বিপত্তিতে রিফর্ম ইউকের নাইজেল ফারাজ
ভেঙে যেতে পারে যুক্তরাজ্য, প্রস্তুত হচ্ছে কেল্টিক দেশগুলো
রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ। ছবি-সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬ | ০০:০৪
যুক্তরাজ্যের ডানপন্থি দল রিফর্ম ইউকের নাইজেল ফারাজের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ উঠেছে। অর্থ জালিয়াতিতে দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তির কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন তিনি। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এক এমপি নতুন ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন স্ট্যান্ডার্ডস কমিশনের কাছে। অভিবাসনবিরোধী রিফর্ম পার্টি এ মুহূর্তে জরিপে এগিয়ে রয়েছে যুক্তরাজ্যে।
ফারাজের বিরুদ্ধে আগে থেকেই পার্লামেন্টের এক কমিটির তদন্ত চলছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ৫০ লাখ পাউন্ড অনুদান নিয়েছেন থাইল্যান্ডভিত্তিক ক্রিপ্টোকারেন্সি শতকোটিপতি ক্রিস্টোফার হারবোনের কাছ থেকে।
সানডে টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অনুদান ছাড়াও ফারাজ আরেক ক্রিপ্টো উদ্যোক্তার কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। ওই ক্রিপ্টো উদ্যোক্তার নাম জর্জ কটরেল। তিনি ফারাজকে নিরাপত্তা, গাড়িচালক, কর্মী ও আবাসনের খরচ জুগিয়েছিলেন। বড় ম্যানশন ভাড়া করে দিয়েছিলেন বাকিংহ্যাম প্যালেসের খুব কাছেই। এগুলো হয়েছিল ফারাজ পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে।
মূলত ফারাজ এই আর্থিক সুবিধার কথা প্রকাশ না করে সংসদীয় নিয়ম ভেঙেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিফর্ম ইউকের নেতা এরই মধ্যে বলেছেন, কটরেল তাঁকে এক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য অর্থ দিয়েছিলেন।
রিফর্মের রাজনীতিবিদ রবার্ট জেনরিক বলেছেন, এক পুরোনো বন্ধু ফারাজের কর্মী ও নিরাপত্তার খরচ দিয়েছিলেন। আর যে বাড়িটি ভাড়া করা হয়েছিল, সেটিতে ফারাজ থেকেছেন অল্প সময়, মাঝে মাঝে। তিনি দাবি করেন, কোনো নিয়মই ভাঙা হয়নি।
লিবারেল ডেমোক্র্যাট এমপি জশ বাবারিনডে সামাজিক মাধ্যম এক্সের মাধ্যমে জানান, তিনি ফারাজের বিরুদ্ধে তদন্তের আহ্বান জানিয়ে পার্লামেন্টারি কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন। বিরোধীদলীয় এমপি লিখেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।
ফারাজ ও রিফর্ম ইউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি ওই বিষয়টি প্রকাশ করেননি, কারণ এটি ব্যক্তিগত উপহার ছিল। প্রসঙ্গত, মে মাসে ইংল্যান্ডে স্থানীয় নির্বাচনে রিফর্ম ইউকে ব্যাপকভাবে জয়ের দেখা পেয়েছিল।
এদিকে রিফর্ম ইউকে দলের নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সেই সঙ্গে দলটির নেতা নাইজেল ফারাজের উত্থান আয়ারল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের মতো কেল্টিক জাতিগুলোকে এক অভূতপূর্ব ও বড় সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে– ভেঙে যেতে পারে যুক্তরাজ্য। ‘একদা-অভাবনীয়’ এই আশঙ্কা মাথায় রেখে আগাম রণকৌশল সাজাতে শুরু করেছেন এসব ‘কেল্টিক’ দেশের নেতারা।
আগামী নির্বাচনে যদি রিফর্ম ইউকে জয়লাভ করে, আর নাইজেল ফারাজ যদি প্রধানমন্ত্রী বা বিরোধীদলীয় নেতা হন, তাহলে সাংবিধানিক সংকটে পড়বে দেশটি। এই আশঙ্কায় এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন যুক্তরাজ্যকে টিকিয়ে রাখতে চাওয়া ইউনিয়নপন্থি ও ভাঙনকামী জাতীয়তাবাদী উভয় পক্ষের রাজনীতিবিদরা।
- বিষয় :
- যুক্তরাজ্য
