ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

বিভিন্ন স্থানে ‌‌‘নারায়ণগঞ্জ’ আতঙ্ক

বিভিন্ন স্থানে ‌‌‘নারায়ণগঞ্জ’ আতঙ্ক
×

ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২০ | ১০:২০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘নারায়ণগঞ্জ’ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ ফেরত কর্মজীবী মানুষ যেসব এলাকায় ফিরছেন, সেখানেই ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস। করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই সব এলাকার মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে নিজ বাড়ি, মহল্লা ও গ্রাম লকডাউন করে রাখছেন। কারণ নারায়ণগঞ্জ ফেরতরা এলাকায় হাটবাজারসহ ইচ্ছামতো ঘুরছেন। মানছেন না হোম কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম। তারা যাদের সংস্পর্শে আসছেন, তারাও রয়েছেন ঝুঁকিতে।

অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জে করোনা রোগী বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ছে। আর এর মধ্যে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকেও প্রতিদিনই মানুষের স্রোত আসছে। ভোরবেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল কিছুটা শিথিল থাকে। এই সুযোগে ভোরবেলায় ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে পিকআপ আর সিএনজি চালিত অটোরিকশায় মানুষ এসে জেলা শহর এবং শহরতলির বিভিন্ন স্থানে নেমে যার যার এলাকায় চলে যান। শহরের নিউটাউন এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তাদের এলাকার পাশে করগাঁও বাসস্ট্যান্ডে খুব সকাল বেলায় সিএনজি অটোরিকশা যোগে এসে লোকজন নামে। ফলে অনেক সময় এলাকাবাসীও টের পান না তাদের এলাকায় নতুন কারা ঢুকেছেন। আর নতুন যারা আসেন, তারা স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টিনেও থাকেন না। যে কারণে কিশোরগঞ্জে ঝুঁকি বেড়েই চলছে। কিশোরগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য জুয়েল বলেন, প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা লোকজনই কমিউনিটিতে করোনা ছড়িয়েছেন।

কুড়িগ্রাম ও নাগেশ্বরী: দেশের বিভিন্ন জেলার কর্মস্থল থেকে কুড়িগ্রামে স্রোতের মতো মানুষ ফিরে আসছেন। ১১ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ফিরে আসা মানুষের মধ্যে পাঁচ হাজার ৮৭৭ জনের তালিকা তৈরি করতে পেরেছে পুলিশ। গণপরিবহন বন্ধ এবং কড়া নজরদারি থাকা সত্ত্বেও ঢাকা, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বাস, ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, নৌকাসহ বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে ফিরে আসছেন তারা। এমনকি রংপুরে নেমে ৫০ কিলোমিটার পথ হেঁটে এসেছেন কেউ কেউ। তাদের মধ্যে অনেকে করোনাভাইরাস সংক্রমিত এলাকাগুলো থেকে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। কেননা জেলায় এ পর্যন্ত যে দু'জনের নমুনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছে, তার মধ্যে ঢাকার সাভার থেকে ফিরে আসা এক কিশোর এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে ফিরে আসা এক যুবক রয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন কারখানা কর্তৃপক্ষ গাড়ির ব্যবস্থা করে অনেককে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে।

এ ছাড়া গত ১৪ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে ট্রাকে চড়ে আসেন দুই শিশু ও তিন নারীসহ ৬২ জন। নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার ও কচাকাঁটা ইউনিয়নের অধিবাসী এই ৬২ জনকে কচাকাঁটা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সতর্কতামূলক সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আমতলী (বরগুনা): উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের কালিবাড়ী গ্রামের সেকান্দার মৃধার ছেলে জাকির হোসেন মৃধা গত ১০ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জে কাপড়ের ব্যবসা করেন। নারায়ণগঞ্জে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় জাকির ও তার পরিবারের লোকজন গত ১২ এপ্রিল পালিয়ে গ্রামের বাড়ি বরগুনার আমতলী আসেন। করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে তিনি বাড়িতেই লুকিয়ে ছিলেন। তার শরীরের অবস্থা বেগতিক দেখে পরিবারের লোকজন গত বুধবার আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপে চিকিৎসা নিতে আসেন। ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় আইইডিসিআরে পাঠিয়ে দেন। গত শনিবার রাতে তার রিপোর্ট আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপে আসে। এতে তার করোনা পজিটিভ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রোববার সকালে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়। পরে আক্রান্তের বাড়ি লকডাউন করে দেয় প্রশাসন।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা পারভীন বলেন, ওই রোগীর বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। তাকে বাড়িতে চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে মানুষ একের পর এক আসে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে। এরপর থেকে কুলিয়ারচরে করোনা ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্তদের বেশির ভাগ নারায়ণগঞ্জ থেকে আসায় কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ‘নারায়ণগঞ্জ’ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গত চারদিনের ব্যবধানে কুলিয়ারচরে সাতজনের শরীরে করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. ওমর খসরু বলেন, আক্রান্ত এলাকা থেকে ব্যাপক হারে এ এলাকায় লোকজন প্রবেশ করেছেন। তারাই আতঙ্কের কারণ হয়েছেন।

গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা): ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের কর্মস্থল থেকে হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন কৌশলে গোবিন্দগঞ্জে নিজ গ্রামে ফিরে আসছেন। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে করোনা সংক্রমণের আতঙ্ক বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত শনিবার উপজেলার মিরেরপাড়ার নারায়ণগঞ্জ ফেরত এক ব্যক্তির দেহে করোনাভাইরাস পজিটিভ হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার রাখালবুরুজ ইউনিয়নের একটি গ্রামে ঢাকা ফেরত একটি পরিবারের শিশুকন্যা জ্বর ও সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

আরও পড়ুন

×