের ঘরের পাশে বাথরুম নির্মাণ করায় ওই বিষয়ে জানতে চাইলে কথাকাটাটি হয়েছে, তাকে মারধররের অভিযোগ সত্য নয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহাগ হাওলাদার জানান, ওই ব্যক্তির ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ পেয়ে তা খতিয়ে দেখার জন্য পিআইওকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

রাজাপুর থানার ওসি জানান, এ ধরনের কোন ঘটনার অভিযোগ পাইনি, পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঝালকাঠির সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (রাজাপুর সার্কেল) সাখাওয়াত হোসেন জানান, মারধরের ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন

×